বাংলাদেশ ও বিশ্বপরিচয়

বাংলাদেশের সামাজিক সমস্যা | বাংলাদেশ ও বিশ্বপরিচয় | অষ্টম শ্রেনি

বাংলাদেশের সামাজিক সমস্যা | দমশ অধ্যায় | বাংলাদেশ ও বিশ্বপরিচয় | অষ্টম শ্রেনি

অভিন্ন লক্ষ্য ও সার্থকে কেন্দ্র করে নির্দিষ্ট কোন ভৌগলিক এলাকায় সঙ্ঘবদ্ধভাবে  বসবাসরত জনসমাবেশকেই  সমাজ বলে।

সমাজ কাকে বলে?

আমরা সবাই সামজে একত্রে বসবাস করি৷ সামাজিক সমস্যা হলো সমাজে বিরাজিত একটি অবস্থা, যা জনগণের উপর ক্ষতিকর প্রভাব বিস্তার করে। তার সাথে উক্ত অবস্থার থেকে পরিত্রাণের জন্য কিছু সংখক ব্যক্তি বা ব্যক্তিবর্গ সম্মিলিতভাবে প্রচেষ্টা চালায়।  বাংলাদেশে নানা সামাজিক সমস্যা রয়েছে। তার মধ্যে অন্যতম হলো কিশোর অপরাধ ও মাদকাসক্তি ।  এ দুটি বড় সমস্যা।  বর্তমানে এ দুটি সমস্যা সবার জন্যই উদ্বেগের বিষয় হয়ে দাঁড়িয়েছে। তো শিক্ষার্থী বন্ধুরা আমরা আজকে আলোচনা করবো তোমাদের বাংলাদেশ ও বিশ্ব পরিচয় বইয়ের খুবই গুরুত্বপূর্ণ একটি অধ্যায় “বাংলাদেশের সামাজিক সমস্যা” নিয়ে। আশা করি তোমরা সম্পূর্ণ পাঠ আলোচনা মনযোগ সহকারে পড়বে এবং অনেককিছু শিখার চেষ্টা করবে। চলো শুরু করা যাক-

 

কিশোর অপরাধের ধারণা ও কারণ

অপ্রাপ্তবয়স্ক ছেলেমেয়ে বা কিশোরদের দ্বারা সংগঠিত বিভিন্ন ধরনের অপরাধকেই বলা হয় কিশোর অপরাধ।  কোন বয়স পর্যন্ত অপরাধীকে কিশোর অপরাধী বলা হবে তা নিয়ে অবশ্য বিভিন্ন দেশের সমাজবিজ্ঞানী ও আইনবিদদের মধ্যে মতপার্থক্য রয়েছে। বাংলাদেশ, ভারত ও শ্রীলঙ্কায় ৭ থেকে ১৬ বছর বয়সী কিশোরদের অপরাধমূলক কাজকে কিশোর অপরাধ বলা হয়। অন্যদিকে পাকিস্তান ও থাইল্যান্ডে কিশোর অপরাধীর বয়সসীমা ৭ থেকে ১৮ বছর। আর জাপানে এ বয়সসীমা ১৪ থেকে ২০ বছর। কিশোর বয়সে এরা রাষ্ট্র ও সমাজের আইন ও নিয়ম ভাঙে বলেই তারা কিশোর অপরাধী ।

কিশোর অপরাধ কাকে বলে?

সামাজিক সমস্যার কারণ

সামাজিক সমস্যা গুলো কি কি?

বাংলাদেশ ও বিশ্বপরিচয় ৮ম শ্রেণি প্রশ্ন উত্তর

যেসব কাজ কিশোর অপরাধের পর্যায়ে পড়ে সেগুলো হচ্ছে চুরি, খুন, জুয়া খেলা, স্কুল পালানো, বাড়ি থেকে পালানো, পরীক্ষায় নকল করা, বিদ্যালয় ও পথেঘাটে উচ্ছৃঙ্খল আচরণ, পকেটমারা, রপিট করা, বোমাবাজি, গাড়ি ভাংচুর, বিনা টিকিটে ভ্রমণ, পথেঘাটে মেয়েদের উত্যক্ত করা, সড নিক্ষেপ, নারী নির্যাতন, অশোভন ছবি দেখা, মাদক গ্রহণ ইত্যাদি। আমাদের দেশের শোর অপরাধীরা সাধারণত এসব অপরাধের সঙ্গে জড়িত থাকে ।

শিশু-কিশোররা নানা কারণে অপরাধী হয়ে উঠে। আমাদের দেশে কিশোর অপরাধের অন্যতম প্রধান কারণ দারিদ্র্য। দরিদ্র পরিবারের কিশোরদের অনেক সাধ বা ইচ্ছাই অপূর্ণ থেকে যায়। এর ফলে তাদের মধ্যে বাড়ে হতাশা এবং এ হতাশাই তাদের অপরাধের দিকে ঠেলে দেয়। সুস্থ পারিবারিক জীবন ও সুষ্ঠু সামাজিক পরিবেশের অভাবেও শিশু-কিশোররা অপরাধী হয়ে উঠতে পারে। বাড়ির বাইরে বা কর্মস্থলে অতি ব্যস্ততার কারণে পিতামাতার পক্ষে তাঁদের সন্তানদের যথেষ্ট সময় বা মনোযোগ দিতে না পারা, আদর-যত্নের অভাব, পিতামাতার অকাল মৃত্যু বা বিবাহবিচ্ছেদ, এমনকি অভিভাবকদের অতিরিক্ত শাসনের কারণেও অনেক কিশোর অপরাধী হয়ে উঠে। পিতামাতার মধ্যকার জটিল দাম্পত্য সম্পর্ক ও তাঁদের খারাপ আচরণও অনেক সময় কিশোর- কিশোরীদের অপরাধ প্রবণ করে তোলে। সংসারত্যাগী, অপরাধী, দুশ্চরিত্র এবং অযোগ্য ও উদাসীন পিতামাতার সন্তানরাও পরিবারে অসংযত আচরণ করে এবং পরে অপরাধী হিসাবে বেড়ে উঠে।

কিশোর অপরাধ দমনে পরিবারের ভূমিকা কি?

কিশোর অপরাধ প্রতিরোধে করণীয় কি?

কিশোর অপরাধের শাস্তি কি কি?

চিত্তবিনোদনের অভাবের কারণেও অনেক কিশোর-কিশোরী অপরাধী হয়ে উঠে। ছোটবেলা থেকেই খেলাধুলা, সংগীত, ছবি আঁকা, শরীর চর্চা ও বিভিন্ন ধরনের সাংস্কৃতিক কার্যাবলির সঙ্গে জড়িত শিশু- কিশোররা সাধারণত আনন্দময় পরিবেশে সুস্থভাবে বেড়ে উঠে। অন্যদিকে যারা এসবের সুযোগ পায় না তারা মানসিক অস্থিরতা থেকে মুক্তির অন্য পথ খোঁজে। তারাই পরে নানা রকম অপরাধের সঙ্গে জড়িয়ে পড়ে।

শহরের বিভিন্ন এলাকায় ও শিল্পাঞ্চলে বস্তি রয়েছে। বস্তির পরিবেশ ও সেখানকার নানা খারাপ অভিজ্ঞতা শিশু-কিশোরদের অপরাধী করে তোলে। সঙ্গদোষে এবং অভাবের তাড়নায়ও বস্তির শিশু-কিশোররা অপরাধের সঙ্গে জড়িয়ে পড়ে। দরিদ্র পরিবারের শিশু-কিশোররা অল্পবয়সেই নানা রকম কাজ করে টাকা উপার্জন করতে বাধ্য হয়। অর্থ উপার্জন করতে গিয়ে বা লোভে পড়েও তারা অনেক সময় অপরাধের দিকে ঝুঁকে পড়ে।

শারীরিক-মানসিক ত্রুটি বা বৈকল্য শিশুমনে হীনমন্যতার জন্ম দেয়। এর ফলেও অনেকে অপরাধী হতে পারে। আবার বেশি রকম আবেগপ্রবণ বা প্রতিভাবান শিশু-কিশোররাও অনেক সময় অপরাধী হয়ে উঠে। কারণ এ ধরনের শিশু-কিশোরদের মানসিক গঠন সাধারণের চেয়ে জটিল হয়। তারাও তাদের প্রতিভা বিকাশের উপযুক্ত পরিবেশের অভাবে অপরাধী হয়ে উঠতে পারে।

যেসব পিতামাতা বারবার কর্মস্থল পরিবর্তন করেন তাঁদের সন্তানরা নতুন নতুন পরিবেশের সঙ্গে খাপ খাইয়ে নিতে পারে না। সঙ্গী বা বন্ধু নির্বাচনে তাদের সমস্যা হয়। এভাবে সঙ্গদোষেও কেউ কেউ অপরাধী হতে পারে। বর্তমানে মোবাইল ও ইন্টারনেটের অপব্যবহারের ফলেও সমাজে এক ধরনের কিশোর অপরাধ দেখা যাচ্ছে।

কিশোর আদালত বলতে কি বোঝায়?

কিশোর অপরাধের প্রধান চারটি প্রকার কি কি?

অপরাধী কাকে বলেশিশুর বয়স কত থেকে কত?

কিশোর অপরাধের কারণ কী?
কিশোর অপরাধের প্রভাব ও প্রতিরোধ

বাংলাদেশে কিশোররা সাধারণত যেসব অপরাধ করে তার মধ্যে রয়েছে চুরি, পকেটমার, বিনা টিকিটে রেলভ্রমণ; মানুষ, দোকানপাট, বাড়িঘর ও যানবাহনের উপর হামলা, ভাঙচুর, অগ্নিসংযোগ ও অন্যান্য নাশকতামূলক কাজ এবং মেয়েদের উত্যক্ত করা প্রভৃতি। এছাড়াও কিশোর অপরাধীরা অনেক সময় দলবেঁধে ডাকাতি এবং ব্যবসায়ীদের কাছ থেকে জোরপূর্বক চাঁদা আদায় করে থাকে। কখনো কখনো তারা খুন পর্যন্ত করে। যে পরিবারে এ রকম কিশোর অপরাধী আছে তাদের পারিবারিক শান্তি বিনষ্ট হয়। কখনো কখনো বাংলাদেশের শহর ও গ্রামাঞ্চল সর্বত্র কিশোর অপরাধীদের দ্বারা মেয়েদের উত্যক্ত করার ঘটনা ঘটে। তারা মেয়েদের প্রতি অশ্লীল ও অশোভন উক্তি করে। এদের কারণে মেয়েরা নিরাপদে স্কুল-কলেজ ও মাদরাসায় যাতায়াত করতে পারে না। বখাটে কিশোরদের অন্যায় প্রস্তাবে সাড়া না দিলে তারা মেয়েদের অপহরণ, শারীরিক নির্যাতন বা তাদের উপর এসিড নিক্ষেপ করে। প্রতিবাদ করতে গিয়ে অনেক সময় অভিভাবকরাও তাদের আক্রমণের শিকার হয়। এসব বখাটের উৎপাতে কখনো কখনো ছাত্রীদের পড়ালেখা বন্ধ হয়ে যায়। কিশোর অপরাধীরা অনেক সময় মাদকাসক্তি ও অন্যান্য খারাপ অভ্যাসের সঙ্গে জড়িত থাকে ।

কিশোর অপরাধের প্রভাব ও প্রতিরোধ কি?

কিশোর অপরাধ প্রতিরোধে করণীয় কি 

বাংলাদেশে কিশোর অপরাধের কারণ সমূহ কি কি?

কিশোর অপরাধ বৃদ্ধির কারণ কি?

প্রতিরোধের উপায়

বাংলাদেশে কিশোর অপরাধ প্রবণতা দিন দিন বেড়ে যাচ্ছে। এ সমস্যার প্রতিরোধে নিম্নোক্ত পদক্ষেপ গ্রহণ করা প্রয়োজন :

অভিভাবক সচেতনতা ও দায়িত্ব

কিশোরদের অপরাধ প্রবণতার ধরন, তার কারণ ও প্রতিকার সম্পর্কে পিতামাতা ও পরিবারের বয়োজ্যেষ্ঠরা যদি সচেতন থাকেন তবে তাঁরা সহজেই কিশোরদের অপরাধ থেকে দূরে রাখতে বা সে পথ থেকে সরিয়ে আনতে পারবেন। এজন্য পরিবারে সন্তানদের সুস্থ মানসিক বিকাশের উপযুক্ত পরিবেশ সৃষ্টি করতে হবে। তাদের চলাফেরার উপর নজর রাখতে হবে। তাদের বন্ধু ও সাথিদের সম্পর্কে খোঁজ-খবর রাখতে হবে। সন্তানদের সঙ্গে সহজ ও স্বাভাবিক সম্পর্ক গড়ে তুলতে হবে ।

আর্থ-সামাজিক কর্মসূচি

কিশোরদের অপরাধ প্রবণতার একটি প্রধান কারণ পরিবারের দারিদ্র্য। সেজন্য অভিভাবকদের জন্য কর্মসংস্থানের সুযোগ সৃষ্টি ও পরিবারের আর্থিক অবস্থার উন্নতি ঘটাতে হবে। এ ব্যাপারে সরকার এবং বিভিন্ন বেসরকারি সংস্থাকে এগিয়ে আসতে হবে।

শিক্ষার সুযোগ

সকল শিশু-কিশোরকে প্রাতিষ্ঠানিক শিক্ষার আওতায় আনতে হবে। এতে তারা একদিকে শিক্ষার প্রভাবে সুস্থ ও সুন্দর জীবন-যাপনে আগ্রহী হবে। অন্যদিকে শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের পরিবেশ তাদেরকে অপরাধ থেকে দূরে রাখবে।

চিত্তবিনোদন

শিশু-কিশোরদের মানসিক বিকাশের জন্য পাড়া ও মহল্লায় পাঠাগার, ব্যায়ামাগার প্রভৃতি স্থাপন করা প্রয়োজন । এছাড়া বিদ্যালয়, মাদ্রাসা ও আবাসিক এলাকায় খেলার মাঠ থাকতে হবে।

উল্লিখিত কার্যক্রম ছাড়াও শিশু-কিশোরদের সব রকম খারাপ কাজ থেকে দূরে রাখতে হবে। এজন্য টেলিভিশনে ও অন্যান্য মাধ্যমে তাদেরকে জ্ঞান-বিজ্ঞান ও তথ্যমূলক এবং সুস্থ আনন্দদায়ক দেশি ও বিদেশি শিক্ষামূলক অনুষ্ঠান দেখানোর ব্যবস্থা করতে হবে। অশোভন ছবি প্রদর্শন এবং প্রকাশনা সম্পূর্ণভাবে বন্ধ করে দিতে হবে। শিশুশ্রম নিষিদ্ধ করতে হবে। শিশু-কিশোররা যেন খারাপ সংস্পর্শে না পড়ে সে ব্যাপারে তাদের নিজেদের যেমন সতর্ক থাকতে হবে, তেমনি অভিভাবকদেরও এ ব্যাপারে সব সময় সজাগ দৃষ্টি রাখতে হবে ।

কিশোর অপরাধের কারণ কি কি?

কিশোর বয়স সীমা কত?

উপরোক্ত  পাঠ আলোচনা থেকে কি শিখলে তা যাচাই কর:

প্রশ্ন-১। বাংলাদেশে কিশোর অপরাধের প্রধান কারণ কী?

উত্তর : দারিদ্র্যতা।

প্রশ্ন-২। শিক্ষা মানুষের কোন ধরনের অধিকার?

উত্তর : সামাজিক।

প্রশ্ন-৩। বাংলাদেশ, ভারত, শ্রীলঙ্কায় কিশোর অপরাধের বয়সসীমা কত?

উত্তর : ৭-১৬বছর।

প্রশ্ন-৪। বস্তির শিশু-কিশোরেরা কেন অপরাধের দিকে ঝুঁকে পড়ে?

উত্তর: সুস্থ পরিবেশের অভাবে।

প্রশ্ন-৫। বখাটেরা প্রায়শই কাদেরকে বিরক্ত করে?

উত্তর: ছাত্রদের।

সৃজনশীল প্রশ্ন ও উত্তর

সৃজনশীল প্রশ্ন সমাধান করে নিজেকে যাচাই করে নাও : 

নিচের উদ্দীপকটি পড়ে প্রশ্ন গুলোর উত্তর দাও :

লতিফ দাখিল অষ্টম শ্রেণির ছাত্র। সে প্রায়ই শেষ দুটো পিরিয়ডে শ্রেণি কার্যক্রমে অনুপস্থিত থাকে। খোঁজ নিয়ে জানা যায় সে। বাসায় না গিয়ে বখাটেদের সাথে আড্ডা দেয়। তার মা-বাবা উভয়ে- চাকরিজীবী হওয়ায় বিষয়টি সম্পর্কে অবগত নয়।

ক. কীসের মাধ্যমে মাদকাসক্তির সূত্রপাত ঘটে?

খ. ‘মাদককে না বলুন’- ব্যাখ্যা কর।

গ. লতফের কর্মকাণ্ড তোমার পাঠ্যবইয়ের কোন সামাজিক সমস্যাকে নির্দেশ করে? ব্যাখ্যা করো ।

ঘ. “পারিবারিক সচেতনতাই পারে লতিফকে সঠিক পথে ফিরিয়ে আনতে।’- বিশ্লেষণ কর।

(ক)

উত্তর : মাদকাসক্ত সঙ্গীদের সাথে মেলামেশার মাধ্যমে মাদকাসক্তির  সূত্রপাত ঘটে ।

(খ)

উত্তর: ‘মাদককে না বলুন’ হলো মাদক প্রতিরোধে জনগণকে উদ্বুদ্ধ করার একটি স্লোগান। নানা অনুষ্ঠানের মাধ্যমে মাদককে না বলুন’ এ প্রতিজ্ঞায় জনগণ বিশেষ করে তরুণদের উদ্বুদ্ধ করতে পারলে তারা মাদক গ্রহণ থেকে বিরত থাকবে। পাশাপাশি এই স্লোগানের মাধ্যমে জনগণের মধ্যে মাদকবিরোধী সচেতনতা সৃষ্টি হবে। ফলে মাদকাসক্তি প্রতিরোধ করা সম্ভব হবে ।

(গ)

উত্তর: লতিফের কর্মকাণ্ড আমার পাঠ্যবইয়ের কিশোর অপরাধ নামক সামাজিক সমস্যাকে নির্দেশ করে ।

অপ্রাপ্তবয়স্ক ছেলেমেয়ে বা কিশোরদের দ্বারা সংঘটিত বিভিন্ন ধরনের অপরাধকেই কিশোর অপরাধ বলা হয়। যেসব কাজ কিশোর অপরাধের পর্যায়ে পড়ে সেগুলো হচ্ছে- চুরি, খুন, জুয়া খেলা, স্কুল পালানো, বাড়ি থেকেলপালানো, পরীক্ষায় নকল করা, বিদ্যালয় ও পথে ঘাটে উচ্ছৃঙ্খল আচরণ, পকেটমার, মারপিট করা, বোমাবাজি, গাড়ি ভাংচুর, বিনা টিকেটে ভ্রমণ, পথে ঘাটে মেয়েদের উত্ত্যক্ত করা, এসিড নিক্ষেপ, নারী নির্যাতন, অশোভন ছবি দেখা, মাদক গ্রহণ ইত্যাদি। আমাদের দেশের কিশোর অপরাধীরা সাধারণত এসব অপরাধের সঙ্গে জড়িত থাকে। উদ্দীপকের লতিফ  দাখিল অষ্টম শ্রেণির ছাত্র। সে অপ্রাপ্তবয়স্ক। সে প্রায়ই শেষ দুটো পিরিয়ডে শ্রেণিতে অনুপস্থিত থাকে এবং বখাটেদের সাথে আড্ডা দেয়। অর্থাৎ লতিফ মাদরাসা পালিয়ে বখাটেদের সাথে আড্ডা দেয়। সুতরাং বলা যায়, লতিফের কর্মকাণ্ড আমার পাঠ্যবইয়ের কিশোর অপরাধকে নির্দেশ করে।

(ঘ)

পারিবারিক সচেতনতাই লতিফকে সঠিক পথে ফিরিয়ে আনতে পারে। উদ্দীপকের লতিফ দাখিল অষ্টম শ্রেণির ছাত্র। সে প্রায়ই মাদরাসা পালিয়ে বখাটেদের সাথে আড্ডা দেয়। অর্থাৎ লতিফ কিশোর অপরাধী এবং তাকে সঠিকপথে ফিরিয়ে আনতে প্রয়োজন পারিবারিক সচেতনতা। কিশোর অপরাধ প্রতিরোধের অন্যতম উপায় হলো পারিবারিক সচেতনতা | কিশোরদের অপরাধ প্রবণতার ধরন, তার কারণ ও প্রতিকার সম্পর্কে পিতামাতা ও পরিবারের বয়োজেষ্ঠ্য যদি সচেতন থাকেন তবে তারা সহজেই কিশোরদের অপরাধ থেকে দূরে রাখতে বা সে পথ থেকে সরিয়ে আনতে পারবেন। এজন্য পরিবারে সন্তানদের মানসিক বিকাশের উপযুক্ত পরিবেশ সৃষ্টি করতে হবে। তাদের চলাফেরার ওপর নজর রাখতে হবে। তাদের বন্ধু ও সাথিদের সম্পর্কে খোজ-খবর রাখতে হবে। সন্তানদের সঙ্গে সহজ ও স্বাভাবিক সম্পর্ক গড়ে তুলতে হবে।

উদ্দীপকের লতিফ কিশোর অপরাধী, তাকে সঠিকপথে ফিরিয়ে আনতে হলে তার মা-বাবাকে সুস্থ মানসিক বিকাশের উপযুক্ত পরিবেশ সৃষ্টি করতে হবে। পাশাপাশি লতিফের চলাফেরার উপর নজর এবং তার বন্ধু ও সাথিদের সম্পর্কে খোঁজখবর নিতে হবে। সেই সাথে লতিফের সাথে তাদের সহজ ও স্বাভাবিক সম্পর্ক গড়ে তুলতে হবে। এতে লতিফের মতো কিশোরদের সঠিক পথে ফিরিয়ে আনা সম্ভব হবে। উপর্যুক্ত আলোচনা থেকে বলা যায়, পারিবারিক সচেতনতাই কিশোর অপরাধী লতিফকে সঠিক পথে ফিরিয়ে আনতে পারে।

তো শিক্ষার্থী বন্ধুরা আমাদের আজকের এই পাঠ আলোচনা এই পর্যন্ত।  আশা করি তোমরা আজকের পাঠ আলোচনা থেকে এই অধ্যায়ের প্রতি ধারণা লাভ করতে সক্ষম হয়েছো এবং তোমরা অনেকগুলো জ্ঞান মূলক ও সৃজনশীল প্রশ্ন সমাধান করে অনেকটা পরীক্ষার প্রস্তুতি গ্রহন করে ফেলোছো৷  আমরা তোমাদেরকে এমন ভাবে পাঠ আলোচনা গুলি বুঝানোর চেষ্টা করি যাতে করে তোমাদের বুজতে কোনরকম অসুবধা না হয়।  যাইহোক,  আবার দেখা হবে নতুন কোন পাঠ আলোচনা।  সে পর্যন্ত সবাই ভালো ও সুস্থ থাকবে এই কামনাই করি।

খোদা হাফেজ!

 

Related Articles

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Back to top button