বাংলাদেশ ও বিশ্বপরিচয়

বাংলাদেশের অর্থনীতি | বাংলাদেশ ও বিশ্ব পরিচয় | অষ্টম শ্রেনি

বিশ্ব মানচিত্রে বাংলাদেশ ছোট্ট একটি দেশ। দেশ হিসিবে ছোট হলেও এদেশের জনসংখ্যা অনেক বেশী।  যা দিন দিন বৃদ্ধি পেয়েই চলছে। তোমরা অবশ্যই জানো অনেক আগে থেকেই বাংলাদেশের অর্থনীতির অনেকাংশই কৃষি নির্ভর।  আর যারা কৃষি কাজ করে তারা  গ্রামে বসবাস করেন। যাদের জীবিকার প্রধান মাধ্যমেই হলো এই কৃষি কাজ। তাছাড়া  বাংলাদেশের অর্থনীতিকে চাঙ্গা করতে কৃষি কাজের পাশাপাশি আরো অনেক ধরনের কাজ করে এদেশের মানুষ-জন তাদের জীবিকা নির্বাহের জন্য করে থাকেন।  যার মধ্যে অন্যতম হলো: তাঁত শিল্প(তাঁতি),  মাছ ধরা(জেলে), মাটি দিয়ে হাড়ি-পাতিল ইত্যাদি তৈরি (কুমার), লোহা দিয়ে নানান জিনিসপত্র তৈরী (যেমন-দা,বটি,কোদাল,কাচি ইত্যাদি)(কামার), এছাড়াও ছোট খাটো ব্যবসা করে অনেকেই জীবন ধারন করেন।

আর বাংলাদেশর শহর অঞ্চলের মানুষ-জন সাধারণত ব্যবসা-বাণিজ্য করেন আর অনেকে চাকরি করেন। আর অনেকেই রয়েছে যারা ছোট ছোট দোকান করেন। কেউ কেউ ভ্যান, রিক্সা,অটো আরো নানান ধরনের গাড়ি চালিয়ে জীবিকা নির্বাহ করেন।  যে যেভাবেই জীবিকা নির্বাহ করুক না কেন তার সব প্রভাব ই বাংলাদেশের অর্থনীতিতে পড়ে।  মানুষের আয়-ব্যায়ের ওপর নির্ধারন করেই এদেশের অর্থনৈতিক পরিবর্তন দেখা দেয়৷ আর এদেশের যে সরকারি এবং বেসরকারি এই দুইধরনের খাতকে নিয়েই এদেশের অর্থনৈতিক জীবনধারা বিকাশিত হচ্ছে । তো শিক্ষার্থী বন্ধুরা আজকে আমরা আলোচনা করবো তোমাদের বাংলাদেশ ও বিশ্ব পরিচয় বইয়ের খুবই গুরুত্বপূর্ণ একটি অধ্যায় বাংলাদেশের অর্থনীতি নিয়ে।  এবং আলোচনা শেষে থাকবে তোমাদের পরীক্ষায় কমন উপযোগী বাছাইকৃত  জ্ঞান মূলক ও সৃজনশীল প্রশ্ন।  আাশা করি তোমরা আজকের আলোচনা থেকে উপকৃত হবে।
মোট দেশজ উৎপাদন (জিডিপি)

একটি দেশের অভ্যন্তরে দেশি বা বিদেশি নাগরিকদের দ্বারা প্রতি বছর উৎপাদিত সকল দ্রব্য ও সেবার মোট আর্থিক মূল্য হচ্ছে মোট দেশজ উৎপাদন (GDP)। জিডিপি হিসাব করা হয় মূলত একটি দেশের সামগ্রিক অর্থনীতির শক্তি বা সামর্থ্য বোঝার জন্য ।

GDP কাকে বলে?

GDP কি?

Q:GDP এর পূর্ণরূপ কি? / What is the meaning of GDP?

A:  Gross Domestic Product -(GDP)

তবে দেশের কোনো ব্যক্তি যদি বিদেশে কাজ করে অথবা কোনো কোম্পানি যদি বিদেশে ব্যবসা করে দেশে টাকা পাঠায় সেই আয় মোট অভ্যন্তরীণ উৎপাদন হিসাবে পরিগণিত হবে না অর্থাৎ জিডিপিতে অন্তর্ভুক্ত হবে না। মূলত জিডিপি হচ্ছে একটি দেশের অভ্যন্তরীণ উৎপাদনের আর্থিক মূল্য ।

মোট জাতীয় উৎপাদন : (জিএনপি)

একটি দেশের নাগরিক নির্দিষ্ট সময়ে (সাধারণত এক বছর) যে সকল দ্রব্য ও সেবা উৎপাদন করে তার মোট আর্থিক মূল্য হচ্ছে মোট জাতীয় উৎপাদন (GNP)। অর্থাৎ একটি দেশের নাগরিক নিজ দেশসহ বিশ্বের যেখানেই চাকরি বা ব্যবসা করুক না কেন যখন তাদের অর্জিত আয় দেশের অর্থনীতিতে যুক্ত হয় তখন তা মোট জাতীয় উৎপাদন হিসাবে বিবেচিত হবে। জিএনপি হিসাব করা হয় একটি দেশের নাগরিকদের অর্থনৈতিক অবদান বোঝার জন্য। যেমন-কোনো ব্যক্তি বা প্রতিষ্ঠান বিদেশে চাকরি বা ব্যবসা করে অর্জিত অর্থের যে পরিমাণ অর্থ বৈধপথে বাংলাদেশে পাঠায় তা বাংলাদেশের মোট জাতীয় উৎপাদনের অংশ হবে।

GNP কাকে বলে?

GNP কি?

Q:জিএনপি বলতে কি বোঝায়?

A: দেশের মোট জাতীয় উৎপাদনকে GNP বলে।

Q: GNP এর পূর্ণরূপ কি?  what is the meaning of GNP?

A: Gross National Product (GNP)

মাথাপিছু আয়

একটি দেশের মোট অভ্যন্তরীণ উৎপাদনের যোগফলকে সেই দেশের মোট জনসংখ্যা দ্বারা ভাগ করলে ‘ মাথাপিছু আয়’ পাওয়া যায়। এর মাধ্যমে একটি দেশের মানুষের সার্বিক জীবনযাত্রার মান নির্ধারণ করা হয় । যে দেশের মাথাপিছু আয় যত বেশি সে দেশের জনগণের জীবনযাত্রার মান তত উন্নত এবং অর্থনীতি তত বেশি সমৃদ্ধ।

মাথাপিছু আয় কি?

মাথাপিছু আয় কাকে বলে?

বাংলাদেশের একজন সবল নাগরিকের মাথাপিছু আয় কত?

বছরের মোট আয় পরিমাণ সংখ্যাকে জনসংখ্যা দ্বারা ভাগ করলে সে বছরের মাথা পিছু আয় বের করা যায়।

এই কয়েকটি পাঠ থেকে কি শিখলে :

নিচের প্রশ্ন গুলি সমাধানের চেষ্টা করে নিজেকে যাচাই করো।

প্রশ্ন-১। বাংলাদেশের বেশীরভাগ মানুষ কোথায় বসবাস করে?

উত্তর : গ্রামে।

প্রশ্ন-২। কোন পেশাটি ব্যাক্তি উদ্যোগের উদাহরণ? 

উত্তর : মুদি দোকানদার।

প্রশ্ন-৩। মানুষ যখন নিজে কিছু করতে পারে তখন সে কীসে পরিনত হয়?

উত্তর : সমাজ ও রাষ্ট্রের সম্পদ ও শক্তিতে।

প্রশ্ন-৪। অদক্ষ মানুষকে শ্রমশক্তি সম্পন্ন করলে কিসে উন্নয়ন  হয়?

উত্তর: মানব সম্পদের উন্নয়ন।

প্রশ্ন-৫। বাংলাদেশের মোট জাতীয় উৎপাদনে কোনটির অবদান সর্বাধিক? 

উত্তর: শিল্প।

 

বাংলাদেশের জাতীয় আয়ে বিভিন্ন খাতের অবদান

বাংলাদেশে জাতীয় আয়ের উৎস হিসাবে আমরা অনেকগুলি খাতের নাম উল্লেখ করতে পারি। যেমন: কৃষি ও বনজ, মৎস্য, শিল্প, খনিজ, বিদ্যুৎ, গ্যাস ও পানি সম্পদ, নির্মাণ শিল্প, পাইকারি ও বিপণন, হোটেল- রেস্তোরা, পরিবহন ও যোগাযোগ, ব্যাংক-বিমা, স্বাস্থ্য, সামাজিক ব্যবসা-বাণিজ্য, শুল্ক প্রভৃতি। বিশেষ নামগুলি নিম্নে উল্লেখ করা হলে:

১। কৃষি ও বনজ

২। মৎস্য খাত

৩। শিল্প খাত

৪। পাইকারি ও খুচরা বানিজ্য

৫। পরিবহন ও যোগাযোগ

৬। স্বাস্থ্য ও সেবা খাত

খাত গুলের গুরুত্ব : এককভাবে ধরলে আমাদের মোট জাতীয় উৎপাদনে কৃষির অবদানই সর্বাধিক। তবে শিল্পের ভূমিকাও দিন দিন গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছে। এছাড়া সেবা খাতসমূহও দেশের অর্থনীতিতে বিরাট অবদান রাখছে। বর্তমান বিশ্ব প্রযুক্তি-নির্ভর। কৃষি, শিল্প, যোগাযোগ, সেবা প্রভৃতি খাতের উন্নয়নে প্রযুক্তির বিকাশকে কাজে লাগিয়ে আমরা সহজেই আমাদের জাতীয় উন্নয়নকে ত্বরান্বিত ও জাতীয় আয় বৃদ্ধি করতে পারি। সুষ্ঠু পরিকল্পনার মাধ্যমে বিভিন্ন খাতের উন্নয়নের মধ্যে সমন্বয় ও আয়ের ভারসাম্য রাখা গেলে জনগণের জীবনমানের উন্নয়নেও তা সহায়ক হবে।

মানব সম্পদ উন্নয়ন

মানুষ তখনই রাষ্ট্র ও সমাজের সম্পদে পরিণত হয় যখন সে কিছু করতে পারে। কেউ শারীরিক শ্রম দিয়ে রাষ্ট্র ও সমাজের জন্য সম্পদ তৈরিতে সহায়তা করে আবার কেউ মেধা দিয়ে নতুন নতুন সম্পদ উদ্ভাবন করে সহায়তা করে থাকে। দেশের কৃষি, শিল্প বা সেবাখাতে উৎপাদন বৃদ্ধির কাজে যারা শ্রম ও মেধা দিয়ে কাজ করেন তারা নিজেদেরকে শ্রমশক্তিতে রূপান্তরিত করেন । শ্রমশক্তি সম্পন্ন মানুষকেই দেশের মানব সম্পদ বলা হয়। প্রতিটি অদক্ষ মানুষকে শ্রমশক্তি সম্পন্ন বা মানব সম্পদে পরিণত করাই হচ্ছে মানব সম্পদের উন্নয়ন। উপযুক্ত শিক্ষা, প্রশিক্ষণ, বাসস্থান, চিকিৎসা ও খাদ্যের সংস্থানের মাধ্যমেই মানব সম্পদের উন্নয়ন ঘটানো সম্ভব। কোনো অদক্ষ মানুষ নয়, কেবলমাত্র দক্ষ মানুষই দেশের অর্থনৈতিক উন্নয়নে অবদান রাখতে পারে। সুতরাং দেশের সকল মানুষকে তাদের যোগ্যতা অনুযায়ী শিক্ষার মাধ্যমে জ্ঞান লাভের সুযোগ সৃষ্টি করতে হবে। শিক্ষার মাধ্যমে প্রয়োজনীয় দক্ষতা সৃষ্টি করতে হবে। দক্ষতা অনুযায়ী কাজ করার জন্য সুস্বাস্থ্যের ব্যবস্থা করতে হবে। অতএব চাহিদা অনুযায়ী প্রশিক্ষণের মাধ্যমে দক্ষ ও উৎপাদনমুখী সম্পদ হিসাবে গড়ে তোলাই মানব সম্পদের উন্নয়ন ।

মানব সম্পদ উন্নয়ন কি?

মানব সম্পদ উন্নয়ন কিভাবে হয়?

প্রবাসী আয় বা রেমিট্যান্স

প্রবাসী কর্মরত নাগরিকদের স্বদেশে প্রেরিত অর্থকে রেমিটেন্স (Remittance) বলে । বিদেশে কর্মরত শ্রমিক, কর্মচারি ও পেশাজীবীরা তাদের অর্জিত অর্থের একটা অংশ ব্যাংকের মাধ্যমে পরিবারের কাছে পাঠায়। এই অর্থ কেবল তাদের পরিবারের প্রয়োজনই মিটায় না, কিংবা তাদের জীবনযাত্রার মানই বাড়াচ্ছে না, নানা ক্ষেত্রে বিনিয়োগ হয়ে দেশের অর্থনৈতিক উন্নয়নেও গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখছে। বর্তমানে বাংলাদেশের জাতীয় আয়ের একটি বড় অংশ আসছে প্রবাসীদের প্রেরিত রেমিটেন্স থেকে ।

রেমিটেন্স (Remittance) কাকে বলে?

অর্থনীতিতে বিদেশে কর্মরত বাংলাদেশীদের প্রেরিত রেমিটেন্সের প্রভাব

বাংলাদেশের লক্ষ লক্ষ মানুষ বর্তমানে পৃথিবীর বিভিন্ন দেশে কাজ করছে। মধ্যপ্রাচ্যের সৌদি আরব, কুয়েত, কাতার, মিসর, লিবিয়া, মরক্কোসহ অনেক দেশে বাংলাদেশের শ্রমিক ও পেশাজীবীরা কাজ করছেন। একইভাবে নিকট ও দূর প্রাচ্যের মালয়েশিয়া, সিঙ্গাপুর, ব্রুনাই, দক্ষিণ কোরিয়ার মতো দেশগুলোতেও বাংলাদেশের বহু মানুষ নানা পেশায় নিয়োজিত আছে। ইউরোপ, আমেরিকা, অস্ট্রেলিয়া ও আফ্রিকাতেও বহু বাংলাদেশি চাকরি ও ব্যবসাসহ নানা ধরনের কাজ করছেন । বাংলাদেশ জনশক্তি কর্মসংস্থান ও প্রশিক্ষণ ব্যুরোর হিসাব অনুযায়ী ২০১০ সালের মার্চ মাস পর্যন্ত বিদেশে বাংলাদেশের ৫৯ লাখ মানুষ কর্মরত ছিলেন। ২০০৮-২০০৯ অর্থবছরে প্রবাসে কর্মরত বাংলাদেশিদের কাছ থেকে আমাদের প্রাপ্ত রেমিটেন্সের পরিমাণ ছিল ৯৬৮৯ মিলিয়ন মার্কিন ডলার। ২০১২-২০১৩ অর্থবছরে রেমিটেন্সের পরিমাণ ছিল ৮৭২৯ মিলিয়ন মার্কিন ডলার। বিশ্বব্যাংকের হিসাব মতে ২০০৮ সালে বিশ্বের সর্বোচ্চ রেমিটেন্স প্রাপ্ত দেশের মধ্যে বাংলাদেশের অবস্থান ছিল ১২তম। ২০০৯ সালে তা ৮ম স্থানে উন্নীত হয়। এ সময় সার্কভুক্ত দেশগুলোর মধ্যে বাংলাদেশের স্থান ছিল ২য়। বিশ্ব মন্দা পরিস্থিতি সত্ত্বেও ২০০৮-২০০৯ অর্থবছরে বাংলাদেশের অর্থনীতি বড় ধরনের কোনো সংকটের মধ্যে না পড়ার অন্যতম কারণ হচ্ছে প্রবাসীদের পাঠানো বিপুল অঙ্কের রেমিটেন্স। ২০১৫-২০১৬ অর্থবছরের এপ্রিল পর্যন্ত প্রবাসীদের প্রেরিত অর্থের পরিমাণ ১২,২৫৫ মিলিয়ন মার্কিন ডলার।

পাঠ মূল্যায়ন

 

 

প্রশ্ন-১। দেশের মানবসম্পদ কাকে বলা হয়?

উত্তর : শ্রমশক্তি সম্পন্ন মানুষকে।

প্রশ্ন-২। কোনটিকে মানব সম্পদে রূপান্তর করা গেলে দেশের উন্নয়ন ত্বরান্বিত হবে?

উত্তর : জনসংখ্যাকে।

প্রশ্ন-৩। দেশের অনগ্রসর জনগোষ্ঠীর জন্য কোন বিষয়টি নিশ্চিত করতে হবে?

উত্তর : কর্মসংস্থান।

প্রশ্ন-৪। লতিফ স্যানিটারি কাজ শিখে বিদেশে চাকরি করতে যায়, সে কেমন শ্রমিক?

উত্তর: সে একজন দক্ষ শ্রমিক।

প্রশ্ন-৫। মানব সম্পদ উন্নয়নে সরকারকে প্রথমে কোনটি নিশ্চিত করতে হবে?

উত্তর: উন্মুক্ত  শিক্ষা ব্যবস্থা।

প্রশ্ন-৬। HDR এর পূর্ণরূপ কি?

উত্তর : Human Development Report

প্রশ্ন- ৭। মানব উন্নয়ন সূচকে ২০১৪ সালে বাংলাদেশের অবস্থান কততম ছিল?

উত্তর : ১৪২ তম।

 

সৃজনশীল প্রশ্ন ও উত্তর

সৃজনশীল প্রশ্নের সমাধান  করার মাধ্যমে নিজেকে যাচাই কর।

নিচের উদ্দীপকটি পড়ে প্রশ্নগুলোর উত্তর দাও :

গ্রামের এক দরিদ্র পরিবারে জন্ম নেয় হারুন। সে পড়ালেখাও তেমন করেনি, গ্রামের স্কুল থেকে পঞ্চম শ্রেণি পর্যন্ত পড়াশোনা করেছে। বাবা মারা যাওয়ায় সাত সদস্যের পরিবারের খরচ সামলাতে তাকে সাধ্যের অতিরিক্ত পরিশ্রম করতে হয়। অনাহারে অর্ধাহারে শরীর খারাপ হওয়ায় বর্তমানে সে কোথাও কাজ পায় না ।

ক. SDG-এর পূর্ণরূপ কী ?

খ. দেশের অর্থনৈতিক উন্নয়নে রেমিটেন্স কীভাবে ভূমিকা রাখছে? ব্যাখ্যা কর।

গ. আনিসের বর্তমান অবস্থাটি দেশের কোন পরিস্থিতিকে ইঙ্গিত করছে? নিরূপণ কর ।

ঘ. হারুনের মতো যুবকদের মানবসম্পদে পরিণত করতে কী পদক্ষেপ নেয়া প্রয়োজন বলে তুমি মনে কর? সপক্ষে যুক্তি দাও ।

দেখেতো তোমার করা উত্তরের সাথে সঠিক উত্তর মিলে কিনা।  সঠিক উত্তর নিম্নে দেয়া হলো:

(ক)

উত্তর : SDG-এর পূর্ণরূপ হলো  Sustainable Development Goals |

(খ)

উত্তর : জাতীয় আয় বৃদ্ধির মাধ্যমে দেশের অর্থনৈতিক উন্নয়নে রেমিটেন্স বিশেষ ভূমিকা রাখছে ।

বিদেশে কর্মরত শ্রমিক, কর্মচারি ও পেশাজীবীরা তাদের অর্জিত অর্থের একটা অংশ ব্যাংকের মাধ্যমে পরিবারের কাছে পাঠায়। এই অর্থ কেবল তাদের পরিবারের প্রয়োজনই মেটায় না, নানা ক্ষেত্রে বিনিয়োগ হয়ে দেশের অর্থনৈতিক উন্নয়নেও গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখছে। বিশ্বব্যাপী সৃষ্ট মন্দা পরিস্থিতিতেও ২০০৮-২০০৯ অর্থবছরে বাংলাদেশের অর্থনীতি কোনো বড় সংকটে না পড়ার অন্যতম কারণ হচ্ছে প্রবাসীদের পাঠানো বিপুল অঙ্কের অর্থ তথা রেমিটেন্স।

(গ)

উত্তর : হারুনের বর্তমান অবস্থাটি দেশের বেকারত্ব সমস্যা ও দারিদ্র্যের দুষ্টচক্র’ কে ইঙ্গিত করছে।

বাংলাদেশের বিপুল সংখ্যক জনগণের দক্ষতা বৃদ্ধি ও কর্মসংস্থান সৃষ্টি করা অত্যন্ত কঠিন কাজ। দারিদ্র্যের কারণে বেশির ভাগ মানুষ তাদের সন্তানদের শিক্ষা ও খাদ্যের যোগান দিতে পারছে না। ফলে তারা দ্রুত জনশক্তিতে পরিণত হয়ে উঠতে পারছে না এবং যথারীতি বেকারত্ব বাড়ছে। তাছাড়া পর্যাপ্ত খাদ্যের অভাবে দরিদ্র জনগণ দুর্বল স্বাস্থ্যের অধিকারী হয়। এরা কাজ পায় না বা করতে পারে না। ফলে তাদের আয়ও কম হয়। কম আয়ের কারণে এরা পারিবারিক চাহিদা মিটিয়ে বাড়তি অর্থ সঞ্চয় করতে পারে না, ফলে দরিদ্রই থেকে যায়। আবার দুর্বল স্বাস্থ্যের অধিকারী হওয়ায় এরাও ঠিকমতো কাজও করতে পারে না।

উদ্দীপকেও দেখা যাচ্ছে, দরিদ্র পরিবারে জন্ম নেয়া হারুন অল্প পড়াশোনা করেই কাজে যোগদান করে। বাবা মারা যাওয়াতে সাত সদস্যের বিশাল পরিবারের খরচ সামলাতে অতিরিক্ত পরিশ্রম করে সে এক সময় দুর্বল হয়ে যায় এবং কাজও পায় না। তাই বলা যায়, উদ্দীপকে দরিদ্রতা ও বেকারত্ব বিষয়টির সুস্পষ্ট চিত্র ফুটে উঠেছে।

(ঘ)

উত্তর : আমি মনে করি, হারুনের মতো যুবকদের মানবসম্পদে পরিণত করতে হলে যথাযথ প্রশিক্ষণ ও শিক্ষার মাধ্যমে দক্ষ করে তুলতে হবে। শ্রমশক্তি সম্পন্ন মানুষকেই দেশের মানবসম্পদ বলা হয়। মানুষ তখনই রাষ্ট্র বা সমাজের সম্পদে পরিণত হয় যখন সে কিছু করতে পারে। দেশের কৃষি, শিল্প বা সেবাখাতে উৎপাদন বৃদ্ধির কাজে যারা শ্রম ও মেধা দিয়ে কাজ করেন তারা নিজেদেরকে শ্রম শক্তি সম্পন্ন মানুষে রূপান্তরিত করেন । প্রতিটি অদক্ষ মানুষকে উপযুক্ত শিক্ষা, প্রশিক্ষণ, বাসস্থান, চিকিৎসা ও খাদ্যের সংস্থানের মাধ্যমে মানবসম্পদে পরিণত করা সম্ভব। আনিসের মতো বেকার ও দরিদ্র যুবকদের মানবসম্পদে পরিণত করতে হলে আগে তাদের যোগ্যতা অনুযায়ী শিক্ষার মাধ্যমে জ্ঞান লাভের সুযোগ সৃষ্টি করতে হবে। শিক্ষার মাধ্যমে প্রয়োজনীয় দক্ষতা সৃষ্টি করতে হবে । দক্ষতা অনুযায়ী কাজ করার জন্য সুস্বাস্থ্যের ব্যবস্থা করতে হবে। কেননা দুর্বল স্বাস্থ্যের কারণে দক্ষ কেউ কাজে অনুপযুক্ত হতে পারেন । সর্বোপরি, হারুনের মতো দরিদ্র ও বেকার যুবকদেরকে প্রশিক্ষণের মাধ্যমে দক্ষ করে তোলাসহ কর্মসংস্থানের সুযোগ সৃষ্টি করে মানব সম্পদে পরিণত করতে হবে।

 

তো শিক্ষার্থী বন্ধুরা আমাদের আজকের পাঠ আলোচনা এই পর্যন্তই।  আশা করি তোমরা আজকের পাঠ  আলোচনা থেকে উপকৃত হয়েছো এবং অনেক কিছু শিখতে পেরেছো।  তোমার শিখার এবং বুজার মতো করে আমার আলোচনা গুলি লিখি।  যাতে করে তোমরা সহজ ভাবেই সব বুঝতে পারো। যাইহোক,  আবার দেখা হবে অন্য একটি নতুন পাঠ আলোচনায়। সে পর্যন্ত সবাই ভালো ও সুস্থ থাকবে এই কামনাই করি।

খোদা হাফেজ!

Related Articles

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Back to top button