বাংলাদেশ ও বিশ্বপরিচয়

মাদকাসক্তি | বাংলাদেশ ও বিশ্বপরিচয় | অষ্টম শ্রেনি

প্রিয় শিক্ষার্থী বন্ধুরা।  কেমন আছো তোমরা,  আশা করি প্রত্যেকেই অনেক ভালো আছো৷  তোমদের অবশ্যই জানা থাকার কথা এই যে, মাদক হলো আমাদের দেহের জন্য অত্যন্ত ক্ষতিকর একটি জিনিস। যার থেকে আমরা বিন্দু পরিমাণের সুফল তো পাই’ই না বরং এটা মাদক সেবনকারী ব্যক্তির দেহের মারাত্মক ক্ষতি সাধন করে। আর আমরা আজকে এই মাদক,মাদকাসক্তি, মাদকাসক্তির ধারনা,কারন,প্রভাব,প্রতিরোধ,প্রতিকার,এর থেকে বারোবার উপায়,মাদকাসক্ত ব্যক্তির পরিবারের কি করণীয়, মাদক সম্পর্কে আমাদের দেশের আইন ইত্যাদি।   এগুলোই আমাদের আজকের পাঠ আলোচনার মূল বিষয়। তো শিক্ষার্থী বন্ধু আশা করি তোমরা আজকের পাঠ  আলোচনা খুব মনযোগ সহকারে পড়বে এবং এর থেকে কিছু জানার ও শেখার চেষ্টা করবে৷ তো চলো শুরু করা যাক –

 

মাদকাসক্তির ধারণা ও কারণ

মাদকাসক্ত-সঙ্গীদের সাথে মেলামেশার মধ্য দিয়েই প্রধানত মাদকাসক্তির সূত্রপাত ঘটে। মাদকের ক্ষতিকর দিকগুলো সম্পর্কে না জেনেই, কেবল সাময়িক উত্তেজনা লাভের জন্য ও বন্ধুদের প্ররোচনায় কিশোর-কিশোরীরা মাদকদ্রব্য সেবন করে। পরে তা তাদের মরণনেশায় পরিণত হয়। কিশোরমন স্বভাবতই কৌতূহলপ্রবণ । ফলে শুধুমাত্র কৌতূহলের বশেও অনেকে মাদক গ্রহণ করা শুরু করে। পিতা বা বাড়ির অন্য বয়স্কদের পকেট থেকে বিড়ি-সিগারেট চুরি করে শিশু-কিশোররা অনেক সময় তাদের কৌতূহল মিটায়। এই কৌতূহল থেকে একসময় তাদের ধূমপানের অভ্যাস গড়ে উঠে । এই ধূমপান থেকেই তারা পরে অন্যান্য নেশাদ্রব্য যেমন-গাঁজা, ফেনসিডিল, হেরোইন, ইয়াবা প্রভৃতিতে আসক্ত হয়ে পড়ে। বেকারত্ব, নিঃসঙ্গতা, প্রিয়জনের মৃত্যু, প্রেমে ব্যর্থতা, পারিবারিক অশান্তি ইত্যাদি কারণে অনেকের মনে হতাশার সৃষ্টি হয়। আর এই হতাশা থেকে মুক্তি লাভের আশায় প্রথমে বন্ধুবান্ধবের পরামর্শে বা তাদের দেখাদেখি অনেকে মাদকদ্রব্য গ্রহণ করতে শুরু করে। পরে এটা তাদের নেশায় পরিণত হয়। পিতামাতার স্নেহ ও মনোযোগ থেকে বঞ্চিত হয়ে কিংবা পারিবারিক অশান্তি ও ঝগড়াবিবাদ থেকেও অনেক সময় শিশু-কিশোরদের মনে হতাশা জন্ম নেয় । এক পর্যায়ে তারা

মাদকে আসক্ত হয়ে পড়ে। অপসংস্কৃতির প্রভাবও মাদকাসক্তির পিছনে একটি বড় কারণ হিসাবে কাজ করে। চলচ্চিত্র, টিভি চ্যানেল, ইন্টারনেট প্রভৃতির মাধ্যমে আজকাল এক দেশের সংস্কৃতি সহজেই অন্য দেশের সংস্কৃতি ও জনজীবনকে প্রভাবিত করছে। দুই ভিন্ন সংস্কৃতির টানাপোড়নে পড়েও যুব সমাজের একটা অংশ বিভ্রান্ত ও লক্ষ্যভ্রষ্ট হয়ে মাদকে আকৃষ্ট হচ্ছে।

মাদকাসক্তির পারিবারিক কারণ কি?

মাদকাসক্তির প্রভাব কি কি? 

মাদকাসক্তি থেকে মুক্তির উপায় কি?

মাদকাসক্তির কারণ ও প্রতিকারে প্রথম পদক্ষেপ কি

মাদকাসক্তির প্রভাব ও প্রতিরোধ

আমাদের সমাজজীবনে মাদকাসক্তি বর্তমানে একটি ভয়াবহ সমস্যা হিসাবে দেখা দিয়েছে। এটি আমাদের সামাজিক ও নৈতিক জীবনেও মারাত্মক প্রভাব ফেলছে। শারীরিক ক্ষতির মধ্যে একজন মাদক গ্রহণকারীর হৃদরোগ, যক্ষ্মা, ক্যান্সার ও শ্বাসকষ্ট হতে পারে। তার মানসিক স্বাস্থ্যও এর ফলে দুর্বল হয়ে পড়ে। মাদক গ্রহণকারীরা হতাশা ও হীনমন্যতায় ভোগে। নিজেদের ক্ষতি তো এরা করেই, উপরন্তু ভয়, উৎকণ্ঠা ও উত্তেজনার শিকার হয়ে সমাজেও নৈরাজ্য সৃষ্টি করে। পারিবারিক জীবনে মাদকের প্রভাব নানা জটিল সমস্যা সৃষ্টি করে। পুরো পরিবারের সুখ-শান্তিকে নষ্ট করে। যে পরিবারে একজনও মাদকাসক্ত সন্তান থাকে সে পরিবারে ঝগড়াঝাঁটি লেগেই থাকে । প্রতিবেশীদের কাছে ঐ পরিবারের মর্যাদা থাকে না । মাদকের টাকার যোগান দিতে গিয়ে অনেক সময় পরিবারটি একেবারে নিঃস্ব হয়ে যায়। তাছাড়া হত্যা, আত্মহত্যা, বাড়ি থেকে পালানো বা নিরুদ্দেশ হওয়ার মতো ঘটনাও ঘটে। যে দেশে সহজেই মাদক পাওয়া যায় সেখানে চুরি, ডাকাতি, ছিনতাই, রাহাজানি ও হত্যার ঘটনাও বেশি ঘটে। মাদকের প্রভাবে সামাজিক অস্থিরতা ও মূল্যবোধের অবক্ষয় দেখা দেয়। মাদকের হাত থেকে সমাজের মানুষকে রক্ষা করার জন্য তাই মাদকাসক্তি প্রতিরোধ ও মাদক নিয়ন্ত্রণ করতে হবে। এ জন্য নিম্নোক্ত পদক্ষেপ গ্রহণ করা যেতে পারে :

প্রতিরোধমূলক ব্যবস্থা

মাদকাসক্তি রোধে প্রতিরোধমূলক ব্যবস্থাই সবচেয়ে ভালো ও কার্যকর। এ জন্য সমাজে নৈতিক শিক্ষাকে গুরুত্ব দিতে হবে। সন্তানদের ছোটবেলা থেকেই ধর্মীয় ও নৈতিক মূল্যবোধ শেখানোর জন্য অভিভাবক ও পরিবারের বয়োজ্যেষ্ঠ সদস্যদের সচেষ্ট হতে হবে। মোটকথা ধর্মীয় ও নৈতিক শিক্ষার মধ্য দিয়ে ও অন্যান্য উপায়ে মাদক বিরোধী সচেতনতা ও সামাজিক আন্দোলন গড়ে তুলতে হবে ।

স্থানীয় পর্যায়ে মসজিদ এবং মন্দিরসহ সকল ধর্মীয় প্রতিষ্ঠান এবং ক্লাব-সমিতি প্রভৃতি সামাজিক-সাংস্কৃতিক ও ক্রীড়া সংস্থাগুলো নৈতিক শিক্ষার মাধ্যমে মাদকাসক্তি প্রতিরোধে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করতে পারে। নানা অনুষ্ঠানের মাধ্যমে ‘মাদককে না বলুন’-এই প্রতিজ্ঞায় জনগণ বিশেষ করে তরুণদের উদ্বুদ্ধ করতে পারে। এছাড়া সংবাদপত্র, রেডিও, টেলিভিশন, চলচ্চিত্র, পোস্টার, বিলবোর্ড ও লিফলেট ইত্যাদির মাধ্যমেও মাদকাসক্তির বিরুদ্ধে সচেতনতা সৃষ্টি করা যেতে পারে।

সুস্থ চিত্তবিনোদনের ব্যবস্থা করে শিশু-কিশোরদের সেদিকে আকর্ষণ করতে হবে যাতে তারা মাদক গ্রহণ ও অন্যান্য খারাপ অভ্যাসের দিকে ঝুঁকে না পড়ে। একই সঙ্গে অশোভন চলচ্চিত্র প্রচার বন্ধ করা দরকার। এছাড়াও মাদকাসক্তি প্রতিরোধে আমাদের সামনে যে বিদ্যমান আইনি পদক্ষেপগুলো রয়েছে তা গ্রহণ ও বাস্তবায়ন করতে হবে ।

মাদক প্রতিরোধে তরুণ সমাজের দায়িত্ব ও কর্তব্য কি? 

মাদকাসক্তি প্রতিরোধে সমাজের ভূমিকা কি? 

মাদকাসক্তি কিভাবে প্রতিরোধ করা যায়?

মাদকাসক্তি রোধে কী কী ব্যবস্থা নেওয়া যায়?

বাংলাদেশ সরকার কত সালে মাদক বিরোধী সার্ক কনভেনশন স্বাক্ষর করে?

 

মাদকাসক্তি নিয়ন্ত্রণে আইনসমূহ:

বাংলাদেশে বর্তমানে মাদকাসক্তি একটি ভয়াবহ জটিল সমস্যা। বাংলাদেশ সরকার মাদকাসক্তি প্রতিরোধে জাতিসংঘের মাদক নিয়ন্ত্রণের ০৩টি কনভেনশনে স্বাক্ষর করেছে। বাংলাদেশ সরকার ১৯৯০ সালে মাদক বিরোধী সার্ক কনভেনশনেও স্বাক্ষর করেছে।

বাংলাদেশ সরকার তামাকজাত দ্রব্য ব্যবহার (নিয়ন্ত্রণ) সম্পর্কে সর্বশেষ বিধিমালা ২০১৩, প্রণয়ন করে তামাকজাত দ্রব্য পাবলিক প্লেসে এবং পাবলিক পরিবহনে ব্যবহার করলে এর শাস্তির বিধান রেখেছে। বিধিতে বলা হয়েছে, অফিস আদালত, গ্রন্থাগার, লিফট, আচ্ছাদিত কর্মক্ষেত্র, হাসপাতাল ও ক্লিনিক, বিমান বন্দর, নৌবন্দর, সমুদ্রবন্দর, রেলওয়ে স্টেশন, বাস টার্মিনাল, প্রেক্ষাগৃহ, প্রদর্শনী ক্ষেত্র, থিয়েটার হল, বিপনী বিতান, আবদ্ধ রেস্তোরা, পাবলিক টয়লেট, শিশু পার্ক, মেলা, পাবলিক পরিবহনের জন্য অপেক্ষার স্থান এবং প্রয়োজন অনুযায়ী সরকার ঘোষিত স্থান সমূহে ধূমপান দণ্ডনীয় অপরাধ হিসাবে গণ্য হবে। কোনো ব্যক্তি পাবলিক প্লেস ও পাবলিক পরিবহনে ধূমপান করতে পারবেন না। শাস্তির ক্ষেত্রে বলা হয়েছে, ‘এই বিধান কেউ লঙ্ঘন করিলে তিনি অনধিক ৩ শত টাকা অর্থদণ্ডে দণ্ডিত হইবেন এবং

উক্ত ব্যক্তি দ্বিতীয় বা পুনঃ পুনঃ একই ধরনের অপরাধ করিলে তিনি পর্যায়ক্রমিকভাবে উক্ত দণ্ডের বিষণ হারে দণ্ডনীয় হইবেন । ধূমপান ও অন্যান্য নেশাজাতীয় দ্রব্যের উৎপাদন ও বিজ্ঞাপন প্রচার বন্ধ করতে হবে। সরকারি ও

বেসরকারি উদ্যোগে নেশা বা মাদকের ক্ষতিকর প্রভাব সম্পর্কে বিজ্ঞাপনের মাধ্যমে প্রচার চালাতে হবে। মাদক উৎপাদনের সঙ্গে জড়িত শ্রমিকদের জন্য বিকল্প কর্মসংস্থানের ব্যবস্থা করতে হবে। ছাত্রদের সামনে শিক্ষকের ধূমপানকে অপরাধ হিসাবে গণ্য করতে হবে। ঔষধ হিসাবে উৎপাদিত ও ব্যবহৃত মাদকজাতীয় দ্রব্যের বাজার নিয়ন্ত্রণ করতে হবে।

মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ আইন ২০২২ 

মাদক নিয়ন্ত্রণ অধ্যাদেশ কত সালে?

কোন মাদকের জন্য কি সাজা?

সিগারেট কি মাদক?

মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তর এর কাজ কি?

গাজা খাওয়ার শাস্তি কি?

উপরোক্ত পাঠ থেকে কি শিখলে তা যাচাই কর:

পাঠ মূল্যায়ন

প্রশ্ন-১। মাদকাসক্তির বড় কারন কোনটি? 

উত্তর : অপসংস্কৃতি।

প্রশ্ন-২। যারা মাদকাসক্ত তাদের প্রভাবে কারা বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হয়? 

উত্তর : পারিবারের সদস্যরা।

প্রশ্ন-৩। মাদকাসক্তি রোধে কোন ব্যবস্থা সবচেয়ে ভালো ও কার্যকর? 

উত্তর : প্রতিরোধমূলক ব্যবস্থা নেয়া।

প্রশ্ন-৪। বাংলাদেশ সরকার কত সালে মাদকবিরোধী সার্ক কনভেনশনে স্বাক্ষর  করেছেন?

উত্তর: ১৯৯০ সালে।

প্রশ্ন-৫। মাদক গ্রহণকারীদের মানসিক অবস্থা কীরূপ হয়?

উত্তর: বিকারগস্ত থাকে।

 

সৃজনশীল প্রশ্ন ও উত্তর

সৃজনশীল প্রশ্ন সমাধান করে নিজেকে যাচাই করে নাও।

নিচের উদ্দীপকটি পড়ে প্রশ্ন গুলোর উত্তর দাও :

নবম শ্রেণির শিক্ষার্থী রাশেদ ও কাশেম ঘনিষ্ঠ বন্ধু। ইদানিং শেদ প্রায়ই মাদ্রাসায় অনুপস্থিত থাকে, সহপাঠীদের সাথে মারামারি রে এবং পথে-ঘাটে মেয়েদের দেখলে উত্যক্ত করে। অপর দিকে াশেম তার বাবার পকেট থেকে সিগারেট খায়। সম্প্রতি সে কনসিডিল খেয়ে রাস্তায় পড়ে থাকলে বন্ধুরা উদ্ধার করে বাড়ি পৌঁছে দেয়।

ক. জাপানে কিশোর অপরাধীর বয়সসীমা কত?

খ. মানসিক প্রশান্তির অভাবেও অনেক কিশোর অপরাধী হয় — ব্যাখ্যা কর।

গ. উদ্দীপকে রাশেদের কর্মকাণ্ডে বাংলাদেশের কোন সামাজিক সমস্যার প্রতিফলন ঘটেছে? ব্যাখ্যা কর।

ঘ. নৈতিক শিক্ষার প্রসারের মাধ্যমে কাশেমের সমস্যাটির সমাধান সম্ভব—– মতামত দাও।

দেখেতো তোমার করা উত্তরের সাথে সঠিক উত্তর মিলে কিনা।  সঠিক উত্তর নিচে দেয়া হলো :

(ক)

উত্তর: জাপানে কিশোর অপরাধীর বয়সসীমা ১৪ থেকে ২০ বছর।

(খ)

উত্তর: পরিবারের সদস্য এবং সমাজের মানুষের অসংগত আচরণের কারণে অনেক সময় কিশোর-কিশোরীদের মানসিক দিক ক্ষতিগ্রস্ত হয় যা তাদেরকে অপরাধপ্রবণ করে তোলে। তাছাড়া দারিদ্র্যতার কারণে অনেক পরিবারের ছেলেমেয়েদের সব সাধ বা ইচ্ছা পূরণ হয় না ফলে তাদের মধ্যে হতাশা কাজ করে, এই হতাশা তাদের মানসিক দিককে ক্ষতিগ্রস্ত করে ফলে তারা অপরাধপ্রবণ হয়ে ওঠে। এছাড়াও সুষ্ঠু বিনোদনের অভাব, শারীরিক-মানসিক ত্রুটি বা বৈকল্য ইত্যাদির কারণে ছেলেমেয়েরা মানসিক অশান্তিতে ভোগে যা তাদেরকে অপরাধী করে তোলে ।

(গ)

উত্তর : উদ্দীপকে রাশেদের কর্মকাণ্ডে বাংলাদেশের অন্যতম সামাজিক সমস্যা কিশোর অপরাধের প্রতিফলন ঘটেছে।

প্রাপ্তবয়স্ক ছেলেমেয়ে বা কিশোরদের দ্বারা সংঘটিত বিভিন্ন ধরনের অপরাধকেই বলা হয় কিশোর অপরাধ। বাংলাদেশে ৭-১৬ বছর বয়সী কিশোরদের অপরাধমূলক কাজকে কিশোর অপরাধ বলা হয়। যেসব কাজ কিশোর অপরাধের পর্যায় পড়ে সেগুলো হচ্ছে চুরি, খুন, জুয়া খেলা, স্কুল পালানো, পরীক্ষায় নকল করা, বিদ্যালয় বা পথেঘাটে উচ্ছৃঙ্খল আচরণ, পকেটমারা, মারপিট করা, পথেঘাটে মেয়েদের উত্ত্যক্ত করা, মাদক গ্রহণ ইত্যাদি । নবম শ্রেণির শিক্ষার্থী রাশেদ প্রায়ই মাদরাসাতে অনুপস্থিত থাকে, বাংলাদেশ ও বিশ্বপরিচয়

সহপাঠীদের সাথে মারামারি করে, রাস্তায় মেয়েদের উত্যক্ত করে। তার এসব আচরণে কিশোর অপরাধের বৈশিষ্ট্য ফুটে উঠেছে।

(ঘ)

উত্তর : কাশেমের সমস্যাটি হলো মাদকাসন্তি।

মাদকাসক্তি রোধে প্রতিরোধমূলক ব্যবস্থাই সবচেয়ে ভালো ও কার্যকর। এ জন্য সমাজে নৈতিক শিক্ষাকে গুরুত্ব দিতে হবে। সন্তানদের ছোটবেলা থেকেই ধর্মীয় ও নৈতিক মূল্যবোধ শেখানোর জন্য অভিভাবক ও পরিবারের বয়োজ্যেষ্ঠ সদস্যদের সচেষ্ট হতে হবে। মাদকের ক্ষতিকর প্রভাব এবং মাদক সম্পর্কে ধর্মে যে সব বিধিনিষেধ রয়েছে সবাইকে তা জানাতে হবে। মোটকথা ধর্মীয় ও নৈতিক শিক্ষার মধ্য দিয়ে ও অন্যান্য উপায়ে মাদকবিরোধী সচেতনতা ও সামাজিক আন্দোলন গড়ে তুলতে হবে।

উদ্দীপকে কাশেম তার বাবার পকেট থেকে সিগারেট খায়। সম্প্রতি সে ফেনসিডিল খেয়ে রাস্তায় পড়ে থাকলে বন্ধুরা উদ্ধার করে বাড়ি পৌঁছে দেয়। তার এ ধরনের আচরণ মাদকাসক্তি সমস্যাকে ইঙ্গিত করে। আমাদের সমাজ জীবনে বর্তমানে মাদকাসক্তি একটি ভয়াবহ সমস্যা হিসেবে দেখা দিয়েছে। এটি আমাদের সামাজিক ও নৈতিক জীবনেও প্রভাব ফেলেছে। উদ্দীপকের কাশেমও এ সমস্যায় আক্রান্ত। নৈতিক মূল্যবোধ বিকাশের মাধ্যমে কাশেমের এ সমস্যা থেকে পরিত্রাণ পাওয়া সম্ভব।

Related Articles

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Back to top button