বাংলাদেশ ও বিশ্বপরিচয়

বাংলাদেশের সাংস্কৃতিক পরিবর্তন ও উন্নয়ন | বাংলাদেশ ও বিশ্বপরিচয় | অষ্টম শ্রেনী

আসসালামু আলাইকুম শিক্ষার্থী বন্ধুরা।  কেমন আছো তোমরা?  আশা করি সকলে অনেক ভালো আছো৷  তো আমরা আজকে তোমাদের বাংলাদেশ ও বিশ্বপরিচয় বইয়ের বাংলাদেশের সাংস্কৃতিক পরিবর্তন ও উন্নয়ন এই পাঠ নিয়ে আলোচনা করবো।  তো শিক্ষার্থী বন্ধুরা, সাংস্কৃতি বলতে আমরা সাধারণ সমাজের মানুষের জীবন-যাপনের ধারাকে বুজে থাকি। অর্থাৎ সাংস্কৃতি হলো আমাদের জীবনপ্রণালি।  মানুষ তার অস্তিত্বকে টিকিয়ে রাখতে এবং তার মৌলিক প্রয়োজনগুলো পূরনের লক্ষে যা কিছু সৃষ্টি করে তা-ই হলো সংস্কৃতি।

মূলত মানুষের এসব সৃষ্টি বা কাজ দুই ধরনের হয়ে থাকে। একটি  হলো বস্তুগত অপরটি অবস্তুগত।

সংস্কৃতিকেও তাই দুইভাগে ভাগ করা হয়ে থাকে। বস্তুগত সংস্কৃতি ও অবস্থগত সংস্কৃতি।

বস্তুগত সংস্কৃতি হচ্ছে ঘরবাড়ি, তৈজসপত্র, আসবাবপত্র, উৎপাদন হাতিয়ার।

আর অবস্তুগত সংস্কৃতি হচ্ছে ব্যক্তির দক্ষতা, জ্ঞান, চিন্তা-ভাবনা, আচার-ব্যবহার, বিশ্বাস, ধ্যান-ধারণা, সংগীত, সাহিত্য ও শিল্পকলা ইত্যাদি।

সংস্কৃতি পরিবর্তনশীল। আদিকাল হতে সমাজে বসবাসকার মানুষ তার সৃষ্টিকে বিভিন্ন পরিবর্তনের মধ্য দিয়ে আধুনিক সাংস্কৃতিক জীবনে উন্নীত করেন। সংস্কৃতির এই পরিবর্তনে বিভিন্ন উপাদান যেমন প্রভাব বিস্তার করেছে তেমনি সংস্কৃতির উন্নয়নের এসব উপাদান কমবেশি অবদান রেখেছে। আদিম সমাজ ছিল সহজ সরল ও শ্রেণিহীন। হাতিয়ার আবিষ্কারের মধ্য দিয়েই জীবন ও জীবিকা নির্বাহের ক্ষেত্রে প্রথম পরিবর্তন আসে। গাছের ডালপালা ও মুড়িপাথরই ছিল মানুষের প্রথম হাতিয়ার।

পরবর্তীতে মানুষ যখন ভীর, ধনুক, বর্শা ইতাি হাতিয়ার তৈরি করে, তখন এইসব হাতিয়ারের উপর নির্ভর করে তাদের জীবনযাপনের ক্ষেত্রে পরিবর্তন সূচিত হয়। হাঁটি হাঁটি পা পা করে মানুষ হাঁটতে শিখে। এটিকে বলা হয় তার শারীরিক বিকাশ বা উন্নয়ন। তেমনি মানুষের ব্যবহার্য ও ভোগের সামগ্রী এবং চিন্তা চেতনায় যখন পরিবর্তন লক্ষ করা যায় তখন তাকে বলা হয় মানুষের সাংস্কৃতিক উন্নয়ন।

এ পাঠ আলোচনায় আমরা বাংলাদেশের সাংস্কৃতিক পরিবর্তন, উন্নয়ন এবং বাঙালির সংস্কৃতি ও শিল্পকলা সম্পর্কে জানব ।

সাংস্কৃতিক পরিবর্তন ও উন্নয়নের বৈশিষ্ট্য

আমরা উপরে সাংস্কৃতিক পরিবর্তন ও উন্নয়ন সম্পর্কে জেনেছি। এখন সাংস্কৃতিক পরিবর্তন ও উন্নয়নের বৈশিষ্ট্যগুলো সম্পর্কে জানবো-

১. সমাজে সকলের জীবনযাত্রার মানের উন্নতি সাধন, শোষণ ও বৈষম্যের মাত্রা কমানো বা অবসান করা, জ্ঞানবিজ্ঞান ও প্রযুক্তিকে মানব কল্যাণে কাজে লাগানোই উন্নতি বা উন্নয়নের লক্ষ্য। মানুষের জীবনযাত্রার প্রণালি হচ্ছে সংস্কৃতি। জ্ঞানবিজ্ঞান, প্রযুক্তি প্রভৃতির উন্নয়ন সাংস্কৃতিক পরিবর্তনকেই নির্দেশ করে। তাই অনেক সময় সাংস্কৃতিক পরিবর্তন ও উন্নয়নকে সমার্থক মনে হয় । এই সাংস্কৃতিক পরিবর্তনও উন্নয়নের একটি বৈশিষ্ট্য ।

২. বস্তুগত সংস্কৃতি যত দ্রুতগতিতে পরিবর্তন হয় অবস্তুগত সংস্কৃতি তত দ্রুত পরিবর্তন হয় না। ফলে সাংস্কৃতিক পরিবর্তনের এই অসমতা সমাজে সমস্যা তৈরি করে যা সমাজে উন্নয়নের ক্ষেত্রে বাধা হয়ে দাঁড়ায়। সংস্কৃতির পরিবর্তনের এই গতি বা পার্থক্য সাংস্কৃতিক পরিবর্তনের বৈশিষ্ট্য। আর উন্নয়নের গতি বা ধীরগতির উপর নির্ভর করে সংস্কৃতির বিভিন্ন অংশের পরিবর্তনের মাত্রা হচ্ছে উন্নয়নের বৈশিষ্ট্য।

৩. উন্নয়ন মানুষের মৌলিক চাহিদা পূরণের অগ্রাধিকার দেয়। এটি উন্নয়নের একটি বৈশিষ্ট্য। মানুষের মৌলিক চাহিদা পূরণ হলে সমাজের অগ্রগতি ঘটে, উন্নয়ন ত্বরান্বিত হয়। ফলে সমাজে নানা ক্ষেত্রে পরিবর্তন লক্ষ করা যায়। যা সামাজিক পরিবর্তন হিসাবে গণ্য করা হয়। আর সামাজিক পরিবর্তনের মধ্য দিয়ে সাংস্কৃতিক পরিবর্তন ঘটে।

৪. সাংস্কৃতিক পরিবর্তন ও উন্নয়নের একটি বৈশিষ্ট্য হচ্ছে- পরিবর্তন সকল সময় একটি সরলরেখায় ক্রমশ ঊর্ধ্বগতিতে এগিয়ে যায় না। অনেক সময় সাংস্কৃতিক পরিবর্তন নিম্নগতির দিকেও যায়। তাই ঊর্ধ্বগতি ও নিম্নগতি দুটোই পরিবর্তন। একটি ইতিবাচক অন্যটি নেতিবাচক। তবে উন্নয়ন বলতে উর্দ্ধগতি বা ইতিবাচক পরিবর্তনকে বোঝায়। তাই সংস্কৃতির উন্নয়ন হলো সংস্কৃতির ইতিবাচক পরিবর্তন।

৫. সাংস্কৃতিক পরিবর্তন ও উন্নয়ন দুটোই সময়ের মাত্রার মধ্যে সংগঠিত হয়। এটিও পরিবর্তনের একটি বৈশিষ্ট্য। যেমন: পুরাতন পাথর যুগ ও নতুন পাথরের যুগ দুইটি সময়কাল। দুই সময়ের সংস্কৃতিতে পার্থক্যও আছে। এই পার্থক্য সময়ের পরিবর্তনের মাধ্যমে সৃষ্টি হয়েছে। অনেকক্ষেত্রে এই পরিবর্তন পরবর্তী সময়েও ধারাবাহিকভাবে ঘটে থাকে। যেমন পুরাতন পাথর যুগের অনেক হাতিয়ার নতুন পাথর যুগের সময়ে উন্নতি ঘটেছে। এটি হচ্ছে সংস্কৃতির উন্নয়ন তথা সাংস্কৃতিক পরিবর্তন।

এতোটুকু থেকে কি শিখলে যাচাই করে নাও

 

 

প্রশ্ন-১। মানুষের জীবনযাপনের ধারাকে কি বলে?

উত্তর : সংস্কৃতি।

প্রশ্ন-২। কীভাবে সংস্কৃত তার রূপ বদল করে?

উত্তর : অন্য সংস্কৃতির সংস্পর্শে এসে।

প্রশ্ন-৩। একসময় উন্নয়ন বলতে কি বুঝানো হতো?

উত্তর : অর্থনৈতিক অগ্রগতি।

প্রশ্ন-৪। সংস্কৃতির চলমান গতিধারাকে কী বলা হয়?

উত্তর: সাংস্কৃতিক ব্যাপ্তি।

প্রশ্ন-৫। বাংলাদেশে সাংস্কতায়ন প্রবল কেন?

উত্তর: বহুবার বহিরাগত শাসক দ্বারা শাসিত হওয়ায়।

 

 সাংস্কৃতিক পরিবর্তনের কারণ

আমরা জানি সাংস্কৃতি স্হির বিষয় নয়। এটা বিভিন্ন যুগের মানুষে সাথে বিভিন্ন ধরনের পরিবর্তন হতেই থাকবে এবং এটা এভানেই চলমান থাকবে। পৃথিবীর বিভিন্ন জনগোষ্ঠীর সাংস্কৃতিতে ভিন্নতা থাকলেও সেখানে প্রতিনিয়ত সংযোজন ও বিয়োজন চলে। একসময় সাংস্কৃতির পার্থক্য বা পরিবর্তনশীলতার মধ্যে আবার নতুন সংস্কৃতির পরিবর্তন ও উন্নয়ন ঘটে।  সংস্কৃতির এই পরিবর্তনশীলতার কয়েকটি কারন বিদ্যমান।

সাংস্কৃতি পরিবর্তনে কারন গুলে হলো –

১৷ সাংস্কৃতিক ব্যবপ্তি

২। সাংস্কৃতায়ন

৩। সাংস্কৃতিক আত্তীকরণ

৪। সাংস্কৃতিক আদর্শ

৫। প্রযুক্তি ও সংস্কৃতিক উন্নয়ন

বিভিন্ন সাংস্কৃতিক পরিবর্তন :

বর্তমানে বাংলাদেশের মানুষের জীবন আচরণ বা সংস্কৃতিতে ব্যাপক পরিবর্তন লক্ষ করা যায় । একে বলা হয় সাংস্কৃতিক পরিবর্তন। বাংলাদেশের মানুষের মধ্যে পাশ্চাত্য সংস্কৃতির প্রভাব সবচেয়ে বেশি। এছাড়া ধর্মীয় সংস্কৃতি, লোকসংস্কৃতির প্রভাবও একেবারে কম নয় যেমন : পোশাক,খাদ্যাভ্যাস, শিক্ষা, কৃষি, চিকিৎসা, প্রযুক্তি, সংগীত, কলা, দৃষ্টিভঙ্গি, আচরণ,ফ্যাশন ইত্যাদিতে পাশ্চাত্য সংস্কৃতির প্রভাবে অনেক পরিবর্তন এসেছে। যাকে আমাদের সংস্কৃতি থেকে পৃথক করা সম্ভব নয়। বাংলাদেশের গ্রামীণ জীবনে তো বটেই শহরের জীবনেও ইদানিং বিভিন্ন লোক উৎসব, বর্ষবরণ, মেলা ইত্যাদির আধিক্য ও বিভিন্ন লোক সামগ্রীর সম্ভার দেখে এই পরিবর্তন স্পষ্টই চোখে পড়ে। বিশ্বায়নের প্রভাবেও বাংলাদেশের নিজস্ব সংস্কৃতিতে পরিবর্তন লক্ষ করা যাচ্ছে। আগে যেমন যাত্রা, পালাগান, সার্কাস, জারিসারির মাধ্যমে মানুষ বিনোদনের চাহিদা পূরণ করত, বর্তমানে ঘরে বসে ফেসবুক, মিডিয়ার মাধ্যমে সে চাহিদা পূরণ করছে। বিজ্ঞান ও প্রযুক্তির উন্নয়ন সাংস্কৃতিক পরিবর্তনকে ত্বরান্বিত করে। 

বস্তুগত ও অবস্তুগত উভয় সংস্কৃতিতে আমাদের দেশে পরিবর্তন ঘটেছে। তবে এক্ষেত্রে বস্তুগত সংস্কৃতি এগিয়ে আছে। যত দ্রুত আমরা ফ্রিজ, টেলিভিশন গ্রহণ করি ততদ্রুত অন্য দেশের ধ্যান- ধারণা, দৃষ্টিভংগি ও বিলাস সামগ্রী গ্রহণ করতে পারি না। বাংলাদেশে পারিবারিক ব্যবস্থায় বা পারিবারিক সম্পর্কে ব্যাপক পরিবর্তন ঘটেছে। পূর্বের যৌথ পরিবার ভেঙে এখন একক পরিবার গ্রাম শহর উভয় স্থানে গড়ে উঠেছে। যা তাদের আচার-আচরণে ও জীবনযাপন পদ্ধতিতে প্রকাশ পাচ্ছে।

অর্থনীতিতে নারীর অংশ গ্রহণের ফলে পরিবারে নারীর ক্ষমতায়ন, নারীর সমঅধিকার ও নারী স্বাধীনতা বৃদ্ধি পাচ্ছে যা নারী-পুরুষের চিরায়ত সম্পর্কে পরিবর্তন এনেছে। এখন নারী-পুরুষ একত্রে বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানে কাজ করছে।

প্রযুক্তিগত পরিবর্তন আমাদের সংস্কৃতিতে ইতিবাচক পরিবর্তন ঘটাচ্ছে। যার ফলে বাংলাদেশ ডিজিটাল বাংলাদেশে পরিণত হচ্ছে।

বিভিন্ন সাংস্কৃতিক উন্নয়ন :

সংস্কৃতির বস্তুগত ও অবস্তুগত উপাদানের ইতিবাচক বা ঊর্ধ্বমুখী পরিবর্তন সাংস্কৃতিক উন্নয়ন ঘটাচ্ছে । বিশেষ করে প্রযুক্তি এক্ষেত্রে বিপ্লব ঘটিয়েছে। এছাড়া, শিক্ষা, চিকিৎসা, কৃষি, গবেষণা, খেলাধুলা, বিনোদন, রাজনীতি, শিল্প-সাহিত্য, বৈদেশিক সম্পর্ক ও বাণিজ্য, শিল্প-কারখানা, নারী- পুরুষ সম্পর্ক ইত্যাদি ক্ষেত্রেও সাংস্কৃতিক উন্নয়ন ঘটেছে।

কৃষি, শিল্প, চিকিৎসা ও শিক্ষায় উন্নত প্রযুক্তি ব্যবহার করা হচ্ছে। যা বাংলাদেশের মানুষের সংস্কৃতিতে উন্নয়ন বয়ে আনছে। পাশ্চাত্য সংস্কৃতির অনুসরণে আমাদের দেশে বিভিন্ন ব্যাংক, বিমা প্রতিষ্ঠান, হাসপাতাল, রেস্টুরেন্ট, হোটেল, প্রাইভেট বিশ্ববিদ্যালয়, বহুজাতিক কোম্পানি, আধুনিক বিপণী বিতান ইত্যাদির সম্প্রসারণ হয়েছে। ফলে এগুলোকে ঘিরে এক ধরনের সাংস্কৃতিক পরিবেশ তৈরি হয়েছে যা সাংস্কৃতিক উন্নয়ন সাধন করছে। বিশ্বের উন্নত দেশের অনুকরণে প্রচলিত ধারার শিক্ষার সাথে মাল্টিমিডিয়া ব্যবহার করে শিক্ষাকে যুগোপযোগী করার চেষ্টা চলছে। আবার প্রচলিত ধারার শিক্ষার পাশাপাশি দূরশিক্ষণের মাধ্যমে শিক্ষাকে মানুষের কাছাকাছি নিয়ে যাওয়া হয়েছে। আমাদের দেশের শিক্ষাক্ষেত্রে এসব পরিবর্তন মূলত শিক্ষা সংস্কৃতিরই পরিবর্তন। যা শিক্ষার সাংস্কৃতিক উন্নয়ন ঘটিয়েছে।

বাংলাদেশে বিভিন্ন প্রচার মাধ্যম বা প্রাইভেট চ্যানেল প্রতিষ্ঠার ফলে সাংস্কৃতিক বিপ্লব হয়েছে। যার মাধ্যমে সংস্কৃতির বিস্তার ঘটছে দ্রুত এবং জনগণের সচেতনতা বৃদ্ধি পাচ্ছে। ফলে তাদের আচরণে কাঙ্ক্ষিত পরিবর্তন ঘটছে। এটি একটি সাংস্কৃতিক উন্নয়ন ।

পাঠ মূল্যায়ন

নিচের প্রশ্নগুলো সমাধান করে নিজেকে যাচাই করো :

প্রশ্ন-১। বাংলাদেশের নিজস্ব সংস্কৃতিতে পরিবর্তন লক্ষ করা যাচ্ছে কীসের প্রভাবে।

উত্তর : বিশ্বায়নের।

প্রশ্ন-২। সাংস্কৃতিক উন্নয়নের ক্ষেত্রে কোনটি?

উত্তর : প্রযুক্তি।

প্রশ্ন-৩। সাংস্কৃতিক পরিবর্তন ত্বরান্বিত করার জন্য কোনটি জরুরি?

উত্তর : বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি।

প্রশ্ন-৪। সামাজিক পরিবর্তনের মধ্য দিয়ে কোন পরিবর্তন ঘটে?

উত্তর: সাংস্কৃতিক পরিবর্তন।

প্রশ্ন-৫। সাংস্কৃতিক চলমান গতিধারাকে কি বলা হয়?

উত্তর: সাংস্কৃতিক ব্যাপ্তি।

“বাংলাদেশের সাংস্কৃতিক পরিবর্তন ও উন্নয়ন সৃজনশীল প্রশ্ন”

সৃজনশীল প্রশ্ন ও উত্তর

সৃজনশীল প্রশ্নের উত্তর দেওয়া চেষ্টা করো। এখানে এমন প্রশ্ন গুলো দেওয়া হলো যা পরীক্ষায় কমন আসার সম্ভবনা রয়েছে।

প্রশ্ন-১। নিচের উদ্দীপকটি পড়ে প্রশ্নগুলোর উত্তর দাও:

শিমুল ঢাকার যাদুঘরে গিয়ে মাটির তৈরি বিভিন্ন মূর্তি, সূক্ষ কারুকাজ খচিত মাটির ফলক দেখল। তাছাড়া রাজা-রাণীদের ব্যবহৃত বিভিন্ন কাচের ও কাঁসার বাসন, পুতির মালা ও জামা-কাপড় দেখে সারাদিন সময় কাটাল। বাসায় ফিরলে তার চাচা তাকে বলল শুধু এগুলোই নয় প্রাচীনকালে কৃষকরা ধান কাটার সময় জারি-সারি এবং মাঝিরা ভাটিয়ালী গান গাইত। রাজরাজরাও শনত উচ্চাঙ্গ সঙ্গীত।

ক. কোন সমাজে পুঁথি সাহিত্যের ব্যাপক কদর ছিল?

খ. জাতির মননের প্রতীক বলা হয় কোনটিকে? ব্যাখ্যা কর ।

গ. যাদুঘরে শিমুলের দেখা জিনিসগুলো কোন শিল্পের অন্তর্গত? ব্যাখ্যা কর।

ঘ. শিমুলের চাচার কথায় যে শিল্প মাধ্যমটির কথা ফুটে উঠেছে আমাদের সংস্কৃতির বিকাশে সেটির গুরুত্ব বিশ্লেষণ কর ।

দেখোতো তোমার করা উত্তরের সাথে সঠিক উত্তর মিলে কিনা। নিচের সঠিক উত্তর দেয়া হলো:

ক)-উত্তর: মুসলান সমাজে পুঁথি সাহিত্যের ব্যাপক কদর ছিল।

খ)-উত্তর: বাংলা একাডেমিকে জাতির মননের প্রতীক বলা হয়। ১৯৫২ সালের ভাষা আন্দোলনের পটভূমিতে ও ১৯৫৪-এর যুক্তফ্রন্টের নির্বাচনি প্রতীক অনুযায়ী প্রতিষ্ঠিত হয়েছিল বাংলা একাডেমি। বাংলা ভাষা ও সাহিত্যের উন্নতির জন্য কাজ করার কারণে এ প্রতিষ্ঠানটিকে জাতির মননের প্রতীক বলা হয়।

গ)-উত্তর: যাদুঘরে শিমুলের দেখা জিনিসগুলো দৃশ্য শিল্পের অন্তর্গত।

দৃশ্য শিল্পগুলো বেশিরভাগই বস্তুগত শিল্প বা সংস্কৃতি হিসেবে পরিচিত। যার মধ্যে রয়েছে বাঙালির ঐতিহ্যবাহী সুনির্মিত মাটির তৈরি ও বাঁশের তরজার ছাউনিযুক্ত দোচালা, চারচালা, এমনকি আটচালা ঘর, পোড়ামাটির শিল্প বা টেরাকোটা, তালপাতার পুঁথি, বাংলার তাতশিল্প, বাংলার স্থাপত্যশিল্প, বাংলার নকশিকাঁথা, কাঠের কাজ বা কারুশিল্প, শঙ্খের কাজ, বাঁশ-বেত ও শোলার কাজ প্রভৃতি উল্লেখযোগ্য।

শিমুল ঢাকার যাদুঘরে গিয়ে মাটির তৈরি বিভিন্ন মূর্তি, সূক্ষ কারুকাজ খচিত মাটির ফলক, রাজা-রাণীদের ব্যবহৃত বিভিন্ন কাচের ও কাঁসার বাসন, পুতির মালা ও জামা-কাপড় ইত্যাদি দেখতে পায়। শিমুলের দেখা এসবগুলো জিনিসই দৃশ্য শিল্প বা বস্তুগত শিল্পের অন্তর্গত। 

 

ঘ)- উত্তর:  শিমুলের চাচার কথায় যে শিল্প মাধ্যমটির কথা ফুটে উঠেছে সেটি সংগীত শিল্পের অন্তর্গত।

বাংলা চিরকালই সংগীতের দেশ। এখানকার মাঠে-প্রান্তরে কৃষক হাল চাষ করতে করতে যেমন গান বেঁধেছে তেমনি নদী ও খালে নৌকা ৰাইতে বাইতে মাঝিও গলা ছেড়ে গান গেয়েছে। আবার সাধারণ মানুষ তার মতো করে গানের মাধ্যমে আধ্যাত্মিক সাধনা করেছে। কীর্তনগান প্রধানত হিন্দু সমাজে হতো, এখনও হয়। তবে বাউল ও ভাটিয়ালি গান গ্রামের হিন্দু-মুসলমান সকলেই গেয়ে থাকে। মুর্শিদি, পালাগান, বারমাস্যা, ভাওয়াইয়া, গম্ভীরা ইত্যাদি বহু ধরনের আঞ্চলিক লোকগান ছড়িয়ে আছে সারা বাংলা জুড়ে। উত্তর ভারতের সংস্পর্শে এসে হিন্দুস্থানি উচ্চাঙ্গ সঙ্গীতের সাথে বাঙালি সঙ্গীত সাধকদের পরিচয় ঘটে। তার প্রভাবে এখানে নাগরিক সংগীতের বিকাশ ঘটে ।

উদ্দীপকের শিমুলের চাচা শিমুলকে কৃষকদের গাওয়া জারি-সারি আর মাঝিদের গাওয়া ভাটিয়ালি গানের কথা এবং প্রাচীন রাজরাজরাদের উচ্চাঙ্গ সংগীতের কথা জানালেন যার সবই বাংলার প্রাচীনকালের সংগীত সাধনার দৃষ্টান্ত ।

বাঙালি সমৃদ্ধ সংস্কৃতির অধিকারী একটি জাতি। শিল্পের নানা দিক এদেশের সংস্কৃতিকে করেছে বৈচিত্র্যময়। বাঙালি সংস্কৃতির এমনই একটি ধারা হলো সংগীত শিল্প যা উদ্দীপকের শিমুলের চাচার কথা থেকে জানা যায়। আমাদের সংস্কৃতির বিকাশে এই সংগীত শিল্পের গুরুত্ব অপরিসীম।

প্রশ্ন-২। নিচের উদ্দীপকটি পড়ে প্রশ্নগুলোর উত্তর দাও। 

আরিফ উচ্চতর ডিগ্রি অর্জনের জন্য দুই মাস আগে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের একটি বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তি হয়েছে। সেখানকার মানুষের দৃষ্টিভঙ্গি, আচার-আচরণ এবং মূল্যবোধের সাথে সে নিজেকে মানিয়ে নেওয়ার আপ্রাণ চেষ্টা করছে।

ক. ধর্মমঙ্গল কাব্যের রচয়িতা কে?

খ. সাংস্কৃতিক আদর্শ বলতে কী বোঝায়?

গ. উদ্দীপকে সাংস্কৃতিক পরিবর্তনশীলতার কোন কারণটি ফুটে উঠেছে? ব্যাখ্যা করো।

ঘ. তুমি কি মনে কর যে, সাংস্কৃতিক পরিবর্তনশীলতার জন্য কেবল উক্ত কারণটিই সক্রিয়? যৌক্তিক মতামত দাও ।

দেখোতো তোমার করা উত্তরের সাথে সঠিক উত্তর মিলে কিনা।  প্রশ্নগুলোর সঠিক উত্তর নিম্নরূপ:

ক)-উত্তর: ধর্মমঙ্গল কাব্যের রচয়িতা ঘনরাম।

খ)-উত্তর: সাংস্কৃতিক আদর্শ বলতে কোনো দেশ বা সমাজের মানুষের সংস্কৃতিক ধরনকে বোঝায়। প্রতিটি দেশ বা সমাজেরই নিজস্ব সাংস্কৃতিক আদর্শ রয়েছে।এগুলো হলো— আচার-আচরণ, খাদ্য, পোশাক, বিশ্বাস, ধর্মবিশ্বাস, লোককাহিনী, সংগীত, লোকশিল্প ইত্যাদি। কোনো দেশ বা সমাজের সাংস্কৃতিক আদর্শের মাঝে ঐ দেশ বা সমাজের মানুষের জীবনপ্রণালি ও বৈশিষ্ট্য ফুটে ওঠে ।

গ)-উত্তর: উদ্দীপকে সাংস্কৃতিক পরিবর্তনশীলতার অন্যতম কারণ সাংস্কৃতিক আস্তীকরণের দিকটি ফুটে উঠেছে।

সাংস্কৃতিক আতীকরণ এমন একটি প্রক্রিয়া যে প্রক্রিয়ার মাধ্যমে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তি এবং গোষ্ঠী অন্যের সংস্কৃতি আয়ত্ত করে। যখন মানুষ নতুন কোনো পরিবেশে বসবাস করতে শুরু করে তখন সেখানকার মানুষের দৃষ্টিভঙ্গি, আচরণ, চিন্তা-চেতনা, মূল্যবোধ তথা সমগ্র জীবনধারার সাথে সে নিজেকে মানিয়ে নেওয়ার চেষ্টা করে। এভাবে একসময় ঐ সংস্কৃতি তার আয়ত্তে চলে আসে, যাকে সাংস্কৃতিক আত্তীকরণ বলা হয়। যেমন- বিয়ের পরে মেয়েরা শ্বশুরবাড়ির সংস্কৃতির সাথে নিজেকে আত্তীকরণের চেষ্টা করে।

উদ্দীপকের আরিফ মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের মানুষের দৃষ্টিভঙ্গি, আচার-আচরণ এবং মূল্যবোধের সাথে অর্থাৎ সেখানকার মানুষের সংস্কৃতির সাথে নিজেকে মানিয়ে নেওয়ার যথাসাধ্য চেষ্টা করছে। তার এ চেষ্টা সাংস্কৃতিক পরিবর্তনশীলতার অন্যতম কারণ সাংস্কৃতিক আত্তীকরণের সাথে সাদৃশ্যপূর্ণ।

ঘ)-উত্তর: সাংস্কৃতিক পরিবর্তনশীলতার জন্য কেবল সাংস্কৃতিক আত্তীকরণ কারণটিই সক্রিয় বলে আমি মনে করি না।

সাংস্কৃতিক পরিবর্তনশীলতার বহুবিধ কারণ বিদ্যমান। যার মধ্যে অন্যতম হচ্ছে সাংস্কৃতিক ব্যাপ্তি। সংস্কৃতির চলমান গতিধারা এবং এক সমাজ থেকে আরেক সমাজে প্রসার লাভকে সাংস্কৃতিক ব্যাপ্তি বলে। উদাহরণস্বরূপ বলা যায়, উপমহাদেশের মানুষের একসময় চা খাওয়ার অভ্যাস ছিল না। কিন্তু ঔপনিবেশিক সময়ে ইংরেজদের প্রভাবে তাদের মাঝে চা খাওয়ার প্রচলন হয়।

অন্যদিকে সাংস্কৃতায়ন সাংস্কৃতিক পরিবর্তনের আরেকটি কারণ। সাংস্কৃতায়নের উদাহরণ আমাদের ভাষার মাঝে লুকিয়ে আছে। | দীর্ঘসময় বিভিন্ন বহিরাগত শাসকদের অধীনে থাকায় অসংখ্য আরবি, | ফারসি, সংস্কৃত ও ইংরেজি শব্দ আমাদের বাংলা ভাষায় মিশে গেছে। আবার সাংস্কৃতিক আদর্শ পরিবর্তনশীলতার আরও একটি কারণ। এটি | হচ্ছে এক সংস্কৃতি থেকে অন্য সংস্কৃতির পরিবর্তন প্রক্রিয়া। প্রযুক্তির মাধ্যমেও সাংস্কৃতিক পরিবর্তন ঘটছে। এর মাধ্যমে এক সংস্কৃতি অন্য সংস্কৃতির সংস্পর্শে এসে পরিবর্তন ঘটছে সাংস্কৃতিক পরিবর্তনশীলতার উল্লিখিত কারণসমূহ ছাড়াও আরও একটি কারণ রয়েছে।

এটি হলো সাংস্কৃতিক আত্তীকরণ, যা উদ্দীপকে আরিফের মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের সংস্কৃতি আয়ত্ত করার চেষ্টার মাধ্যমে ফুটে উঠেছে। পরিশেষে বলা যায় যে, সাংস্কৃতিক পরিবর্তনশীলতার উল্লিখিত কারণসমূহের মধ্যে কেবলমাত্র সাংস্কৃতিক আত্তীকরণের ইঙ্গিত উদ্দীপকে আছে। কিন্তু সাংস্কৃতিক পরিবর্তনের ক্ষেত্রে সাংস্কৃতিক আত্তীকরণ ছাড়া অন্যান্য আরও কারণ সক্ৰিয় ।

তো শিক্ষার্থী বন্ধুরা, আমাদের আজকে পাঠ আলোচনা এই পর্যন্তই।  আমি আশাবাদী যে তোমরা ওপরের আলোচনা থেকে অনেক কিছু শিখতে পেরেছো এবং অনেকগুলো প্রশ্নের সমাধান পেয়েছে যা তোমাদের উপকারে আসবে।  আবার দেখা হবে নতুন কোন পাঠ আলোচনায়। সে পর্যন্ত সবাই ভালো ও সুস্থ থাকবে এই কামনাই করি।

আল্লাহ হাফেজ!

Related Articles

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Back to top button