বিজ্ঞান সপ্তম শ্রেনী

শক্তির রূপান্তর, শক্তির সংরক্ষণশীলতা,নবায়নযোগ্য শক্তি, অনবায়নযোগ্য শক্তি | বিজ্ঞান | সপ্তম শ্রেনী

তোমরা অবশ্যই জানো মহা বিশ্বে শক্তি বিভিন্ন রূপে বিরাজ করে এবং এই বিভিন্ন রূপ পরস্পর সম্পর্কযুক্ত। আর এই শক্তি যে বিভিন্ন রূপ ধারণ করতে পারে এবং এক শক্তি থেকে যে আরেক শক্তিতে রূপান্তর হতে পারে এইসব বিষয় নিয়েই আজকের এই আলোচনা। আশা করি আজকের আলোচনা পড়ার পরে তোমার এই পাঠ সম্পর্কে সঠিক ও সম্পূর্ন ধারনা লাভ করবে।  এবং তোমাদের পরীক্ষায় উত্তর করতে সক্ষম হবে। চলো এবার আলোচনা শুরু করা যাক।

আগের আলোচনা যারা পড়োনি তারা পরে আসো এক্ষুনি 

যান্ত্রিক শক্তির রূপান্তর

হাত দিয়ে শরীরের অন্য কোনো অংশ ঘষলে গরম অনুভূত হয়।  এতে যান্ত্রিক শক্তি তাপ শক্তিতে রূপান্তরিত হয়।  বাঁশি বাজালে যান্ত্রিক শক্তি শব্দ শক্তিকে রূপান্তিত হয়। এক খন্ড পাথরের উপর একটি ধাতব দন্ড দ্বারা জোরে আঘাত করলে অগ্নিস্ফুলিঙ্গ বের হতে দেখা যায় এবং একধরনের শব্দের ও সৃষ্টি হয়।  ধাতব দন্ড ও পাথর খন্ডটি খানিকটা উত্তপ্ত হয়। এক্ষেত্রে যান্ত্রিক শক্তি তাপ, শব্দ ও আলোক শক্তিতে রূপান্তরিত হয়। ঢেঁকি দিয়ে ধান বানার সময় এতে যান্ত্রিক শক্তি শব্দ ও তাপ শক্তিতে রূপান্তরিত হয়।  একইভাবে দোলনার স্থিতি ও গতিশক্তির রূপান্তর ঘটে থাকে।

 

তাপ শক্তির রূপান্তর

বাষ্পীয় ইঞ্জিনে তাপের সাহায্যে উৎপন্ন শক্তি ব্যবহার করে রেলগাড়ী চালানো হয়।  এখানে তাপ শক্তি যান্ত্রিক শক্তিতে রূপান্তরিত হয়।

 

আলোক শক্তির রূপান্তর

ফটোগ্রাফিক কাগজের উপর আলোর ক্রিয়ার ফলে আলোকশক্তি রাসায়নিক শক্তিতে রূপান্তরিত হয়। সূর্যের আলোকে সোলার প্যানেলের মাধ্যমে বৈদ্যুতিক শক্তিতে পরিণত করা হয়। এছাড়া বিভিন্ন ইলেকট্রনিক যন্ত্রপাতি যেমন পকেট ক্যালকুলেটর, রেডিও ও ইলেকট্রনিক ঘড়িতে সৌর শক্তিকে তড়িৎ শক্তিতে রূপান্তরিত করে ব্যবহার করা হয়।

 

শব্দ শক্তির রূপান্তর

শব্দোত্তর তরঙ্গ দ্বারা জামা কাপড়ের ময়লা পরিষ্কার করা হয়। এসব ক্ষেত্রে শব্দ শক্তি যান্ত্রিক শক্তিতে রূপান্তরিত হয়। অনুনাদের সময় শব্দ শক্তি যান্ত্রিক শক্তিতে রূপান্তরিত হয়। আবার টেলিফোন ও রেডিওর প্রেরক যন্ত্রে শব্দ শক্তিকে বিদ্যুৎ শক্তিতে পরিণত করে।

 

বিদ্যুৎ শক্তির রূপান্তর

লোহাকে দ্রুত ও বারবার চুম্বক এবং বিচুম্বকরনকালে তাপ উৎপন্ন হয়। এতে চৌম্বক শক্তি তাপ শক্তিতে রূপান্তরিত হয়। তাছাড়া তড়িৎ চুম্বকের সাহায্যে ভারী জিনিসপত্র উঠানো যায়। এতে চৌম্বক শক্তি যান্ত্রিক শক্তিতে রূপান্তরিত হয়।

 

চৌম্বক শক্তির রূপান্তর

বৈদ্যুতিক ইস্ত্রিতে বিদ্যুৎ চালনা করলে তাপ উৎপন্ন হয়। এক্ষেত্রে বিদ্যুৎ শক্তি তাপ শক্তিতে রূপান্তরিত হয়। বৈদ্যুতিক পাখার মধ্যদিয়ে বিদ্যুৎ প্রবাহিত করলে পাখা ঘুরতে থাকে। এক্ষেত্রে বিদ্যুৎ শক্তি যান্ত্রিক শক্তিতে রূপান্তরিত হয়। বিদ্যুৎ শক্তি হতে আমরা আলো পাই ।

 

রাসায়নিক শক্তির রূপান্তর

কয়লা পোড়ালে তাপ উৎপন্ন হয়। রাসায়নিক বিক্রিয়ার ফলেও তা ঘটে। এক্ষেত্রে রাসায়নিক শক্তি তাপ শক্তিতে রূপান্তরিত হয়। সাধারণত বিদ্যুৎ কোষে রাসায়নিক দ্রব্যের বিক্রিয়ার ফলে বিদ্যুৎ উৎপন্ন হয়। এক্ষেত্রে রাসায়নিক শক্তি বিদ্যুৎ শক্তিতে রূপান্তরিত হয়। এছাড়া কয়লা, পেট্রোল, কেরোসিন, গ্যাস পুড়িয়ে 2 রাসায়নিক শক্তিকে তাপ ও আলোক শক্তিতে রূপান্তরিত করা হয়।

 

পারমাণবিক শক্তির রূপান্তর

পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্রে পারমাণবিক শক্তিকে বিদ্যুৎ শক্তিতে রূপান্তরিত করা হয়।

 

এ পাঠ থেকে কি শিখলে যাচাই করো

 

প্রশ্ন-১। সৌরশক্তিকে তড়িৎশক্তিতে রূপান্তরিত হওয়ার উদাহরণ কোনট?

উত্তর : ক্যালকুলেটর।

প্রশ্ন-২। রাসায়নিক শক্তিকে বিদুৎশক্তিতে রূপান্তরি করা হয় কোথায়?

উত্তর : পারমানবিক বিদ্যুৎ কেন্দ্রে।

প্রশ্ন-৩। জোয়ার ভাটা শক্তি কাজে লাগিয়ে কোন শক্তিতে রূপান্তর কাজ চলছে?

উত্তর : তড়িৎশক্তি।

প্রশ্ন-৪। পেট্রোল পোড়ানোর মাধ্যমে কোন শক্তি পাওয়া যায়?

উত্তর: তাপ শক্তি।

প্রশ্ন-৫। কোন শক্তি ব্যবহার করে আমরা একে অপরের কথা শুনতে পাই?

উত্তর: শব্দশক্তি।

 

শক্তির সংরক্ষণশীলতা

 

মনে কর তুমি স্কুলের মাঠে দাঁড়িয়ে একটি টেনিস বলকে উপরের দিকে ছুড়ে মারলে।

কী দেখছ?

টেনিস বলটি একটি নির্দিষ্ট উচ্চতায় উঠার পর এটি আবার নিচে নামতে থাকে। এখানে টেনিস বলটি উপরে উঠতে থাকার সময় এর গতিশক্তি কমতে থাকে এবং স্থিতিশক্তি বাড়তে থাকে। যখন এর গতিশক্তি শূন্য হয়ে যায় তখন এটি পুনরায় এর মধ্যে স্থিতিশক্তির কারণে নিচে নামতে থাকে। দেখা যাবে, বস্তু যতই নিচের দিকে নামতে থাকে ততই এর স্থিতিশক্তি কমে গতিশক্তি বাড়তে থাকে এবং স্থিতিশক্তি গতি শক্তিতে পরিণত হয়। টেনিস বলটি যখন মাটি স্পর্শ করে এবং স্থির হয় তখন তার সমস্ত গতিশক্তি ও স্থিতিশক্তি শব্দ, তাপ, আলোক ইত্যাদি শক্তিতে পরিণত হয়। আমরা তাপ বা আলোকের তেমন প্রমাণ বুঝতে না পারলেও বলটি মাটিতে স্পর্শ করায় যে শব্দ উৎপন্ন হয় তা শুনতে পাই। তবে কোন কোনো ক্ষেত্রে টেনিস বলের পরিবর্তে একটি পাথর উপরে ছুড়ে মারলে এটি যদি কোনো মাঠে পড়ে তবে কোনো না কোনো ক্ষেত্রে পাথরটি গরম অনুভূত হতে পারে।

এতক্ষণ তোমরা জেনেছ যে শক্তি কিভাবে একরূপ থেকে অন্যরূপে পরিবর্তিত হয়। তোমাদের মনে একটা প্রশ্ন জাগতেই পারে যে, এই রূপান্তরের সময় শক্তির কি কোনো অপচয় হয় না? বিস্ময়কর হলেও এটা সত্য যে শক্তির রূপান্তরের পূর্বে বা পরে মোট শক্তির পরিমাণ সমান থাকে। প্রকৃতপক্ষে আমরা কোনো নতুন শক্তি সৃষ্টি করতে পারিনা, এমনকি শক্তি ধ্বংস করতেও পারিনা। অর্থাৎ বিশ্বের সামগ্রিক শক্তির কোনো তারতম্য ঘটে না। এই বিশ্ব সৃষ্টির প্রথম মূহূর্তে যে পরিমাণ শক্তি ছিল, বর্তমান। এটাই হলো শক্তির নিত্যতা বা সংরক্ষণশীলতা।

নবায়নযোগ্য শক্তি

 

আমরা বিভিন্ন শক্তির উৎস থেকে শক্তি পাই। এসব শক্তির উৎস দু’ধরনের, নবায়রযোগ্য ও অনবায়নযোগ্য। নবায়নযোগ্য নাম থেকে তোমরা সহজেই বুঝতে পারবে এর অর্থ কী বুঝায়। যা কিছু নবায়ন করা যায়। এক্ষেত্রে কোনো জিনিস ব্যবহার করে শক্তি উৎপাদন করে পুনরায় ঐ জিনিসটি দ্বারা আবার শক্তি উৎপাদন করা যায়। অর্থাৎ যে শক্তির উৎসকে বারবার ব্যবহার করা যায় তাই হলো নবায়নযোগ্য শক্তি। এগুলোর মধ্যে অন্যতম হলো সূর্যরশ্মি, বায়োগ্যাস, পানি, বায়ুপ্রবাহ, পানির জোয়ার ভাটা ইত্যাদি ।

নিম্নে আমরা বায়োগ্যাস, সৌর শক্তি, পানির জোয়ার-ভাটা এবং বায়ুপ্রবাহ হতে নবায়নযোগ্য শক্তির উপাদান সম্পর্কে ধারণা লাভ করব।

বায়োগ্যাস (উদ্ভিজ ও প্রাণীজ)

গরু, ছাগল, ঘোড়া ও মহিষের বিষ্ঠা জ্বালানি হিসাবে বহু প্রাচীনকাল থেকেই ব্যবহৃত হয়ে আসছে। প্রাণীর এসব বিষ্টা শক্তির এক প্রকার উৎস। পৃথিবীর বিভিন্ন দেশে শুকনো গোবর পুড়িয়ে তাপশক্তি উৎপন্ন করা হয়। বায়োগ্যাসে যে সকল উপাদান বা বর্জ্য পদার্থ ব্যবহার করা হয় তার মধ্যে অন্যতম হলো গরু, শূকর এবং মুরগী হতে প্রাপ্ত বর্জ্য, শস্য পরিত্যক্ত উদ্ভিদ ইত্যাদি। এক্ষেত্রে কেবলমাত্র প্রাণিজ বা কেবলমাত্র উদ্ভিদজ উপকরণ অথবা উভয় প্রকারের মিশ্রণও ব্যবহার করতে পার। শূকর বা মুরগি রাখার জায়গা থেকে মলমিশ্রিত যে কাঁচা খড় পাওয়া যায়, সেগুলো বয়োগ্যাস তৈরির উপযুক্ত প্রাণিজ সার ও উদ্ভিজ্জ উপকরণের ভালো মিশ্রণ। তবে এগুলো ব্যবহারের সময় ছোট ছোট টুকরা করে নিতে হবে। এক্ষেত্রে মনে রাখতে হবে আরম্ভ করার সময় ব্যবহারের আগে শুকনো উদ্ভিজ্জ উপকরণগুলো খুব ছোট ছোট করে কেটে অথবা পিষে খোসা বের করে নিতে হয়। আর টাটকা উদ্ভিজ্জগুলো অন্তত দশদিন বাইরে পঁচতে দিতে হবে।

বায়ুপ্রবাহ

আদিম মানুষ ভয় পেত বায়ুপ্রবাহ। সভ্যতার বিকাশ ও বিজ্ঞানের ক্রমবিকাশের ফলে এই বায়ু প্রবাহকে মানুষ বর্তমানে বিভিন্ন কাজে ব্যবহার করছে। আদিম মানুষ চার-পাঁচটা পাখার সাহায্যে চক্র বানিয়ে বাতাসের সাহায্যে চক্র ঘুরাত। চক্রের ঘর্ষণ কাজে লাগিয়ে মানুষ কুয়া থেকে পানি তোলা, কৃষিসেচ, যব অথবা গম ভাঙানো, আখ মাড়াই, ধানকাটা, খড় কাটা ইত্যাদি কাজ করত। পরে মানুষ বাতাসকে কাজে লাগিয়ে কাঠ চেরাইয়ের মত কঠিন কাজও সম্পন্ন করেছে। পৃথিবীর বহু অঞ্চলের মানুষ আগে এ ধরনের কাজে বড় বড় চক্রাকার এক ধরনের যন্ত্র ব্যবহার করত। যা বর্তমানে হাওয়া বা বায়ুকল বা উইন্ডমিল নামে পরিচিত। উইন্ডমিল চালিয়ে বহুদেশে বিদ্যুৎ উৎপাদন করা হচ্ছে।

পানির জোয়ার ভাটা

নদী বা সমুদ্রের পানির জোয়ার-ভাটার শক্তিকে কাজে লাগিয়ে বিভিন্ন যন্ত্র চালনার ব্যাপারটি অনেক আগেই উদ্ভাবিত হয়েছে। কিন্তু জোয়ার-ভাটার শক্তিকে তড়িৎ শক্তিতে রূপান্তরের ব্যাপারটি খুব বেশি। দিনের নয়। বর্তমানে পৃথিবীর বিভিন্ন দেশে জোয়ার-ভাটার শক্তিকে কাজে লাগিয়ে তড়িৎ উৎপাদনের চেষ্টা চলছে।

সৌরশক্তি

সূর্য থেকে যে শক্তি পাওয়া যায় তাকে বলা হয় সৌরশক্তি। আমরা জানি সূর্য সকল শক্তির উৎস। পৃথিবীতে যত শক্তি আছে তার সবই কোনো না কোনোভাবে সূর্য থেকে আসা বা সূর্য কিরণ ব্যবহৃত হয়েই তৈরি হয়েছে। যেমন আধুনিক সভ্যতার ধারক জীবাশ্ব জ্বালানি আসলে বহুদিনের সঞ্চিত সৌরশক্তি।

এছাড়া সৌর শক্তিকে শীতের দেশে ঘরবাড়ি গরম রাখার কাজে ব্যবহার করা হয়। শস্য, মাছ, সবজি ইত্যাদি শুকানোর কাজে সৌরশক্তি ব্যবহৃত হয়। মাছ শুকিয়ে শুটকি তৈরি করে তা বাদিন সরক্ষণ করা যায়। সৌর শক্তি দ্বারা বয়লারে বাষ্প তৈরি করে তার দ্বারা তড়িৎ উৎপাদনের জন্য টার্বাইন ঘুরানো হয়। আধুনিক কৌশল ব্যবহার করে তৈরি হয়েছে সৌরকোষ। সৌরকোষের বৈশিষ্ট্য হলো এর ওপর সূর্যের আলো পড়লে তা থেকে সরাসরি তড়িৎ পাওয়া যায়।  এছাড়া সৌরকোষের রয়েছে নানা রকমের ব্যবহার।  যেমন : কৃত্রিম উপগ্রহ তড়িৎশক্তি সরবরাহের জন্য সৌরকোষ ব্যবহৃত হয়।

অনবায়নযোগ্য শক্তি

অনবায়নযোগ্য মানেই হলো, যে শক্তি একবার ব্যবহার করা হলে তা থেকে পুনরায় শক্তি উৎপন্ন করা যায় না। এটি হলো মূলত প্রাকৃতিক সম্পদ, যা পুনরায় উৎপন্ন করা যায় না। প্রকৃতিতে এদের তৈরি করতে যত সময় লাগে, তার চেয়ে কম সময়ে ব্যয়িত হয়। অনবায়নযোগ্য শক্তির মধ্যে অন্যতম হলো কয়লা, তেল, প্রাকৃতিক গ্যাস, ইউরেনিয়াম ইত্যাদি।

অনবায়নযোগ্য শক্তির সুবিধা

অনবায়নযোগ্য শক্তির সুবিধা মূলত দুটি দিক থেকে বিবেচনা করা হয়-দাম ও প্রাচুর্য। বেশির ভাগ যন্ত্রপাতি বা যানবাহন অনবায়নযোগ্য শক্তির সাহায্যে চলে, এদের নবায়নযোগ্য শক্তির সাহায্যে চালাতে অনেক বেশি খরচ লাগে। যেমন: সাধারণ গ্যাস বা তেলে কম খরচে এসব যানবাহনে বা যন্ত্রপাতি চলে। অপরপক্ষে নবায়নযোগ্য শক্তির উৎস যেমন সৌরশক্তি দ্বারা কোনো যানবাহন চালানো কষ্টসাধ্য ও ব্যয়বহুল। অনবায়নযোগ্য জ্বালানি সস্তা, এদের অল্প পরিমাণ থেকে বেশি শক্তি পাওয়া যায়, যেমন অল্প ইউরেনিয়াম থেকে অনেক বিদ্যুৎ শক্তি পাওয়া যায় ।

 

পাঠ মূল্যায়ন

ওপরের পাঠ থেকে কি শিখলে?  নিজেকে যাচাই কর:

প্রশ্ন-১। কোন সময় নবায়নযোগ্য শক্তি ব্যবহার করা অসুবিধাজনক?

উত্তর : বৃষ্টির দিনে।

প্রশ্ন-২। ঘরবাড়ি গরম রাখার কাজে ব্যবহার করা হয় কোন শক্তি?

উত্তর : সৌরশক্তি।

প্রশ্ন-৩। সৌরশক্তি দ্বারা বয়লারে কী তৈরি করা হয়?

উত্তর : বাষ্প।

প্রশ্ন-৪। ইউরেনিয়াম থেকে কি পাওয়া যায়?

উত্তর: বিদুৎ শক্তি।

প্রশ্ন-৫। ইউরেনিয়াম থেকে কি পরিমাণ বিদুৎ পাওয়া যায়?

উত্তর: প্রচুর পরিমাণে।

উক্ত পাঠগুলো থেকে বাছাইকৃত সংক্ষিপ্ত প্রশ্ন গুলি সমাধানের মাধ্যমে নিজেকে যাচাই করে নাও

 

প্রশ্ন-১। অনবায়নযোগ্য শক্তির সুবিধা কীভাবে পাওয়া যায় ?

উত্তর : অনবায়নযোগ্য শক্তির সুবিধা মূলত দুটি দিক থেকে বিবেচনা করা হয় । দাম ও প্রাচুর্যতা। বেশিরভাগ যন্ত্রপাতি বা যানবাহন যেগুলো অনবায়নযোগ্য শক্তির সাহায্যে চলে । এদের নবায়নযোগ্য শক্তির সাহায্যে চালাতে অনেক বেশি খরচ লাগে । যেমন- সাধারণ গ্যাস বা তেলে কম খরচে এসব যানবাহন বা যন্ত্রপাতি চলে । অপরপক্ষে নবায়নযোগ্য শক্তির উৎস যেমন রিচার্জ ব্যাটারি, সৌর শক্তি দ্বারা কোনো যানবাহন চালানো কষ্টসাধ্য ও ব্যয়বহুল । বর্তমানে আমাদের দেশে রিচার্জ করা যায় এমন ব্যাটারির সাহায্যে বিভিন্ন যানবাহন চলছে যা বেশ ব্যয়বহুল ও শক্তির সংকট তৈরি করছে । অনবায়নযোগ্য জ্বালানি সস্তা, এদের অল্প পরিমাণ থেকে বেশি শক্তি পাওয়া যায়। যেমন- অল্প ইউরেনিয়াম থেকে অনেক বিদ্যুৎ শক্তি পাওয়া যায় ।

প্রশ্ন-২। শক্তির সংকট সৃষ্টির কারনগুলো উল্লেখ কর।

উত্তর : মানুষ জীবন ধারণে ও উন্নয়নমূলক কর্মকাণ্ডের জন্য যা কিছু করে তাতেই শক্তির প্রয়োজন হয় । দিনদিন বেড়েই চলেছে শক্তির ব্যবহার, ফলে তৈরি হচ্ছে শক্তি সংকটের। নিম্নোক্ত কারণগুলোর জন্য শক্তির সংকট ঘটে ।

১. ক্রমবর্ধমান জনসংখ্যার চাহিদা মেটানোর জন্য অধিক হারে শক্তির প্রয়োজন হচ্ছে ।

২. যে জাতি যত বেশি উন্নত সে জাতির মাথাপিছু শক্তি ব্যয় তত বেশি । এ ধারণা থেকে প্রতিটি দেশে কখনও কখনও বর্ধিত হারে শক্তি ব্যয় হচ্ছে ।

৩. উন্নয়নশীল দেশসমূহ ব্যাপক হারে দালানকোঠা, রাস্তাঘাট, কলকারখানা ইত্যাদি নির্মাণ করছে এবং যানবাহন ব্যবহার করছে । এ সকল নির্মাণ কাজে ও যানবাহন রক্ষণা-বেক্ষণে অধিক শক্তি ব্যয় করছে ।

৪. মানুষ উন্নত জীবনযাপনের জন্য বিলাসবহুল বাড়ি-ঘর নির্মাণ করে । রেডিও, টিভি, ভিসিআর, কম্পিউটার, শীতাতপ নিয়ন্ত্রিত যন্ত্রপাতি অধিক হারে ব্যবহার করার ফলে শক্তির সংকট বাড়ছে।

৫. মানুষের ব্যবসা-বাণিজ্য, কাজকর্ম ও যোগাযোগ দিনদিন বৃদ্ধি পাচ্ছে । এতে অধিক শক্তি ব্যয় হচ্ছে । উপরিউক্ত কারণসমূহের পিছনে প্রয়োজনীয় শক্তির যোগান দিতে ব্যর্থ হলে তৈরি হয় শক্তির সংকট ।

প্রশ্ন-৩। শক্তি রূপান্তরের প্রয়োজনীয়তা বর্ণনা কর।

উত্তর: কোনো একটা শক্তি থেকে অন্য একটি শক্তিতে পরিবর্তন হওয়াকে শক্তির রূপান্তর বলে। শক্তি রূপান্তরের প্রয়োজনীয়তা অপরিসীম। কারণ যদি শক্তি রূপান্তরিত না হয়, তবে সব শক্তি স্থিতিশক্তিরূপে বিরাজমান থাকবে। কখনও একশক্তি থেকে অন্যশক্তিতে রূপান্তরিত হবে না। তাহলে বাস্তবে কোনো কাজ সম্পাদিত হবে না। তাই শক্তি রূপান্তরিত হওয়ার প্রয়োজনীয়তা অপরিসীম।

প্রশ্ন-৪। কোন ব্যক্তি বেশী কাজ করতে পারে ব্যাখ্যা কর।

উত্তর: কাজের সামর্থ্যকে শক্তি বলা হয়। যে ব্যক্তির শক্তি বেশী সে ব্যক্তি বেশী কাজ করতে পারে। বেশী কাজ করার জন্য ব্যক্তিকে শক্তিশালী হতে হয়।

প্রশ্ন-৫। পানির জোয়ার-ভাটা কিভাবে কাজে লাগানো যায় ব্যাখ্যা কর।

উত্তর: পানির জোয়ার-ভাটার শক্তিকে তড়িৎশক্তিতে রূপান্তর করার বিষয়টি নতুন। জোয়ার-ভাটার শক্তিকে কাজে লাগিয়ে তড়িৎ উৎপাদন করার ক্ষেত্রে চেষ্টা চলছে। পৃথিবীর উন্নত দেশসমূহ পানির জোয়ার-ভাটার শক্তিকে কাজে লাগিয়ে তড়িৎ উৎপাদনের চেষ্টা করছে। 

সৃজনশীল প্রশ্ন সমাধান কর

 

 উদ্দীপকটি পড় এবং প্রশ্নগুলোর উত্তর দাও :

 আমাদের প্রাত্যহিক জীবনে প্রতিনিয়ত শক্তির ব্যবহার হয়ে থাকে । দালান-কোঠা, রাস্তা-ঘাট নির্মাণে শক্তির ব্যবহার ঘটে । আবার আধুনিক প্রযুক্তিনির্ভর সব যন্ত্রপাতি ব্যবহারে শক্তির প্রয়োজন এতে শক্তির সংকট ঘটে।

ক. উন্নয়নকামী দেশ কী?

খ. উন্নত দেশে মাথাপিছু শক্তি ব্যয় ব্যাখ্যা কর।

গ. শক্তি সংকটের কারণ ব্যাখ্যা কর ।

ঘ. আমাদের কেন বিকল্প শক্তির সন্ধান করতে হয়? ব্যাখ্যা কর ।

 

 

দেখো তো তোমার করা উত্তরের সাথে সঠিক উত্তর মিলে কিনা।

 

ক. উন্নয়নকামী দেশ কী?

উত্তর : যেসব দেশ উন্নয়নের দিকে এগিয়ে যায় তাকে উন্নয়নকামী দেশ বলে ।

খ. উন্নত দেশে মাথাপিছু শক্তি ব্যয় ব্যাখ্যা কর ।

উত্তর : যেসব দেশ সব ক্ষেত্রে তথ্য প্রযুক্তিনির্ভর সেসব দেশই উন্নত দেশ। উন্নত দেশসমূহে মাথাপিছু শক্তি ব্যয় অধিক । উন্নত দেশ সব ক্ষেত্রে বিজ্ঞাননির্ভর শক্তি ব্যয় বেশি হয় । হয়, ফলে

গ. শক্তি সংকটের কারণ ব্যাখ্যা কর ।

উত্তর : নিম্নোক্ত কারণে শক্তির সংকট ঘটে থাকে ।ক্রমবর্ধমান জনসংখ্যার চাহিদা মেটানোর জন্য অধিক হারে শক্তির প্রয়োজন হচ্ছে । যে জাতি যত বেশি উন্নত সে জাতির মাথাপিছু শক্তি ব্যয় তত বেশি। কারণ তারা অধিক কাজ সম্পাদন করে, ফলে বর্ধিত হারে শক্তি ব্যয় হচ্ছে । উন্নয়নকামী দেশসমূহ ব্যাপক হারে দালান-কোঠা, রাস্তা-ঘাট, কল-কারখানা ইত্যাদি নির্মাণ করছে এবং যানবাহন ব্যবহার করে। এ সব নির্মাণ কাজে ও যানবাহন রক্ষণাবেক্ষণে অধিক শক্তি ব্যয় করছে । মানুষ উন্নত জীবনযাপনের জন্য বিলাসবহুল বাড়িঘর নির্মাণ করে। রেডিও, টিভি, ভিসিআর, কম্পিউটার, শীতাতপ নিয়ন্ত্রিত যন্ত্রপাতি অধিক হারে ব্যবহার করার ফলে শক্তির সংকট বাড়ছে । মানুষের ব্যবসা-বাণিজ্য, কাজকর্ম ও যোগাযোগ দিন দিন বৃদ্ধি পাচ্ছে ।  এতে অধিক শক্তি ব্যয় হচ্ছে।

ঘ. আমাদের কেন বিকল্প শক্তির সন্ধান করতে হয়? ব্যাখ্যা কর।

উত্তর : যে দেশ যত বেশি উন্নত সে দেশের ক্ষেত্রে মাথাপিছু শক্তি তত বেশি হয় । উন্নত দেশ ছাড়াও উন্নয়নকামী দেশেও দালান-কোঠা ও রাস্তা-ঘাট নির্মাণের ক্ষেত্রে ব্যাপক শক্তি ব্যয় হয় । এসব শক্তি অতিরিক্তভাবে ব্যয় হওয়ার কারণে শক্তির সংকট দেখা দেয়। শক্তির সংকট থেকে উত্তরণের জন্য আমাদের বিকল্প শক্তির সন্ধান করতে হয় । বিকল্প শক্তির সন্ধান করার মাধ্যমে = আমরা আমাদের শক্তির উপর থেকে চাপ কমাতে পারি। অনবায়নযোগ্য শক্তির ব্যবহারের উপর চাপ কমানোর জন্য আমরা বিকল্প শক্তির সন্ধান করে থাকি। বিকল্প শক্তির সন্ধান পাওয়া গেলে শক্তির সংকট থেকে মুক্তি পাওয়া যায় । 

তো শিক্ষার্থী বন্ধুরা, আজকের আলোচনা এই পর্যন্তই আশাকরি তোমারা এই আলোচনা থেকে অনেক কিছু শিখতে পেরেছো এবং অনেকগুলো প্রশ্নের সমাধান পেয়েছো যা তোমাদের পরীক্ষায় উত্তর করতে সহয়তা করবে। আবার দেখা হবে নতুন কোন বিষয় নিয়ে আলোচনা করার সময়। সে পর্যন্ত ভালো থাকো সাবধানে ও সুস্থ থাকো সেই কামনাই করি।

আল্লাহ হাফেজ!

 

Related Articles

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Back to top button