বাংলাদেশ ও বিশ্বপরিচয়

বাংলাদেশের জনসংখ্যা ও উন্নয়ন | বাংলাদেশ ও বিশ্বপরিচয় | অষ্টম শ্রেনী

বাংলাদেশের জনসংখ্যা ও উন্নয়ন | বাংলাদেশ ও বিশ্বপরিচয় | নবম অধ্যায় | অষ্টম শ্রেনী

একটি রাষ্ট্রের জনসংখ্যা ও উন্নয়ন এই যে দুটু ধারণা যারা একে অপরের সাথে সাম্পর্কিত। একটি দেশের মোট জনসংখ্যার উপর সে দেশের উন্নয়ন অনেকখানি নির্ভর করে। উন্নত রাষ্ট্রের সঙ্গে উন্নয়নশীল রাষ্ট্রের জনসংখ্যা ও সেসব দেশের জনগণের মাথাপিছু আয়ের তুলনা করলেই আমরা সেটি অনুধাবন করতে সক্ষম হই। আমরা উদাহরণ সরূপ দেখতে পারি যুক্তরাষ্ট্র ও বাংলাদেশ এই দুটি দেশের কথা ধরা যাক।  যুক্তরাষ্ট্রে প্রতি বর্গকিলোমিটারে ৩৫ জন লোক বাস করে এবং তাদের মাথাপিছু আয়  ৫৮০৩০ মার্কিন ডলার (২০১৬) সালের। অন্যদিকে বাংলাদেশে প্রতি বর্গকিলোমিটার ১২৫২ জন লোক বাস করে এবং মাথাপিছু আয়  মাত্র ১৬১০ মার্কিন ডলার (২০১৭) সালের। একটা দেশ সামনে কতটা উন্নতি করবে তা দেশটির অর্থনৈতিক  পরিকল্পনা ও তার জনসংখ্যানীতির কার্যকর প্রয়োগের উপর নির্ভর করে।  বাংলাদেশের মতো একটি জনবহুল এবং উন্নয়নশীল দেশের বেলায় কথাটা আরও বেশী সত্যি।  এই পাঠ আলোচনায় আমরা জনসংখ্যা বিষয়ে আমাদের দেশের নানান কর্মসূচি এবং জনসংখ্যাকে সম্পদে রূপান্তর কৌশল সম্পর্কে জানতে পারবে। আশা করি তোমরা সম্পূর্ণ আলোচনা সঠিকভাবে পড়বে এবং উপকৃত হবে।

বাংলাদেশের জনসংখ্যানীতি

সাধারণভাবে একটি দেশের জনসংখ্যা বিষয়ে জাতীয় পর্যায়ে পরিকল্পনা গ্রহণ করার জন্য যে দিক নির্দেশনা হয় তাকেই বলা হয় দেশটির জনসংখ্যা নীতি । দেশের আর্থ-সামাজিক অবস্থার সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখে এই নীতি প্রণয়ন করা হয়। এ নীতির লক্ষ্য হলো জনসংখ্যা নিয়ন্ত্রণ করে দেশের নাগরিকদের জীবনমানের উন্নতি এবং দেশের আর্থ-সামাজিক উন্নয়ন নিশ্চিত করা।

জনসংখ্যা নীতি কাকে বলে?

মূল লক্ষ্য বা উদ্দেশ্যগুলো হলো :

। দেশের সব মানুষের কাছে প্রয়োজনীয় স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ সেবা পৌঁছে দেওয়া। বিশেষ করে দরিদ্র জনগোষ্ঠীর জন্য পরিবার পরিকল্পনার সুযোগ ও অত্যাবশ্যক স্বাস্থ্যসেবা নিশ্চিত করা।

। পরিবার পরিকল্পনা কর্মসূচি ও প্রজনন স্বাস্থ্যসেবা জোরদার করা ।

। শিশু ও নারীর অপুষ্টির হার কমিয়ে আনা ৷

। ইউনিয়ন পর্যায় পর্যন্ত নারী ও শিশুদের স্বাস্থ্যসেবার ব্যবস্থা। থানা ও ইউনিয়ন স্বাস্থ্যকেন্দ্রে সার্বক্ষণিক ডাক্তার, নার্স ও প্রয়োজনীয় ঔষধের সরবরাহ নিশ্চিত করা। প্রতিটি গ্রামে প্রসূতিদের নিরাপদ সন্তান জন্মদানের সুযোগ সৃষ্টি করা।

। প্রাথমিক স্বাস্থ্যসেবা সম্প্রসারণের মাধ্যমে সর্বত্র ও সকলের কাছে স্বাস্থ্য সেবা পৌঁছে দেওয়া ।

। দরিদ্র জনগোষ্ঠী ও বিশেষ চাহিদাসম্পন্ন মানুষের জন্য স্বাস্থ্যসেবার ব্যবস্থা করা।

। দেশের প্রবীণ জনগোষ্ঠীর নিরাপত্তা ও স্বাস্থ্যসেবা নিশ্চিত করা।

জনসংখ্যা সম্পর্কে বর্তমানে বাংলাদেশের স্লোগান হচ্ছে ‘দুটি সন্তানের বেশি নয়, একটি হলে ভালো হয় । ’প্রতিবছর ২রা ফেব্রুয়ারি বাংলাদেশে ‘জাতীয় জনসংখ্যা দিবস’ পালন করা হয়।  

জনসংখ্যা ও উন্নয়নের মধ্যে সম্পর্ক

জনসংখ্যা ও উন্নয়নের মধ্যে সম্পর্ক কি?

বাংলাদেশের জনসংখ্যা কত ২০২৩?

জনসংখ্যা নিয়ন্ত্রণে সরকারি ও বেসরকারি উদ্যোগ

সরকারি উদ্যোগ

জনসংখ্যা বৃদ্ধির বর্তমান হার কমিয়ে আনার জন্য সরকার নিম্নলিখিত উদ্যোগ গ্রহণ করেছে:

ক. নিরক্ষরতা দূরীকরণ ও শিক্ষার হার বাড়ানোর জন্য প্রাথমিক ও গণশিক্ষাকে অগ্রাধিকার দেওয়া হয়েছে। সরকার ২০১৪ সালের মধ্যে নিরক্ষরতা দূর ও ২০১৫ সালের মধ্যে সবার জন্য শিক্ষা নিশ্চিত করার পরিকল্পনা গ্রহণ করে। ইতোমধ্যে এই কর্মসূচি শতভাগ অর্জিত না হলেও প্রায় অর্জনের পথে।

খ. সরকার নারীশিক্ষার প্রসারের জন্য ব্যাপক কর্মসূচি গ্রহণ করেছে। যেমন প্রাথমিক থেকে মাধ্যমিক স্তর পর্যন্ত শিক্ষার্থীদের বিনামূল্যে পাঠ্যবই সরবরাহ এবং ষষ্ঠ থেকে দ্বাদশ শ্রেণি পর্যন্ত মেয়েদের উপবৃত্তি প্রদান করা হচ্ছে।

গ. সরকার নাগরিকদের চিকিৎসা সেবা নিশ্চিত করার পরিকল্পনা নিয়েছে। একই সঙ্গে পরিবার ছোট রাখার জন্য স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ কার্যক্রম চালু রয়েছে।

ঘ. কাজি অফিসে বিয়ে রেজিস্ট্রেশনের উপর জোর দেওয়া হয়েছে।

ঙ. হাঁস-মুরগির খামার ও মাছ চাষের মতো আয়বৃদ্ধিমূলক কর্মসূচিতে নারীদের অংশগ্রহণের উপর সরকার গুরুত্ব আরোপ করেছে। তাছাড়া পোশাকশিল্প, কারুশিল্প ও অন্যান্য হস্ত ও কুটিরশিল্পেও নারীরা বর্তমানে বেশি সংখ্যায় অংশ নিচ্ছে। এগুলো জনসংখ্যা নিয়ন্ত্রণে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে। শিশুমৃত্যু হ্রাসের ক্ষেত্রে সাফল্য অর্জন করায় বাংলাদেশ ২০১০ সালে জাতিসংঘ পুরস্কার লাভ করেছে। এছাড়া নারীর ক্ষমতায়নের জন্য নারীদের শিক্ষকতাসহ নানা চাকরির ক্ষেত্রে কোটা প্রথা চালু রয়েছে।

৮ম শ্রেণির বাংলাদেশ ও বিশ্বপরিচয় সৃজনশীল প্রশ্ন ৯ম অধ্যায়
বেসরকারি উদ্যোগ

স্থানীয়, জাতীয় ও আন্তর্জাতিক পর্যায়ের বেসরকারি উন্নয়ন সংস্থাগুলো (NGO) বাংলাদেশের জনসংখ্যা নিয়ন্ত্রণে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছে। মুক্তিযুদ্ধের পরে বাংলাদেশের মানুষকে পুনর্বাসনে সহায়তার মাধ্যমে তারা তাদের কাজ শুরু করে। বর্তমানে এই সংস্থাগুলোর কাজের একটি গুরুত্বপূর্ণ ক্ষেত্র হচ্ছে জনসংখ্যা নিয়ন্ত্রণ ও পরিবার পরিকল্পনা কার্যক্রম। জনসংখ্যা নিয়ন্ত্রণে বাংলাদেশে কর্মরত বেসরকারি উন্নয়ন সংস্থাগুলোর কার্যক্রম নিচে তুলে ধরা হলো

ক. কমিউনিটিভিত্তিক পরিবার পরিকল্পনা প্রকল্প এই প্রকল্পের আওতায় গ্রাম ও শহরের দরিদ্র জনগোষ্ঠীকে পরিবার ছোট রাখার জন্য পরামর্শ ও শিক্ষা দেওয়া হয়। পরিবার পরিকল্পনা পদ্ধতি গ্রহণে তাদের উৎসাহ দেওয়া হয়। প্রকল্পের আওতায় মা ও শিশুর স্বাস্থ্য, টিকা, ইনজেকশন ও পুষ্টি শিক্ষা বিষয়েও সেবা প্রদান করা হয়।

খ. দুই সন্তানের পরিকল্পিত পরিবার গড়ার লক্ষ্য বাস্তবায়ন : বাংলাদেশ সরকার দুটি সন্তানের পরিবার গড়ার জাতীয় লক্ষ্য নির্ধারণ করেছে। বেসরকারি সংস্থাগুলো এই লক্ষ্য অর্জনে কাজ করছে। পরিবার পরিকল্পনা পদ্ধতি গ্রহণে জনগণকে উদ্বুদ্ধ করার জন্যও তারা কাজ করছে।

গ. বাল্যবিবাহ রোধে উদ্বুদ্ধকরণ দেশে বাল্যবিবাহ রোধ করার জন্য জনগণকে উদ্বুদ্ধ করার ক্ষেত্রে বেসরকারি উন্নয়ন সংস্থাগুলো গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখছে।

ঘ. প্রশিক্ষণ কার্যক্রম : বেসরকারি সংস্থাগুলোর বিশেষজ্ঞরা মা ও শিশুর স্বাস্থ্য সেবা, টিকা দান ও পরিবার পরিকল্পনা পদ্ধতি সম্পর্কে জনগণকে প্রশিক্ষিত করছে।

ঙ. সচেতনতা কার্যক্রম : জনসংখ্যা সমস্যা মোকাবিলায় বেসরকারি সংস্থাগুলো জনগণকে সচেতন করার জন্য নানা উপকরণ তৈরি ও ব্যবহার করে। যেমন: পরিবার পরিকল্পনা বিষয়ে সাময়িকী, পোস্টার, ক্যালেন্ডার, চার্ট, নিউজলেটার, ডকুমেন্টারি ফিল্ম ইত্যাদি।

চ. ধর্মীয় নেতাদের উদ্বুদ্ধকরণ কর্মসূচি। বেসরকারি সংস্থাগুলো স্থানীয় ধর্মীয় নেতাদের জন্য কর্মশালা আয়োজন করে তাঁদের এ ব্যাপারে উদ্বুদ্ধ করে। ধর্মীয় নেতারাও জনসংখ্যা হ্রাসের ক্ষেত্রে ভূমিকা পালন করেন।

জনসংখ্যা ও অর্থনৈতিক উন্নয়নের মধ্যে পার্থক্য কি? 

অতিরিক্ত জনসংখ্যা উন্নয়নের অন্তরায় 

বাংলাদেশের বর্তমান জনসংখ্যা বৃদ্ধির হার কত ২০২২?
জনসংখ্যা কিভাবে জনসম্পদে পরিণত হয়?

জনসংখ্যা বাড়লে আমাদের জীবনে কি কি পরিবর্তন হয়?

জনসংখ্যানীতি বলতে কী বোঝায়?
জনসংখ্যার সাথে জনসম্পদের সম্পর্ক

জমির পরিমাণ হিসাব করলে মাথাপিছু জমির অনুপাতে বিশ্বের অন্যান্য দেশের তুলনায় বাংলাদেশের জনসংখ্যা এমনিতেই খুব বেশি। উপরন্তু জনসংখ্যা বৃদ্ধির হারও এখানে বেশি। যদিও আগের তুলনায় বর্তমানে জনসংখ্যা বৃদ্ধির হার কিছুটা কমে এসেছে। পরিবার পরিকল্পনা কার্যক্রম এবং মানুষের ক্রমবর্ধমান সচেতনতার ফলেই এটা সম্ভব হয়েছে। অন্যদিকে চিকিৎসা ব্যবস্থার উন্নতির ফলে শিশু ও মাতৃমৃত্যুর হার ইদানীং কমে এসেছে। এর ফলেও দেশে জনসংখ্যা বাড়ছে। দেশের অশিক্ষিত ও কর্মহীন জনগোষ্ঠীর বিশেষ করে তরুণদের জন্য শিক্ষা, প্রশিক্ষণ ও উপযুক্ত কর্মসংস্থানের ব্যবস্থা করে জনসংখ্যাকে অনায়াসে জনসম্পদে পরিণত করা সম্ভব। এভাবে দেশ দ্রুত অর্থনৈতিক সমৃদ্ধির পথে এগিয়ে যাবে ।

৮ম শ্রেণির বাংলাদেশ ও বিশ্বপরিচয় ৯ম অধ্যায় বহুনির্বাচনি প্রশ্ন

বাংলাদেশের জনসংখ্যা নীতির মূল লক্ষ্য ও উদ্দেশ্য কয়টি? 

বাংলাদেশের জন্মহার ও মৃত্যুহার ২০২২ , ২০২৩ , ২০২৪
জনসংখ্যাকে জনসম্পদে রূপান্তরের কৌশল

 

সম্পদ যেখানে সীমিত সেখানে একটি দেশের বিশাল জনসংখ্যা তার জন্য বিরাট সমস্যা হয়ে দাঁড়ায়। তবে উপযুক্ত পরিকল্পনা নিয়ে জনসংখ্যাকে জনসম্পদেও পরিণত করা যায়। বিশ্বের অনেক দেশ ইতোমধ্যে তাদের বিশাল জনসংখ্যাকে সম্পদে পরিণত করেছে। এ ব্যাপারে আমরা চীনের উদাহরণ দিতে পারি। আমাদের প্রতিবেশি দেশ ভারত ও শ্রীলঙ্কা জনসংখ্যাকে জনসম্পদে পরিণত করার ক্ষেত্রে সাফল্য দেখিয়েছে। বিশেষ করে তথ্য-প্রযুক্তি ক্ষেত্রে ভারত আজ বেশ এগিয়ে। এমনকি মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের মতো উন্নত দেশেরও তথ্য-প্রযুক্তিখাত ২৩ ভাগ ভারতীয় দক্ষ জনশক্তির উপর নির্ভরশীল। আমাদের দেশও বিগত বছরগুলোতে তথ্য-প্রযুক্তিখাতে প্রচুর বিনিয়োগ করেছে।

সরকার এদেশের যুবশক্তিকে সম্পদে রূপান্তরের জন্য ব্যাপক পরিকল্পনা গ্রহণ করেছে। আগামী দিনে যার সুফল পাওয়া যাবে বলে আশা করা যায়। আমাদের দেশে জনসংখ্যাকে সম্পদে পরিণত করার জন্য নেওয়া কৌশলগুলো নিচে উল্লেখ করা হলো:

কর্মমুখী শিক্ষার প্রসার এবং জ্ঞানভিত্তিক সমাজ গড়ে তোলা;

দক্ষতাবৃদ্ধি ও প্রশিক্ষণমূলক কার্যক্রম সম্প্রসারণ ;

• প্রযুক্তি ও কারিগরি শিক্ষার প্রসার ;

• নারীশিক্ষার প্রসার ;

• স্বাস্থ্য ও পুষ্টি কার্যক্রমের প্রসার;

• উৎপাদনমুখী খাতের চাহিদা অনুযায়ী শিক্ষা ও প্রশিক্ষণ কার্যক্রম গ্রহণ;

• কৃষিভিত্তিক শিক্ষা ও প্রশিক্ষণের সম্প্রসারণ;

• কর্মসংস্থানের জন্য কৃষির আধুনিকীকরণ ;

• তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তিকে অগ্রাধিকার প্রদান ;

• ক্ষুদ্র ও কুটির শিল্পের বিস্তার ;

• সরকারি ও বেসরকারি উদ্যোগে প্রচুর বৃত্তির ব্যবস্থা করে অধিক সংখ্যক মেধাবী শিক্ষার্থীকে শিক্ষা ও উচ্চতর প্রশিক্ষণের জন্য বিশ্বের উন্নত ও প্রযুক্তি-নির্ভর দেশগুলোতে প্রেরণ।

উপরোক্ত পাঠ আলোচনা থেকে কি শিখলে নিচের প্রশ্নগুলি সমাধানের মাধ্যমে নিজেকে যাচাই কর:

 

প্রশ্ন-১। উন্নয়ন এবং উন্নয়নশীল দেশ পরিমাণ করা যায় কীসের সম্পর্ক দ্বারা? 

উত্তর : জনসংখ্যা ও মাথাপিছু আয়।

প্রশ্ন-২। বাংলাদেশে প্রতি বর্গ কিলোমিটারে কতজন লোক বসবাস করে? 

উত্তর : ১২৫২ জন।

প্রশ্ন-৩। বাংলাদেশ সরকার কত সালের মধ্যে নিরক্ষরতা দূর করার পরিকল্পনা গ্রহন করেন?

উত্তর : ২০১৪ সালে।

প্রশ্ন-৪। কাজি অফিসে বিবাহ রেজিষ্ট্রেশনের উদ্দেশ্য কি?

উত্তর: বাল্য বিবাহ প্রতিরোধ।

প্রশ্ন-৫। জনসংখ্যা সম্পর্কে বাংলাদেশের স্লোগান কী?

উত্তর: ছেলে হোক মেয়ে হোক দুটি সন্তানই যথেষ্ট।

 

সৃজনশীল প্রশ্ন ও উত্তর

সৃজনশীল প্রশ্ন সমাধান করে নিজেকে যাচাই করে নাও।

নিচের উদ্দীপকটি পড়ে প্রশ্ন গুলোর উত্তর দাও:

সাবিনা তার বান্ধবী বুবিদের বাড়ি গিয়ে দেখে বুধিরা দুই বোন। বুধির পড়ার টেবিল খুব সুন্দরভাবে সাজানো। সে জানলো বুঝির আব্বা অল্প বেতনে চাকরি করলেও তাদের অভাব নেই। এতে সাবিনার খুব ঈর্ষা হয়। সে তার নিজের কথা চিন্তা করে। তারা হয় ভাইবোন। সংসারে সবসময় অভাব-অনটন লেগেই আছে। টেলিভিশন দেখতে বসে তারা একটি প্রামাণ্য চিত্র দেখতে পায়। X নামক একটি সংস্থা পরিবার পরিকল্পনা, মা ও শিশু স্বাস্থ্য, বাল্যবিবাহ রোধ ইত্যাদি বিষয়ে জনগণকে সচেতন করছে।

ক. বাংলাদেশের প্রতি বর্গ কিলোমিটারে কত জন লোক বাস করে?

খ. প্রবাসে কর্মরত নাগরিকদের স্বদেশে প্রেরিত অর্থকে ক বলে? ব্যাখ্যা কর।

গ. উদ্দীপকে উল্লিখিত সংস্থাটির গৃহীত পদক্ষেপগুলো সরকারের কোন নীতির অন্তর্ভুক্ত? ব্যাখ্যা কর।

ঘ. “সাবিনাদের পরিবারে যে ধরনের সমস্যা বিদ্যমান তা সৃষ্টি হওয়ার পূর্বেই কিছু সুনির্দিষ্ট পদক্ষেপ নিতে হবে”- বিশ্লেষণ কর।

দেখোতো তোমার করা উত্তরের সাথে সঠিক উত্তর মিলে কিনা।  সঠিক উত্তর নিচে দেয়া হলো।

(ক)

উত্তর : বাংলাদেশের প্রতি বর্গ কিলোমিটারে ১২৫২ জন লোক বাস করে।

(খ)

উত্তর : প্রবাসে কর্মরত নাগরিকদের স্বদেশে প্রেরিত অর্থকে রেমিট্যান্স বলে । দেশে কর্মরত দেশি শ্রমিক, কর্মচারী ও পেশাজীবীরা তাদের অর্জিত র্থের একটা অংশ ব্যাংকের মাধ্যমে পরিবারের কাছে পাঠায়। প্রেরিত অর্থই হলো রেমিট্যান্স । এ অর্থ কেবল পরিবারের প্রয়োজন মেটায় না বরং দেশের অর্থনৈতিক উন্নয়নেও ভূমিকা রাখছে। বর্তমানে বাংলাদেশের জাতীয় আয়ের একটি বড় অংশ আসে রেমিট্যান্স থেকে ।

(গ)

উত্তর : উদ্দীপকে উল্লিখিত সংস্থাটির গৃহীত পদক্ষেপগুলো সরকারের জনসংখ্যানীতির অন্তর্ভুক্ত।বাংলাদেশ সরকার কিছু লক্ষ্য বা উদ্দেশ্যকে সামনে রেখে জনসংখ্যানীতি প্রণয়ন করেছে।

যেমন- দেশের মানুষের কাছে বিশেষ করে দরিদ্র জনগোষ্ঠীর প্রয়োজনীয় স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ সেবা পৌঁছে দেওয়া। একইসাথে শিশু ও নারীর অপুষ্টির হার কমিয়ে আনা, ইউনিয়ন পর্যায় পর্যন্ত নারী ও শিশুদের স্বাস্থ্যসেবা নিশ্চিত করা, প্রতিটি গ্রামে প্রসূতিদের নিরাপদ সন্তান জন্মদানের সুযোগ সৃষ্টি করা, প্রাথমিক স্বাস্থ্যসেবা সম্প্রসারণের মাধ্যমে সর্বত্র ও সকলের কাছে স্বাস্থ্যসেবা পৌঁছে দেওয়া ইত্যাদি। এছাড়াও প্রবীণ এবং বিশেষ চাহিদাসম্পন্ন মানুষের জন্য স্বাস্থ্যসেবা নিশ্চিত করাও সরকারের জনসংখ্যানীতির লক্ষ্য। বাংলাদেশ ও বিশ্বপরিচয়

উদ্দীপকে দেখা যাচ্ছে ‘X’ নামক একটি সংস্থা পরিবার পরিকল্পনা, মা ও শিশু স্বাস্থ্য, বাল্যবিবাহ রোধ ইত্যাদি বিষয়ে জনগণকে সচেতন করছে। সংস্থাটির এ সকল কার্যক্রম জনসংখ্যা সমস্যা নিরসনে সরকারের জনসংখ্যানীতিকে নির্দেশ করছে।

 

(ঘ)

উত্তর :

সাবিনাদের পরিবারে জনসংখ্যা সমস্যা বিদ্যমান। জনসংখ্যা সমস্যা সৃষ্টি হওয়ার পূর্বেই সুনির্দিষ্ট কিছু পদক্ষেপ গ্রহণ করা যায়। নিচে

সেগুলো উল্লেখ করা হলো:

০ কর্মমুখী শিক্ষার প্রসার এবং জ্ঞানভিত্তিক সমাজ গড়ে তোলা

০ দক্ষতাবৃদ্ধি ও প্রশিক্ষণমূলক কার্যক্রম সম্প্রসারণ

০ প্রযুক্তি ও কারিগরি শিক্ষার প্রসার

০ নারীশিক্ষার প্রসার

০ স্বাস্থ্য ও পুষ্টি কার্যক্রমের প্রসার

০ উৎপাদনমুখী খাতের চাহিদা অনুযায়ী শিক্ষা ও প্রশিক্ষণ কার্যক্রম গ্রহণ

০ কৃষিভিত্তিক শিক্ষা ও প্রশিক্ষণের সম্প্রসারণ

০ কর্মসংস্থানের জন্য কৃষির আধুনিকীকরণ

০ তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তিকে অগ্রাধিকার প্রদান

০ ক্ষুদ্র ও কুটির শিল্পের বিস্তার

০ সরকারি ও বেসরকারি উদ্যোগে প্রচুর বৃত্তির ব্যবস্থা করে অধিক সংখ্যক মেধাবী শিক্ষার্থীকে শিক্ষা ও উচ্চতর প্রশিক্ষণের জন্য বিশ্বের উন্নত ও প্রযুক্তি-নির্ভর দেশগুলোতে প্রেরণ ।

তো শিক্ষার্থী বন্ধু আমাদের আজকের পাঠ আলোচনা এই পর্যন্তই।  আশা করি তোমরা আজকের পাঠ আলোচনা থেকে জ্ঞান অর্জন করতে পেরেছো এবং তোমরা যদি প্রশ্ন গুলোর সামাধান করে থাকো তাহলে অবশ্যই এটা তোমারদের পরীক্ষার জন্য সহযোগী হবে।  তোমারা যদি এভাবে পড়া চালিয়ে যেতে পারো তাহলে অবশ্যই তোমার ভালো ফলাফল করবে।  আমি এই আশাবাদী৷  যা-ই হোক,  আমাদের সামনে   আবার দেখা হবে নতুন কোন পাঠ আলোচনায় সে পর্যন্ত সবাই ভালো ও সুস্থ থাকবে এই কামনাই করি।

আল্লাহ হাফেজ!

 

Related Articles

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Back to top button