বিজ্ঞান সপ্তম শ্রেনী

উদ্ভিদের বাহ্যিক বৈশিষ্ট্য | বিজ্ঞান | সপ্তম শ্রেণী

 শিক্ষার্থী বন্ধুরা, কেমন আছো তোমরা।  আশা সবাই অনেজ ভালো আছো৷  কখনও উদ্ভিদের মূল, কাণ্ড ও পাতা এমন ভাবে রূপান্তরিত হয় যে তাদের চেনাই যায় না। কেন এরা রূপান্তরিত হয় এবং কীভাবেই বা তাদের নিজ রূপে চেনা যাবে এ পাঠে তা আলোচনা করা হবে। আশা করি তোমরা সম্পূর্ণ পাঠ  আলোচনা মনযোগ সহকারে পড়বে এবং কিছু শিখার ও বোঝার চেষ্টা করবে।  চলো শুরু করা যাক। 

প্রধান মূলের রূপান্তর

মূলের প্রধান কাজ হল গাছকে মাটির সঙ্গে আবদ্ধ রাখা। কিন্তু মূল কখনো বিশেষ কাজ সম্পাদনের জন্য রূপান্তরিত হতে পারে। এবার খাদ্য সঞ্চয়ের জন্য প্রধান মূলের রূপান্তর সম্পর্কে আলোচনা করব। মুলা, গাজর ও শালগম আমরা সবাই দেখেছি এবং খাদ্য হিসেবে গ্রহণ করেছি। এগুলো মূল না কাণ্ড? একটু লক্ষ কর। এদের গায়ে কি কোনো “গিট বা পর্ব আছে? পাতা আছে? মুকুল আছে? না নেই। মাটির উপরে যে পাতা দেখা যায় তা মূলের উপরে অবস্থিত ক্ষুদ্র কাণ্ডের গা থেকে বেরিয়েছে।

আকৃতিগত দিক থেকে এরা চার প্রকার, যথা-

১। মূলাকৃতি মূল
২। গাজরাকৃতি মূল
৩। শালগমাকৃতি মূল
৪। কন্দাকৃতি মূল।

মূলাকৃতি মূল: এরা খাদ্য সঞ্চয় করে তাই প্রধান মূল মোটা ও রসাল হয়। এই মূলের মধ্যভাগ মোটা কিন্তু দুই প্রাপ্ত ক্রমশ সরু। যেমন : মুলা।

মূলাকৃতি মূল কি? 

মূলাকৃতি মূল কাকে বলে?

গাজরাকৃতি মূল: এরা খাদ্য সঞ্চয় করে তাই প্রধান মূলটি মোটা ও রসাল হয়। এই মূলের উপরের দিক মোটা এবং নিচের দিকে ক্রমশ সরু হয়ে যায়। যেমন – গাজর।

গাজরাকৃতি মূল কি?

গাজরাকৃতি মূল কাকে বলে?

শালগমাকৃতি মূল: এই ক্ষেত্রে প্রধান মূলটির উপরের অংশ খাদ্য সঞ্চয়ের ফলে গোলাকার এবং নিচের অংশ হঠাৎ করে সরু হয়ে যায়। যেমন – শালগম।

শালগমাকৃতি মূল কি?

শালগমাকৃতি মূল কাকে বলে?

কন্দাকৃতি মূল: খাদ্য সঞ্চয়ের ফলে কখনো কখনো প্রধান মূলটি অনিয়মিতভাবে মোটা হয়। এদের কোনো নির্দিষ্ট আকার বা আকৃতি নেই। যথা- সন্ধ্যামালতি।

কন্দাকৃতি মূল কি? 

কন্দাকৃতি মূল কাকে বলে?

 পাঠ মূল্যায়ন

উপরোক্ত পাঠ থেকে কি শিখলে তা যাচাই কর।

প্রশ্ন-১। গোল আলু মূল নয় কেন? 

উত্তর : গোল আলু স্ফীতকন্দের উদাহরণ । স্ফীত কন্দে পর্ব, পর্ব মধ্য, শল্কপত্র ও কাক্ষিক মুকুল থাকে। শল্কপত্রের কক্ষে গর্তের মতো অংশকে ‘চোখ’ বলে। অনুকূল ঋতুতে ‘চোখ’ হতে কাক্ষিক মুকুল বৃদ্ধি পেয়ে নতুন উদ্ভিদের তৈরী করে । খাদ্য সঞ্চয়ের জন্য স্ফীত হয়ে এগুলো গোল হতে থাকে ।

প্রশ্ন-২। মূল কী কী কারণে রূপান্তরিত হয়?

উত্তর : মূল রূপান্তরিত হওয়ার কারণ-

১। উদ্ভিদকে উপরে উঠতে সাহায্য করা
২। জলীয়বাষ্প গ্রহণ করা ।
৩। খাদ্য সঞ্চয় করে ।

প্রশ্ন-৩। রূপান্তরিত মূল নয় এমন একটি উদ্ভিদের নাম লিখ। 
উত্তর : আদার মূল রূপান্তরিত মূল নয়।

প্রশ্ন-৪। রূপান্তরিত মূলে কি কি থাকে না?
উত্তর : পাতা,ফিট,মুকুল ইত্যাদি।

প্রশ্ন-৫। কোন উদ্ভিদের মালাকৃতির মূল থাকে? 
উত্তর : করলার।

রূপান্তরিত অস্থানিক মূল

স্থানিক মূল বিশেষ বিশেষ কার্য সাধনের জন্য পরিবর্তিত বা রূপান্তরিত হয়ে থাকে। অস্থানিক মূল সাধারণত তিন ধরনের কাজ করার জন্য রূপান্তরিত হয়ে থাকে, যথা- খাদ্য সঞ্চয়, যান্ত্রিক ভারসাম্য রক্ষা ও শারীরবৃত্তীয় কার্য সম্পাদন।

খাদ্য সঞ্চয়ের জন্য রূপান্তর : বিভিন্ন ধরনের অস্থানিক মূল ভবিষ্যতের জন্য খাদ্য সঞ্চয় করে স্ফীত হয় এবং বিভিন্ন আকার ধারণ করে, যেমন মিষ্টি আলুর কন্দাল মূল, শতমূলী ও ডালিয়ার গুচ্ছিত কন্দ মূল ও করলার মালাকৃতির মূল ইত্যাদি। মিষ্টি আলুর কন্দাল অস্থানিক মূল মাটির কাছাকাছি কাণ্ডের পর্ব হতে বের হয় এবং খাদ্য সঞ্চয় করার ফলে অনিয়মিত ভাবে স্ফীত হয়ে অনির্দিষ্ট আকার ধারণ করে। খাদ্য সঞ্চয় করা এই মূলের পরিবর্তিত কাজ ।

কন্দাল মূল : অস্থানিক মূল কখনো অনিয়মিতভাবে স্ফীত হয়, যথা- মিষ্টি আলু।

গুচ্ছিত কন্দমূল : ইহা কন্দাল মূলের মতো খাদ্য সঞ্চয়ের জন্য অনিয়মিতভাবে স্ফীত হয়। তবে স্ফীত মূলগুলো একটি গুচ্ছে অবস্থান করে কারণ, এক গুচ্ছ অস্থানিক মূলের সবগুলোই খাদ্য সঞ্চয়ের জন্য কন্দের মতো স্ফীত হয়ে থাকে এই জন্য এই মূলকে গুচ্ছিত কন্দমূল বলা হয়। খাদ্য সঞ্চয়ই এর প্রধান কাজ। উদাহরণ- শতমূলী ও ডালিয়া।

নডুলুজ মূল : যখন মূলের অগ্রভাগ খাদ্য সঞ্চয় করে স্ফীত হয়, যেমন- আম, আদা।

মালা আকৃতির মূল : যখন কোনো অস্থানিক মূল পর্যায়ক্রমে স্ফীত ও সংকুচিত হয়, যথা- করলার মূল। যান্ত্রিক ভারসাম্য রক্ষার্থে রূপান্তর

এ মূল উদ্ভিদকে মাটির উপর খাড়াভাবে দাঁড়িয়ে থাকতে, আরোহণ করতে বা পানিতে ভাসতে সাহায্য করে। এ জন্য অস্থানিক মূলের বিভিন্ন রকম রূপান্তর ঘটে থাকে, যেমন- আরোহী মূল, ভাসমান মূল ইত্যাদি।

স্তম্ভমূল, ঠেসমূল,স্তম্ভমূল: এই ধরনের অস্থানিক মূল কাণ্ড বা শাখা হতে উৎপন্ন হয়। এরা খাড়াভাবে নিচের দিকে নামতে নামতে মাটির মধ্যে প্রবেশ করে এবং মোটা হয়ে স্তম্ভের আকার ধারণ করে, যেমন- বট ।

ঠেস মূল : কোনো কোনো উদ্ভিদের প্রধান কাণ্ড দুর্বল হওয়ার কারণে সোজা ভাবে দাড়াতে পারে না। তাই কাণ্ডের গোড়ার দিক থেকে কতগুলো অস্থানিক মূল বের হয়ে তীর্যকভাবে মাটিতে প্রবেশ করে, যেমন- কেয়ার ঠেশ মূল।

আরোহী মূল: এই মূল দুর্বল কান্ডযুক্ত উদ্ভিদের পর্ব হতে উৎপন্ন হয়ে অন্য কোন উদ্ভিদ বা অবলম্বনকে আঁকড়ে ধরে এবং উদ্ভিদকে ওপরে উঠতে সাহায্য করে। যেমন – পান।

পরাশ্রয়ী বায়বীয় মূল : এক প্রকার মূল বাতাস থেকে জলীয় বাষ্প গ্রহণ করে। এদের বায়বীয় মূল বলে। যথা- রাসা।

পরজীবী বা শোষক মূল : পরজীবী উদ্ভিদে ক্লোরোফিল থাকে না তাই খাদ্যের জন্য আশ্রয়দাতা উদ্ভিদের দেহে বিশেষ ধরণের মূল প্রবেশ করিয়ে খাদ্যরস শোষণ করে থাকে। এ মূলগুলোকে শোষক মূল বলে, যেমন- স্বর্ণলতা।

শ্বাসমূল : সমুদ্র উপকূলে লবণাক্ত ও কর্দমাক্ত মাটিতে উদ্ভিদের প্রধান মূল হতে শাখা মূল মাটির উপরে খাড়াভাবে উঠে আসে। এই সকল মূলে ছোট ছোট ছিদ্র থাকে। এই ধরনের রূপান্তরিত মূলগুলোকেই শ্বাসমূল বা নিউমাটোফোর বলে। যথা সুন্দরী, গরান ইত্যাদি।

জনন মূল : কোনো কোনো উদ্ভিদের মূল প্রজননে অংশ গ্রহণ করে থাকে। যেমন- মিষ্টি আলু, পটল, কাকরোল ইত্যাদি।

পাঠ মূল্যায়ন

প্রশ্ন-১। অস্থানিক মূল রূপান্তরিত হয় কয়টি কারনে? 

উত্তর : ৩টি।

প্রশ্ন-২। অস্থানিক মূল রূপান্তরিত হয়ে থাকে কিসের জন্য?  
উত্তর : খাদ্য সঞ্চয়,ভারসাম্য রক্ষা ও শরীরবৃত্তীয় কাজের জন্য।

প্রশ্ন-৩। করলার মূল কি ধরেনর? 
উত্তর : মালা আকৃতির।

প্রশ্ন-৪। নিউমাটোফোর অর্থ কি?
উত্তর: শ্বাসমূল।

প্রশ্ন-৫। কোন উদ্ভিদের মূল খাড়াভাবে ওঠে আসে?
উত্তর: সুন্দরী।

রূপান্তরিত কাণ্ড

তোমরা জান, কাণ্ড সাধাণরত মাটির উপরে অবস্থান করে এবং পাতা, ফুল ও ফল ধারণ করে। কিন্তু ক্ষেত্রবিশেষে সাধারণ কাজ ছাড়াও বিভিন্ন ধরনের কাজ সম্পন্ন করার জন্য কাণ্ডের আকৃতিগত ও অবস্থাগত পরিবর্তন ঘটে। এ ধরনের পরিবর্তনকে কান্ডের রূপান্তর বলে। অবস্থান অনুযায়ী রূপান্তরিত কাণ্ড তিন প্রকার, যথা—

১) ভূ- নিম্নস্থ
২) অর্ধ বায়বীয়
৩) বায়বীয়

ভূ-নিম্নস্থ রূপান্তরিত কাণ্ড প্রতিকূল পরিবেশে টিকে থাকা, খাদ্য সঞ্চয় এবং অঙ্গজ উপায়ে বংশবিস্তার করার জন্য কিছু কিছু উদ্ভিদের কাণ্ড মাটির নিচে বৃদ্ধি পায়। এ ধরনের কাণ্ডকে ভু-নিম্নস্থ রূপান্তরিত কাণ্ড বলে। এরা মোট চার প্রকারের হয় , যথা—

১। স্ফীত কন্দ।
২। মৌলকাণ্ড বা রাইজোম।
৩। কন্দ।
৪। গুড়িকন্দ।

টিউবার বা স্ফীত কন্দ : গোল আলু স্ফীতর্কন্দের উদাহরণ। স্ফীত কন্দে পর্ব, পর্বমধ্য, শঙ্কপত্র ও কাক্ষিক মুকুল থাকে। শঙ্কপত্রের কক্ষে গর্তের মতো অংশকে “চোখ” বলে। অনুকূল ঋতুতে “চোখ” হতে কাক্ষিক মুকুল বেড়ে গিয়ে নতুন উদ্ভিদের তৈরী করে। খাদ্য জমিয়ে রাখার জন্য স্ফীত হয়ে এরা গোলাকার বর্নেরও হয়ে থাকে।

রাইজোম : আদা, হলুদ প্রভৃতি উদ্ভিদের কাণ্ড রাইজোম-জাতীয় । এরা মাটির নিচে খাদ্য সঞ্চয় করে সমান্তরাল বা খাড়াভাবে অবস্থান করে। এদের সুস্পষ্ট পর্ব ও পর্বমধ্য থাকে। পর্ব হতে শঙ্কপত্র ও অস্থানিক মূল এবং শঙ্কপত্রের কক্ষে কাক্ষিক মুকুল উৎপন্ন হয়।

কন্দ : পিঁয়াজ, রসুন ইত্যাদি উদ্ভিদের কান্ড এই প্রকারের। এদের কান্ডটি (কন্দ) খুবই ক্ষুদ্র, গোলাকার ও উত্তল। পর্ব ও পর্বমধ্যগুলো সংকুচিত। পুরু ও রসালো শঙ্কপত্রগুলো এমন ভাবে অবস্থান করে যে কন্দটিকে দেখা যায় না। এ কাণ্ডের নিচের দিক থেকে প্রচুর অস্থানিক গুচ্ছমূল বের হয়।

অর্ধবায়বীয় রূপান্তরিত কান্ড

গুড়িকম্প : ওলকচু গুড়িকন্দের উদাহরণ। এ ধরনের কাণ্ড বেশ বড়। আকৃতিতে প্রায় গোলাকার। এতে সুস্পষ্ট পর্ব ও পর্বমধ্য থাকে। শঙ্কপত্রের কক্ষে উৎপন্ন পার্শ্ব বা কাক্ষিক মুকুলগুলি বড় হয় এবং শিশু গুড়িকন্দের সৃষ্টি করে।

উদ্ভিদে এক ধরনের বিশেষ শাখা উৎপন্ন হয়। এ শাখাগুলো অঙ্গজ প্রজননের মাধ্যমে নতুন উদ্ভিদের সৃষ্টি করে থাকে। মাটির উপরে বা সামান্য নিচে অবস্থিত এ ধরনের দুর্বল শায়িত রূপান্তরিত কাণ্ডকে অর্ধবায়বীয় কান্ড বলে। এরা চার প্রকারের হতে পারে।

রানার বা ধাবক, থানকুনি, দুর্বাঘাস, আমরুল ইত্যাদি উদ্ভিদের কাণ্ডের নিচের পর্বের কাক্ষিক মুকুল থেকে যে শায়িত শাখা জন্মায় তাকে ধাবক বলে।

স্টোলন বা বক ধাবক : এরা এক বিশেষ ধরনের ধাবক। কচু উদ্ভিদের গোড়া থেকে লম্বা শাখা বের হয়। এ শাখার শুধুমাত্র পর্বগুলি অস্থানিক মূলের সাহায্যে মাটি ধরে রাখে বাকি শাখাটি বক্রভাবে অবস্থান করে। কক্ষে সৃষ্ট মুকুল থেকে পরে নুতন উদ্ভিদ জন্মায়।

অফসেটঃ টোপাপানা, কচুরিপানা নামক জলজ উদ্ভিদের পর্বমধ্যগুলো ছোট ও মোটা হওয়ার কারণে কান্ডকে খর্বাকৃতি দেখায়। এদের অফসেট বলে। সাকার বা উর্ধ্বধাবক : চন্দ্র মল্লিকা, বাঁশ প্রভৃতি উদ্ভিদের শায়িত কাক্ষিক

মুকুল থেকে উৎপন্ন হয়ে শাখাটির অগ্রভাগ মাটির উপরে চলে আসে এবং নুতন উদ্ভিদ উৎপন্ন করে।

বায়বীয় রূপান্তরিত কাণ্ড এ সকল কান্ড মাটির উপরে স্বাভাবিক কাণ্ডের মত অবস্থান করে কিন্তু বিশেষ ধরনের কাজ যেমন- খাদ্য তৈরি, অঙ্গজ প্রজনন, আত্মরক্ষা, আরোহণ ইত্যাদি কাজের জন্য রূপান্তরিত হয়ে থাকে। এরা চার প্রকারের হতে পারে।

ফাইলোক্ল্যাড বা পর্ণ কাণ্ড : ফনিমনসা জাতীয় উদ্ভিদটিই এ ধরনের কাণ্ডের উদাহরণ। এ ধরনের কার পাতার মত চ্যাপ্টা ও সবুজ, যার ফলে এরা খাদ্য তৈরি করতে পারে। পাতাগুলো কাঁটায় পরিণত হয়ে উদ্ভিদের আত্মরক্ষার কাজ করে।

থর্ন বা শাখা কন্টক : অনেক সময় কাক্ষিক মুকুল শাখা মুকুল তৈরি না করে শক্ত ও সুঁচালো কাঁটায় রূপান্তরিত হয়। বেলো, ময়নাকাঁটা, মেহেদি ইত্যাদি উদ্ভিদে কাঁটার মতো শাখা কন্টক দেখা যায়।

স্টেম টেনড্রিল বা শাখা আকর্ষী: ঝুমকোলতা, হাড়জোড়া ইত্যাদি দুর্বল আরোহী উদ্ভিদের পত্রকক্ষ থেকে সুতার মতো সরু, লম্বা ও প্যাচানো যে অংশগুলো বের হয় তাকে শাখা আকর্ষী বলে। আকর্ষীতে পাতা উৎপন্ন হয় না ।

বুলবিল: কোনো কোনো আরোহী উদ্ভদের কাক্ষিক মুকুল শাখায় পরিণত না হয়ে প্রচুর খাদ্য সঞ্চয় করে গোলাকার মাংস পিণ্ডের আকার ধারণ করে। এরাই বুলবিল।

পাঠ মূল্যায়ন

প্রশ্ন-১। রূপান্তরিত কান্ড কত প্রকার? 
উত্তর : ৩ প্রকার।

প্রশ্ন-২। অর্ধকার বায়বীয় রূপান্তরিত কান্ড কয়টি?
উত্তর : ৪টি।

প্রশ্ন-৩। স্ফীত কন্দের অপরনাম কি?
উত্তর : টিউবার।

প্রশ্ন-৪। প্রচুর অস্থানিক গুচ্ছমূল থাকে কিসের মধ্যে?
উত্তর: রসুনে।

প্রশ্ন-৫। ভূ-নিম্নস্থ কান্ড কত প্রকার?
উত্তর: ৪ প্রকার।

রূপান্তরিত পাতা 

বিশেষ কাজ সমাধা করার জন্য পাতার রূপ পরিবর্তিত হয়। এ ধরনের রূপান্তরিত পাতা সম্পর্কে এবার আমরা জানব।

ক) আকর্ষী : সম্পূর্ণ পাতা, পাতার শীর্ষভাগ অথবা পত্রক অনেক সময় প্যাচানো স্প্রিং-এর মতো রূপ ধারণ করে । এগুলো আকর্ষি । এর সাহায্যে গাছ কোনো কিছু আঁকড়ে ধরতে পারে । জংলী মটর গাছে এ ধরনের আকর্ষী দেখা যায় ।

খ) খাদ্য সঞ্চয় : পেঁয়াজ, রসুন বা ঘৃতকুমারী গাছের পাতা পুরু ও রসালো হয়। এসব পাতায় খাদ্য জমা থাকে।

গ) পতঙ্গ ফাঁদ : কলসি উদ্ভিদ এক ধরনের লতানো গাছ ও ঝাঁঝি নামক জলজ উদ্ভিদের পাতা রূপান্তরিত হয়ে কলসি বা থলের মতো রূপ ধারণ করে। এর মধ্যে পোকামাকড় ঢুকলে কলসির ঢাকনাটি বন্ধ হয়ে যায়, পরে গাছ তার দেহ থেকে রস শুষে নেয় ।

ঘ) প্রজনন : কোনো কোনো উদ্ভিদে পাতার কিনারা থেকে কুঁড়ি গজায়। ধীরে ধীরে এসব কুঁড়ি থেকে নিচের দিকে গুচ্ছমূলও গজায়। কোনো এক সময় এরা মুক্ত হয়ে স্বাধীন উদ্ভিদের জন্ম দেয়, যেমন- পাথরকুঁচি।

 

ঙ) কণ্টক পত্র : পাতা কখনো কাঁটায় রূপান্তরিত হয়, যথা- লেবু।

চ) শঙ্কপত্র : কখনো ভূ-নিম্নস্থ কাণ্ডের পাতা পাতলা আঁশের মতো আকার ধারণ করে। যেমন- আলু, আদা, হলুদ ইত্যাদি। এগুলোই শঙ্কপত্র। রসাল শঙ্কপত্র খাদ্য সঞ্চয় করে এবং কাক্ষিক মুকুলকে রক্ষা করে। যেমন-পিয়াজের রসাল শঙ্কপত্র।

পাঠ মূল্যায়ন

প্রশ্ন-১। মাটির নিচে খাদ্য সঞ্চয় ও খাড়াভাবে অবস্থান করে কোনটি? 
উত্তর : হলুদ।

প্রশ্ন-২। ঝাঁঝিঁ কি ধরনের উদ্ভিদ? 
উত্তর : জলজ।

প্রশ্ন-৩। প্রজনন কাজে ব্যবহৃত হয় কোন উদ্ভিদের পাতা?
উত্তর : পাথরকুচিঁ।

প্রশ্ন-৪। ঝাঁঝিঁ কীসের রস শুষে নেয়?
উত্তর: পোকা-মাকড়ের।

প্রশ্ন-৫। লেবুতে কি থাকে? 
উত্তর: কন্টকপত্র।

সৃজনশীল প্রশ্ন 

 

ক. বুলবিল কী ?

উত্তর: কোনো কোনো আরোহী উদ্ভিদের কাক্ষিক মুকুল শাখার পরিণত না হয়ে প্রচুর খাদ্য সঞ্চয় করে গোলাকার মাংসপিণ্ডের আকার ধারণ করে । এরাই বুলবিল ।

খ. পাথরকুচি পাতার মাধ্যমে কীভাবে প্রজনন ঘটে?

উত্তর: পাথরকুঁচি উদ্ভিদে পাতার কিনারা থেকে কুঁড়ি ধীরে ধীরে এসব কুড়ি থেকে নিচের দিকে গুচ্ছ মূলও গজায় । কোনো এক সময় এরা মুক্ত হয়ে স্বাধীন উদ্ভিদের জন্ম দেয় । এভাবেই পাথরকুঁচি উদ্ভিদ প্রজনন ঘটায় ।

গ. চিত্র X এর ব্যবহারিক দিক ব্যাখ্যা কর।

উত্তর: উদ্দীপকে বর্ণিত X চিত্রটি হচ্ছে আদা। তা একটি রূপান্তরিত কান্ড। আদা রাইজোম জাতীয় উদ্ভিদ । এরা মাটির নিচে খাদ্য সঞ্চয় করে সমান্তরাল বা খাড়াভাবে অবস্থান করে। এদের সুস্পষ্ট পর্ব ও পর্বমধ্য থাকে । পর্ব হতে শল্কপত্র ও অস্থানিক মূল ও শল্কপত্রের কক্ষে কাক্ষিক মুকুল উৎপন্ন হয় । X-এর ব্যবহারিক দিক : এ উদ্ভিদের ২টি ব্যবহারিক দিক। যথা-

১. মসলা হিসেবে।
২. ওষুধ হিসেবে ।

এ দুভাবে এটি সাধারণত ব্যবহৃত হয় ।

ঘ. Y ও Z এর বৈশিষ্ট্যের তুলনামূলক আলোচনা কর।

উত্তর: উদ্দীপকে বর্ণিত চিত্র Y হলো গোল আলু ও Z হলো মিষ্টি আলু । Y ও Z-এর বৈশিষ্ট্যের তুলনা নিম্নরূপ :

গোল আলু Y :

১। চিত্র Y হলো নিম্নস্থ রূপান্ত | রিত কাণ্ড, যা খাদ্য সঞ্চয় করে গোলাকার বা ডিম্বাকার হয়।
২। চিত্র Y থেকে মূল উৎপন্ন হয় না।
৩। চিত্র Y-এর কাণ্ডের শাখা রূপান্তরিত হয় ।

মিষ্টি আলু Z :

১ । চিত্র Z হলো রূপান্তরিত অস্থানিক মূল, যা ভবিষ্যতের জন্য খাদ্য সঞ্চয় করে স্ফীত হয় এবং বিভিন্ন আকার ধারণ করে।

২ । চিত্র Z থেকে কন্দাল মূল উৎপন্ন হয়।

৩।চিত্র Z-এর অস্থানিক মূল রূপান্তরিত হয় ।

২.

ক. অফসেট কী?

উত্তর: টোপা পানা, কচুরিপানা নামক জলজ উদ্ভিদের পর্বমধ্যগুলো ছোট ও মোটা হওয়ার জন্য কাওকে খর্বাকৃতি দেখায়। এদেরকে অফসেট বলে।

খ. কলসি উদ্ভিদকে পতঙ্গ ফাঁদ বলা হয় কেন? ব্যাখ্যা কর।

উত্তর : কলসি উদ্ভিদ এক ধরনের লতানো গাছ । ঝাঁঝি নামক জলজ উদ্ভিদের পাতা রূপান্তরিত হয়ে কলসি বা থলের ন্যায় রূপ ধারণ করে । এর মধ্যে পোকা-মাকড় ঢুকলে কলসির ঢাকনাটি বন্ধ হয়ে যায়, পরে গাছ তার দেহ থেকে রস শুষে নেয়। এ কারণে কলসি উদ্ভিদকে পতঙ্গ ফাঁদ বলা হয়।

. ১ম চিত্রে M চিহ্নিত অংশের প্রয়োজনীয়তা ব্যাখ্যা কর।

উত্তর: চিত্রের M চিহ্নিত অংশটি হলো সমুদ্র উপকূলবর্তী লবণাক্ত উদ্ভিদের শ্বাসমূল ।

শ্বাসমূল : সমুদ্র উপকূল লবণাক্ত ও কর্দমাক্ত মাটিতে উদ্ভিদের প্রধান মূল হতে শাখা মূল মাটির ওপরে খাড়াভাবে উঠে আসে । এ সব মূলে ছোট ছোট ছিদ্র থাকে । এ রূপান্তরিত মূলকে শ্বাসমূল বা নিউমাটোফোর বলে । প্রয়োজনীয়তা :

১. লবণাক্ত মাটির জন্য এদের শিকড় মাটির খুব গভীরে প্রবেশ করে না । তাই ঝড়-ঝাপটা থেকে এটি উদ্ভিদকে বাঁচিয়ে রাখতে সাহায্য করে।

২. মাটিতে পর্যাপ্ত অক্সিজেনের অভাব থাকায় মাটির নিচের সমান্তরালভাবে বিস্তৃত মূল হতে খাড়াভাবে উপরে উঠে আসে। এতে বায়ুছিদ্র এবং ভিতরে বায়ুকুঠুরি থাকে। এরা গ্যাসের আদান প্রদানে উদ্ভিদকে সহায়তা করে। 

ঘ. R ও N উদ্ভিদ দুইটির তুলনামূলক আলোচনা কর।

উত্তর: মূলের স্বাভাবিক শারীরবৃত্তীয় কাজ ছাড়াও বিশেষ বিশেষ ক্ষেত্রে শারীরবৃত্তীয় কাজ সমাধা করার জন্য অস্থানিক মূলের রূপান্তর ঘটে।

চিত্র N :

➡️পরজীবী উদ্ভিদের ক্লোরোফিল থাকে না।
➡️খাদ্যের জন্য আশ্রয় দাতা উদ্ভিদের দেহে বিশেষ ধরনের মূল প্রবেশ করে থাকে ।
➡️এগুলো হলো শোষক মূল । যথা- স্বর্ণলতা ।

চিত্র R:

➡️এক প্রকার মূল বাতাস থেকে জলীয়বাষ্প গ্রহণ করে।
➡️খাদ্যের জন্য আশ্রয়দাতা উদ্ভিদের দেহে বিশেষ ধরনের মূল প্রবেশ করে না ।
➡️এদের বায়বীয় মূল বলে ।

তো শিক্ষার্থী বন্ধুরা আমাদের আজকের পাঠ আলোচনা এই পর্যন্ত।  আশা করি এ পাঠ আলোচনা ভালো ভাবে পড়ে থাকলে তোমারা অবশ্যই উপকৃত হবে৷ এবং পরীক্ষায় কমন পাবে আর উত্তর করতে সহযোগী হবে। আবার দেখা হবে নতুন কোন পাঠ আলোচনা।  সে পর্যন্ত সবাই ভালো ও সুস্থ থাকবে এই কামনাই করি।

আল্লাহ হাফেজ!

Related Articles

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Back to top button