শারিরীক শিক্ষা ও স্বাস্থ্য

জীবনের জন্য খেলাধুলা | শারিরীক শিক্ষা ও স্বাস্থ্য | অষ্টম শ্রেনি

প্রিয় শিক্ষার্থী বন্ধুরা, কেমন আছো তোমরা।  আশা করি প্রত্যেকেই ভালো ও সুস্থ আছো।  তো বরাবরের মতো আজকেও তোমাদের মাঝে হাজির হয়েছি নতুন একটি পাঠ আলোচনা নিয়ে।  আজকে আমরা আলোচনা করবো তোমাদের শারিরীক শিক্ষা ও স্বাস্থ্য বইয়ের গুরুত্বপূর্ণ একটি অধ্যায় – “জীবনের জন্য খেলাধুলা” নিয়ে।

তোমার যেনো খুবই সহজেই গুরুত্বপূর্ণ বিষয়াবলি আয়ত্তে আনতে পারো সেইভাবেই আমরা পাঠ আলোচনা করার চেষ্টা করি। আশা করি তোমরা আজকের পাঠ আলোচনা পুরোটা পড়বে এবং কিছু শিখার, জানান ও বুঝার চেষ্টা করবে। তো চলো মূল আলোচনার দিকে ফেরা যাক-

 

আমরা দিনের বেশীর ভাগ সময়ই ঘুমিয়ে ও কাজ করে কাটাই। তার মধ্যে কেউ কেউ কিছুটা সময় শরীর চর্চা,ব্যায়াম বা খেলাধুলা করেন। খেলাধুলা শরীর ও মনকে তর-তাজা রাখে। শরীর ও মনের সুস্থতার উপরই নির্ভর করে তার দৈনিক জীবনের সুখ-সমৃদ্ধি। খেলাধুলা শরীর গঠনের এক অন্যতম উৎস। খেলাধুলার মধ্যেই মানুষ খুঁজে পায় জীবন বিকাশের পথ, পায় জীবন সংগ্রামের দৃঢ় মনোবল। সব খেলাতেই জয়-পরাজয় থাকে।

খেলাধুলা মানুষের মধ্যে জয় পরাজয় মেনে নেওয়ার মানসিকতা তৈরি করে। জীবনকে পরিচ্ছন্ন, গতিময় ও সাবলীল করার অন্যতম মাধ্যম হচ্ছে খেলাধুলা। খেলাধুলায় অংশগ্রহণ করে শিক্ষার্থীরা শারীরিক, মানসিক এবং সামাজিক গুণাবলি অর্জন করে এবং নিজেকে সুনাগরিক হিসাবে গড়ে তোলে।

খেলাধুলার উপকারিতা গুলো কি কি?

উত্তর: আমরা যখন শরীরের চাহিদার  অতিরিক্ত খাদ্য আহার করে থাকি তখন শরীরে প্রয়োজনের চাইতেই বেশী  ক্যালরি তৈরী হয়।  তা  নিঃশেষ করা যায় খেলার মাধ্যমে৷ যার ফলে শরীরে ওজন ও চর্বি বৃদ্ধি পায় না । উচ্চ রক্তচাপ স্ট্রোক ও হৃৎপিণ্ডের সমস্যার কারণ হতে পারে। নিয়মিত   খেলাধুলা  করলে হৃৎপিণ্ড ও রক্ত গহ্বর সুস্থ্য থাকে এবং উচ্চ রক্তচাপের কারণগুলো স্তিমিত থাকে। খেলাধুলা ও নিয়মিত ব্যায়াম করলে দেহের কোলেস্টেরল লেভেল ঠিক থাকে। এছাড়াও আরো অনেক উপকরী দিক বিদ্যমান।

খেলাধুলার জন্য প্রয়োজনীয় প্রাতিষ্ঠানিক ও অবকাঠামোগত সুবিধা:  শিক্ষা প্রতিষ্ঠান হলো সামাজিক প্রতিষ্ঠান। শিক্ষার্থীদের সুনাগরিক হিসাবে গড়ে তোলার দায়িত্ব অনেকাংশে শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের উপর বর্তায়। বর্তমানে শরীরিক শিক্ষাকে শিশুর সুপ্ত প্রতিভার বিকাশ ও সামাজিকীকরণের জন্য অতীব গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হিসাবে গণ্য করা হয়। তাই বাংলাদেশের মাধ্যমিক বিদ্যালয় ও মাদরাসাগুলোতে শরীরিক শিক্ষা বিষয়টির সঠিক বাস্তবায়ন প্রয়োজন।

শারীরিক শিক্ষার ব্যবহারিক দিক হচ্ছে খেলাধুলা। খেলাধুলার কার্যক্রম বাস্তবায়নের জন্য সুপরিকল্পিত প্রাতিষ্ঠানিক ব্যবস্থাপনা ও অবকাঠামোগত উন্নয়ন খুবই জরুরি। বাংলাদেশের মাধ্যমিক বিদ্যালয় ও মাদরাসার শিক্ষার্থীদের ক্রীড়ায় উৎসাহিত করার জন্য শীতকালীন ও গ্রীষ্মকালীন দুইটি ক্রীড়া অনুষ্ঠান ও বিনোদনমূলক প্রতিযোগিতার ব্যবস্থা রয়েছে। কিন্তু বেশিরভাগ বিদ্যালয় ও মাদরাসা বাৎসরিক একটি ক্রীড়া প্রতিযোগিতা আয়োজন করেই ক্রীড়া ক্ষেত্রে তাদের ক্রীড়া কার্যক্রম শেষ করে থাকে। মাধ্যমিক বিদ্যালয় ও মাদরাসায় অসংখ্য শিক্ষার্থীরা অধ্যয়ন করছে। তাদের মধ্যে অধিকাংশই সাঁতার জনে না। সাঁতার না জানার কারণে তারা বিভিন্ন সময়ে দুর্ঘটনায় পড়ে এমনকি মৃত্যুবরণ করে। যদি প্রতিটি বিদ্যালয় ও মাদরাসায় একটি পুকুর বা সুইমিংপুল থাকে তবে শিক্ষার্থীরা সাঁতার শিখে বিভিন্ন প্রতিযোগিতায় অংশ গ্রহণ করতে পারবে এবং অনাকাঙ্ক্ষিত দুর্ঘটনা থেকে বেঁচে যাবে।

মাদরাসা ও বিদ্যালয়গুলোতে একদিকে রয়েছে সঠিক খেলার মাঠের অভাব তেমনি রয়েছে মানসম্মত ক্রীড়া সামগ্রীর ঘাটতি। অবকাঠামোগত অসুবিধার কারণে খেলাধুলা করার সুযোগ থেকে বঞ্চিত হয়ে শিক্ষার্থীরা বেড়ে উঠলে ভবিষ্যতে জাতীয় স্বাস্থ্য হুমকির সম্মুখীন হবে। তাই অবকাঠামোগত অবস্থার উন্নয়ন ঘটাতে হবে। এজন্য স্থানীয়ভাবে স্টেডিয়াম, সুইমিংপুল নির্মান ও খেলার মাঠের উন্নয়ন করতে হবে। সেই সাথে মাদরাসা ও বিদ্যালয়গুলোতে মানসম্মত ক্রীড়া সামগ্রী সরবরাহের ব্যবস্থা করতে হবে।

প্রয়োজনীয় অবকাঠামোগত সুবিধা একজন শিক্ষার্থীকে সুনাগরিক হিসাবে গড়ে তুলতে সাহায্য করে-ব্যাখ্যা করো।

উত্তর: একজন শিক্ষার্থীকে সুনাগরিক হিসেবে গড়ে তোলার জন্য তার শারীরিক ও মানসিক বিকাশের প্রয়োজন। এর জন্য শিক্ষা প্রতিষ্ঠান গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে। এখানে শিক্ষা প্রদানের পাশাপাশি শারীরিক শিক্ষার বিভিন্ন কার্যক্রমে শিক্ষার্থীদের অংশ গ্রহণ করাতে হয়। এর জন্য প্রয়োজন সুপরিকল্পিত প্রাতিষ্ঠানিক ব্যবস্থাপনা ও অবকাঠামোগত উন্নয়ন। শিক্ষা প্রতিষ্ঠানগুলোতে প্রাতিষ্ঠানিক অবকাঠামোর পাশাপাশি স্টেডিয়াম ও সুইমিংপুল নির্মাণ, খেলার মাঠের উন্নয়ন এবং মানসম্মত ক্রীড়া সামগ্রী সরবরাহের ব্যবস্থা করতে হবে। তাহলে একজন শিক্ষার্থী শিক্ষা গ্রহনের পাশাপাশি খেলাধুলার মাধ্যমে সুনাগরিক হিসাবে গড়ে উঠবে।

 

ব্যাডমিন্টন

ইতিহাস: ১৮৭০ সালে ভারতের পুনায় প্রথম ব্যাডমিন্টন খেলা শুরু হয়েছিল। জনৈক ইংরেজ সৈনিক কর্তৃক এই খেলা ভারত থেকে ইংল্যান্ডে নিয়ে যাওয়ার আগে তেমন জনপ্রিয় ছিল না। বো-ফোটের ডিউক ব্যাডমিন্টন খেলায় খুব আগ্রহী ছিলেন এবং তার গ্রামের নাম ব্যাডমিন্টন থেকে এই নামের উৎপত্তি। এই খেলা প্রথম অনুষ্ঠিত হয়েছিল ইংল্যান্ডের গ্লুসেস্টার সায়ারে বো-ফোটের ডিউকের নিজ বাড়িতে। ১৯৩৪ সালে International Badminton Federation (I.B.F) ইংল্যান্ডের সিলটেন হামে প্রতিষ্ঠিত হয়।

ব্যাডমিন্টন খেলার নিয়ম , ব্যাডমিন্টন কোন দেশের জাতীয় খেলা ,  ব্যাডমিন্টন কোর্টের মাপ ,  ব্যাডমিন্টন খেলার ইতিহাস ,  ব্যাডমিন্টন খেলার উপকারিতা।

১৯৬৬ সালে এশিয়ান গেমসে ব্যাডমিন্টন খেলা অন্তর্ভুক্ত করা হয়। ১৯৭১ সালে গঠন করা হয় Bangladesh Badminton Federation (B.B.F)। বাংলাদেশে ব্যাডমিন্টন একটি জনপ্রিয় খেলা। গ্রামে-গঞ্জে সকল বয়সের ছেলেমেয়েরা এই খেলা খেলে থাকে।

ব্যাডমিন্টন খেলতে কি কি লাগে?

উত্তর: সাধারণ ব্যাডমিন্টন  সর্বনিম্ন ২টি রেকেট বা ব্যাড,  একটি নেট বা জাল এবং একটি কক বা ফুল হলেই খেলা যায় আর সবার আগে একটি কোট দাগ দেয়া মাঠ প্রয়োজন হয় ।  এতে করে ২ জন মিলে খেলতে পারবে। আবার আর মাত্র ২ টি রেকেট বা ব্যাড যোগ করলেই ৪ জন মিলেই খেলতে পারবে।  তার জন্য প্রয়োজন হবে - ৪টি রেকেট বা ব্যাড,  একটি নেট বা জাল এবং একটি কক বা ফুল। 

ব্যাডমিন্টন খেলা কোন কালে বা কখন বেশী হয়?

উত্তর : ব্যাডমিন্টন খেলা শীতকালে সকাল বেলা এবং রাত্রি বেলা বেশী খেলা হয়।  তবে এ খেলা সারা বছরই খেলা যায়।  কিন্তু ব্যাডমিন্টন খেললে শরীরে যে গরম টা তৈরী হয় তার জন্য গরম কালে এ খেলার তেমন প্রচলন দেখা যায় না।

বাস্কেটবল

ইতিহাস :  বাস্কেটবল খেলার প্রথম প্রচলন হয় ১৮৮১ সালে আমেরিকায়। এ খেলার জনক হলেন আমেরিকার স্প্রিং ফিল্ডে ওয়াই.এম.সি.এ কলেজের শারীরিক শিক্ষার পরিচালক ড. জেমস নেইসমিথ। ১৯৩৬ সালে বার্লিন অলিম্পিকে প্রথম প্রতিযোগিতামূলক খেলা হিসাবে বাস্কেটবল অন্তর্ভুক্ত হয়। আমেরিকার জাতীয় খেলা বাস্কেটবল। পৃথিবীর বহু দেশে এখন বাস্কেটবল জনপ্রিয় হয়ে উঠেছে। এই উপমহাদেশে প্রথম বাস্কেটবল খেলা শুরু হয় কলকাতার ওয়াই.এম.সি.এ কলেজে ড. জন হেনরি গ্রের উদ্যোগে। বাংলাদেশে খ্রিস্টান মিশনারি স্কুলগুলোতে প্রথম বাস্কেটবল খেলা শুরু হয়। বাংলাদেশ বাস্কেটবল ফেডারেশনের উদ্যোগে বর্তমানে দেশে আন্তঃক্লাব ও জাতীয় পর্যায়ে বাস্কেটবল প্রতিযোগিতা হয়ে থাকে। এ ছাড়া আন্তঃস্কুল, আন্তঃবিশ্ববিদ্যালয়, আন্তঃক্যাডেট কলেজ পর্যায়ে বাস্কেটবল প্রতিযোগিতা হয়।

বাস্কেটবল খেলতে কি কি লাগে?

উত্তর : বাস্কেটবল খেলার জন্য একটি কোট দাগ দেয়া মাঠ,  একটি নেট এবং একটি বাস্কেটবল প্রয়োজন হয়৷ এই সামান্য কিছু সরঞ্জাম দিয়েই এই খেলা চালিয়ে নেয়া যায়। 

বাস্কেটবল কত মিনিটের খেলা?

উত্তর: সাধারণত বাস্কেটবল  খেলার সময় ৪০ মিনিট। এ খেলা  ৪ভাগে খেলা হয়। প্রত্যেক ভাগে দশ মিনিট করে। প্রথম ও দ্বিতীয়  পর্বের এবং তৃতীয় ও চতুর্থ পর্বের মাঝে বিরতি দুই মিনিট দেয়া হয়।

 

হ্যান্ডবল

ইতিহাস : বিশেষজ্ঞদের মতে, হ্যান্ডবল খেলার উৎপত্তি হয়েছে জার্মানিতে ১৮৯০ সালে। ১৯৪৬ সালে ইন্টারন্যাশনাল হ্যান্ডবল ফেডারেশন (IHF) গঠিত হয়। ১৯৭২ সালে মিউনিখ অলিম্পিকে পুরুষ এবং ১৯৭৬ সালে মন্ট্রিল অলিম্পিকে মহিলা হ্যান্ডবল প্রথম অন্তর্ভুক্ত হয়। এশিয়ান হ্যান্ডবল ফেডারেশন (AHF) গঠিত হয় ১৯৭৪ সালে। হ্যান্ডবল খেলা ১৯৮২ সালের এশিয়ান গেমসে প্রথম অন্তর্ভুক্ত হয়। ১৯৮৫ সালে নাম পরিবর্তন করে বাংলাদেশ হ্যান্ডবল ফেডারেশন (BHF) গঠন করা হয়। বর্তমানে এই খেলা বাংলাদেশে খুবই জনপ্রিয় হয়ে উঠছে।

হ্যান্ডবল কিভাবে খেলে?

উত্তর : ফুটবলবেসবল এবং  আইস হকির অনেক নিয়মকানুনের সালে মিল পাওয়া যায় হ্যান্ডবলের। এ খেলা খেলতে প্রতি দলের পক্ষে ৭ জনে করে মোট ১৪ জন খেলোয়াড়  লাগে ।  একজন গোলরক্ষক আর বাকী ৬ জনের ৩/৪ জন রক্ষনভাগ সামলাবে আর ৩/২ জন আক্রমণ ভাগে খেলবে। এ খেলা খেলতে একটি উপযুক্ত ও প্রস্তুত মাঠ এবং একটি বলের আর দুইপাশে গোলবারের প্রয়োজন পরে।

হ্যান্ডবল খেলার উপকারিতা গুলো কি কি?

হ্যান্ডবল খেললে শরীরের অতিরিক্ত ক্যালরি চর্বি নিমিষ করতে সাহায্য করে । এটি একদিকে ফোকাস এবং নির্দেশিত লক্ষ্য রাখতে সাহায্য করে। টাইমিং এবং বুদ্ধিমত্তার প্রয়োজনে বলটি কোথায় গিয়ে শেষ হবে তা বের করার চেষ্টা করার সময় এটি বিশেষ করে হাত এবং চোখের সমন্বয় রাখে। এটি মানসিক ফোকাসে সাহায্য করে এবং আত্মবিশ্বাস উন্নয়ন করতে সহয়তা করে।

হকি

ইতিহাস : যতদূর জানা যায় খ্রিস্টপূর্ব দুই হাজার বছর আগে পারস্য দেশে হকি খেলার মতো এক প্রকার খেলার প্রচলন ছিল। ফ্রান্সের লোকেরা ‘হকেট’ নামে খেলা শুরু করেন। হকেট একটি ফরাসি শব্দ, যার অর্থ মেষপালকের লাঠি। আরও অনেক পরে ইংল্যান্ডের লোকেরা ফ্রান্সের কাছ থেকে এই খেলা শিখে হকে নাম দিয়ে খেলতে শুরু করে। ইংরেজি উচ্চারণ অনুযায়ী পরবর্তীতে এই খেলা হকি নামে সারা বিশ্বে ছড়িয়ে পড়ে। ১৯২৪ সালে আন্তর্জাতিক হকি ফেডারেশন গঠিত হয়। অলিম্পিকে পুরুষদের হকি ১৯০৮ সালে এবং মহিলাদের হকি ১৯৮০ সালে প্রথম অন্তর্ভুক্ত হয়। প্রথম বিশ্বকাপ হকি প্রতিযোগিতা শুরু হয় ১৯৭১ সালে। ১৯৭২ সালে বাংলাদেশ হকি ফেডারেশন গঠিত হয়।

 

হকি খেলার দেশ কয়টি?

উত্তর : ফিল্ড হকি খেলা বিশ্বজুড়ে ব্যাপকভাবে প্রচলিত । ফিল্ড হকি সাধারণত  একশোটিরও বেশি দেশেব্যাপী হয়।  এ খেলা বিশ্বের ২য় বৃহত্তম দলীয় খেলা।

হকি খেলার গুরুত্ব বর্ণনা করো।

উত্তর : কিছু হকি প্লেয়ারের (+) কিংবা (-) নম্বরে অনেক স্টক রাখে। যখন কেউ বিবেচনা করেন যে ম্যাচের প্রায় ৭০ থেকে ৭৫ % সমান শক্তিতে খেলা হয় এবং (+) কিংবা (-) (আরও বেশি) একটি জোড়-শক্তির পরিসংখ্যান - কাউকে এটি একটি উল্লেখযোগ্য পরিসংখ্যান হিসেবে  নিশ্চিত করতে হবে ।

সাঁতার

ইতিহাস– বর্তমানে যে ধরনের সাঁতার আমরা দেখতে পাই, সে সাঁতার প্রথমে ইংরেজরা শুরু করে। সুইমিং শব্দ ইংরেজি সুইমিন থেকে এসেছে। ১৮৩৭ সালে লন্ডনে প্রথম প্রতিযোগিতামূলক সাঁতার অনুষ্ঠিত হয়। অলিম্পিকে ১৮৯৬ সাল থেকে পুরুষদের ও ১৯১২ সাল থেকে মহিলাদের সাঁতার অন্তর্ভুক্ত হয়। ১৯০৮ সালে সাঁতারের আন্তর্জাতিক সংস্থা FINA (Federation International de Nation Amateur) গঠিত হয়। ১৯৭২ সালে বাংলাদেশ সুইমিং ফেডারেশন প্রতিষ্ঠিত হয়। সাঁতারের সাহায্যে দেহের সকল অঙ্গের ব্যায়াম হয় বলে একে পূর্ণাঙ্গ ব্যায়াম বলা হয়। স্বাস্থ্য, জীবন রক্ষা, ক্রীড়া ও আনন্দের জন্য সকলের সাঁতার শেখা উচিত।

সাঁতার শেখার সহায়ক জিনিসপত্র: সাঁতার শেখার জন্য সাধারণত নিম্নলিখিত জিনিসগুলো সহায়ক হিসাবে ব্যবহার করা হয়।

  • জীবন রক্ষার জন্য বয়া
  • মোটরগাড়ির চাকার টিউব
  • কলাগাছ
  • শুকনো নারিকেল
  • ভাসমান কাঠ বা বাঁশ।

সাঁতার অনুশীলনের সময় সতর্কতা:

  1. আবর্জনা ও বিপজ্জনক দ্রব্য মুক্ত করে সাঁতারের জায়গা নিরাপদ করা;
  2. অল্প পানি বা অগভীর জায়গা বেছে নেওয়া;
  3. কেউ ডুবে গেলে তুলে আনতে পারে, এমন অভিজ্ঞ একজন সাঁতারুকে কাছে রাখা;
  4. ভাসমান বস্তু কাছে রাখা;
  5. আহার করার দেড় ঘণ্টার মধ্যে বা খালি পেটে সাঁতার অনুশীলন না করা;
  6. সম্ভব হলে লাইফ বোট বা লাইফ জ্যাকেট কাছে রাখা;
  7. লম্বা, মোটা ও শক্ত দড়ি বা বাঁশ কাছে রাখা;
  8. পোশাক পরিবর্তনের কক্ষ ও বাথরুম ঠিক আছে কীনা পরীক্ষা করে নেওয়া;
  9. কফ বা থুথু বাইরে ফেলার ব্যবস্থা রাখা।
সাঁতার কাকে বলে? 

সাঁতার হলো পা ব্যবহার করে কিংবা হাত ব্যবহার করে পানির ওপরে শরীরকে পানির ওপর অংশে রাখা এবং সামনে দিকে বা পিছনের দিকে যাওয়া বা আসা  । লোকজন সাধারণত পুকুরে বা সুমিংপুলে বেশীরভাগ সাঁতার কাটে৷  তবে আরো কিছু যায়গায় সাঁতার কাটা যায়, যেমন- সমুদ্র,নদী,ঝর্না,খাল-বিল, ইত্যাদি  । মানুষজন সাধারণত গোসল করার সময় একটু মজা করেই সাতার কাটে।  তবে কেউ কউ স্বাস্থ্য ঠিক রাখার জন্যও সাতার কাটে৷ 

সাঁতার কাটার উপকারিতা কি কি?

সাঁতার কাটার ফলে আমার শারীরিক ব্যায়াম হয়। হাতের সাহায্যে সাতার কাটলে হাতের মাংস পেশিতে টান পরে এবং এর গঠনমূলক সংক্রান্ত কাজে পেশি সহয়তা পায়। এছাড়াও সাঁতার কাটার ফলে পা ও পেটের চর্বি কমতে শরীর সহয়তা পায়।

তো শিক্ষার্থী বন্ধুরা।  আমাদের আজকের পাঠ আলোচনা এই পর্যন্তই।  আশা করি তোমরা আজকের পাঠ আলোচনা থেকে অনেক কিছু শিখতে ও জানতো সক্ষম হয়েছো।  আবার দেখা হবে নতুন কোন পাঠ আলোচনায়।  সে পর্যন্ত সবাই ভালো ও সুস্থ থাকবে এই কামনাই করি।

আল্লাহ হাফেজ!

 

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Back to top button