কৃষিশিক্ষা

কৃষিজ উৎপাদন | কৃষি শিক্ষা | অষ্টম শ্রেণি

বাংলাদেশ কৃষি প্রধান দেশ।  এদেশের অর্থনিতির অনেকাংশই কৃষি নির্ভর।  তাই কৃষিকে নিয়েই আমাদের এতো উন্মাদনা।  তেমনি কৃষিজ উৎপাদনও অনেকটাই নজর কেড়ে নিয়েছে। প্রিয় শিক্ষার্থী বন্ধুরা।  কেমন আছো তোমরা? আশা করি প্রত্যেকেই অনেক ভালো আছো।  আবারো তোমাদের মাঝে চলে আসলাম নতুন একটি পাঠ আলোচনা নিয়ে। আজকে আমরা আলোচনা করবো তোমাদের কৃষি শিক্ষা বইয়ের গুরুত্বপূর্ণ একটি অধ্যায় “কৃষিজ উৎপাদন ” নিয়ে।  আশা করি তোমরা আজকের সম্পূর্ণ  পাঠ আলোচনা মনযোগ সহকারে পড়বে এবং কিছু শিখার ও জানান চেষ্টা করবে।  তো চলো শুরু করা যাক –

গম চাষ পদ্ধতি

দানা ফসল হলো শর্করার প্রধান উৎস।  যাকে একমাত্র উৎসও বলা যেতে পারে। দানা ফসল শর্করার প্রধান উৎস। এ কারণে পৃথিবীর সকল দেশে খাদ্যশস্য হিসেবে দানা ফসল চাষ করা হয়। বিশ্বের অনেক দেশে গম প্রধান খাদ্যশস্য। বাংলাদেশে ধানের পরে খাদ্যশস্য হিসেবে গমের অবস্থান দ্বিতীয়। বর্তমানে দেশের প্রায় সব জেলাতেই গমের চাষ করা হয়। তবে দিনাজপুর, রংপুর, ঠাকুরগাঁও, রাজশাহী, পাবনা, বগুড়া, জামালপুর, যশোর ও কুষ্টিয়া জেলায় বেশি চাষ হয়। বাংলাদেশে গমের অনেক উচ্চফলনশীল অনুমোদিত জাত রয়েছে। তন্মধ্যে কাঞ্চন, আকবর, অঘ্রাণী, প্রতিভা, সৌরভ, গৌরব, শতাব্দী, প্রদীপ, বিজয় ইত্যাদি জাত জনপ্রিয়।

বপন সময় : গম শীতকালীন ফসল। বাংলাদেশে শীতকাল স্বল্পস্থায়ী। এ কারণে গমের ভালো ফলন পেতে হলে সঠিক সময়ে গম বীজ বপন করা উচিত। আমাদের দেশে নভেম্বর মাসের প্রথম সপ্তাহ থেকে ডিসেম্বর মাসের দ্বিতীয় সপ্তাহ পর্যন্ত গম বপনের উপযুক্ত সময়। উঁচু ও মাঝারি দোঁআশ মাটিতে গম ভালো জন্মে। তবে লোনা মাটিতে গমের ফলন কম হয়। যেসব এলাকায় ধান কাটতে ও জমি তৈরি করতে দেরি হয় সেসব এলাকায় কাঞ্চন, আকবর, প্রতিভা, গৌরব চাষ করলে ভালো ফলন পাওয়া যায়।

বীজের হার: বীজ গজানোর হার শতকরা ৮৫ ভাগের বেশি হলে ভালো। এক হেক্টর জমিতে ১২০ কেজি গম বীজ বপন করতে হয়। বপনের আগে বীজ শোধন করে নিলে বীজবাহিত অনেক রোগ প্রতিরোধ করা যায়। প্রতি কেজি বীজ ৩ গ্রাম প্রভেক্স ২০০-এর সাথে ভালো করে মিশিয়ে বীজ শোধন করা যায়।

বপন পদ্ধতি: জমিতে জো এলে ৩-৪টি চাষ ও মই দিয়ে জমি ভালোভাবে তৈরি করতে হবে। জমিতে পর্যাপ্ত রস না থাকলে সেচ দেওয়ার পর জো এলে চাষ দিতে হবে। সারিতে বা ছিটিয়ে গম বীজ বপন করা যায়। ছিটিয়ে বপন করলে শেষ চাষের সময় সার ও বীজ ছিটিয়ে মই দিয়ে বীজ ঢেকে দিতে হয়। সারিতে বপনের ক্ষেত্রে জমি তৈরির পর ছোট হাত লাঙল দিয়ে ২০ সে.মি. দূরে দূরে সরু নালা তৈরি করতে হয়। ৪-৫ সে.মি. গভীর নালায় বীজ বপন করে মাটি দিয়ে ঢেকে দিতে হয়। বপনের ১৫ দিন পর পর্যন্ত পাখি তাড়ানোর ব্যবস্থা নিতে হবে।

সার প্রয়োগ পদ্ধতি: সেচসহ চাষের ক্ষেত্রে মোট ইউরিয়া সারের তিন ভাগের দুই ভাগ এবং সবটুকু টিএসপি, এমওপি ও জিপসাম সার শেষ চাষের সময় দিতে হবে। বাকি এক ভাগ ইউরিয়া সার প্রথম সেচের সময় উপরি প্রয়োগ করতে হবে। সেচ ছাড়া চাষের ক্ষেত্রে পুরো ইউরিয়া, টিএসপি, এমওপি এবং জিপসাম সার শেষ চাষের সময় জমিতে দিতে হবে।

পানি সেচ : মাটির বুনটের প্রকার অনুযায়ী গম চাষে ২-৩টি সেচের প্রয়োজন হয়। প্রথম সেচ চারার তিন পাতার সময়, দ্বিতীয় সেচ গমের শিষ বের হওয়ার সময় এবং তৃতীয় সেচ দানা গঠনের সময় দিতে হবে।

আগাছা দমন : সার, সেচের পানি ইত্যাদিতে আগাছা ভাগ বসায়। ইউরিয়া সার উপরি প্রয়োগের আগে নিড়ানি দিতে হবে। উপরি প্রয়োগের পর সেচ দিতে হবে। গম ক্ষেত আগাছামুক্ত রাখার জন্য কমপক্ষে দুইবার নিড়ানি দিতে হবে।

 ফসল সংগ্রহ : গম পাকলে গাছ হলদে হয়ে মরে যায়। তালুতে শিষ নিয়ে ঘষলে দানা বের হয়ে আসবে। এ অবস্থায় গম কেটে ভালোভাবে শুকিয়ে মাড়াই যন্ত্র দিয়ে মাড়াই করতে হবে।

গম চাষের সবচেয়ে ভালো পদ্ধতি কোনটি

 উত্তর : গম চাষ করার অনেক পদ্ধতিই রয়েছে৷ যার মধ্যে অন্যতম ও সবচেয়ে ভালো পদ্ধতির মধ্যে একটি হলো ড্রিলিং৷   ড্রিলিং হলো এমন এক পদ্ধতি যার মাধ্যমে গম আবাদ করলে অধিক ফলন পাওয়া যায়৷ এবং খরচ খরচাও কম হয়।  এই পদ্ধতিতে বীজ ড্রিল বা ফার্টি-সিড ড্রিল দিয়ে বীজ রুপন করা হয়। এরা হয় বলদ- বা ট্রাক্টর চালিত। একটি ড্রিল ব্যবহার করে গভীরতায় বীজ ফেলে দেওয়া হয়, এর জন্য একই অঙ্কুরোদগম হয় এবং একটি নিয়মিত স্ট্যান্ড হয়। বীজ ড্রিল, ফার্টি-সিড ড্রিল নামেও পরিচিত, বাজারে যা সল্পমূল্যেই  পাওয়া যায়।

গম চাষের উপযুক্ত তাপমাত্রা কত?

উত্তর: গম উৎপাদনের জন্য সর্বনিম্ন তাপমাত্রা ৩-৪. ৫ ° সেন্টিগ্রেড, মুটামুটি তাপমাত্রা ২৫-° সেন্টিগ্রেড বং সর্বোচ্চ তাপমাত্রা ৩০-৩২° সেন্টিগ্রেড থাকা আবশ্যক। যা এদেশে শীতকালে বিদ্যমান থাকে। 



গমের জীবন কাল কত দিন?

উত্তর: গম গাছের জীবন কাল কম ও তাপ সহনশীল । গম সর্বোচ্চ ৫৭-৬২ দিনে বেচে থাকে। তার পর  শীষ বের হয়ে যায় ।


মানুষ কখন গম খাওয়া শুরু করে?

উত্তর: প্রায়? বিশ হাজার  বছর পূব থেকেই  মানুষ নিয়মিতভাবে শস্য সংরক্ষণ এবং খাওয়া শুরু না করলেও কিছু কিছু অঞ্চলে অনেকসময় গমের আবাদ ছিল। তবে তারা এর সঠিক ব্যবহার করতে জানতেন না। এবং প্রায় 10,000 বছর আগে পর্যন্ত গমের গৃহপালন আন্তরিকভাবে শুরু হয়নি। যেহেতু গম এবং রাই মানুষের খাদ্যের প্রধান হয়ে উঠেছে, তবে, আমাদের সিলিয়াক রোগের অনেকটাউ উচ্চ ফ্রিকোয়েন্সি রয়েছে।


 

বিনা চাষে গমের আবাদ

অনেক জমিতে রোপা আমন ধান কাটতে দেরি হয়। ফলে জমি চাষ-মই দিয়ে বীজ বোনার সময় থাকে না। এক্ষেত্রে বিনা চাষে গম আবাদ করা যায়। ধান কাটার পর যদি জমিতে পর্যাপ্ত রস থাকে অর্থাৎ হাঁটলে পায়ের দাগ পড়ে তবে সরাসরি বীজ বুনতে হয়। আবার জমিতে জো না থাকলে হালকা সেচ দিয়ে জো এলে বীজ বুনতে হয়। প্রথমে গম বীজ গোবর গোলানো পানিতে কয়েক ঘণ্টা ডুবিয়ে রাখতে হবে। পরে পানি থেকে উঠিয়ে শুকিয়ে নিতে হবে। এতে বীজের গায়ে গোবরের প্রলেপ লেগে যায়। এ বীজ বপন করলে পাখির উপদ্রব কম হয় এবং বীজ রোদে শুকিয়ে যায় না।

এভাবে গম চাষ করলে দুইভাবে সার দেওয়া যায়-

১) বীজ বোনার সময় সব সার ছিটানো।

২) বীজ বপনের ১৭-২০ দিনের মধ্যে প্রথম হালকা সেচ দেওয়ার সময় সব সার ছিটানো। বীজ বপনের ২৫-৩০ দিনের মধ্যে আগাছা দমন করা প্রয়োজন হয়।

বিনা চাষে কোন ফসল চাষ করা যায়?

উত্তর: ফসলের মধ্যে কিছু কিছু ফসল রয়েছে যেগুলো জমিতে চাষ দেয়া ছাড়া জমিতে তার আবাদ করা যায়। যার মধ্যে অন্যতম হলো গম। গম চাষ  করতে যেমন জমি চাষ করা লাগে না তেমনি এটা অন্য ফসলগুলোর তুলনায় লাভজনক ও বটে। 

গম কোন ঋতুর ফসল?

উত্তর:  গম সাধারণত শীত কালীন ফসল।  গমের বীজ নবেম্বর ও ডিসেম্বর মাসের মধ্যে বপন করা লাগে এতে করে ভালে ফলন পাওয়া যায়।

স্বল্প চাষে গমের আবাদ

দেশি লাঙল দিয়ে দুইটি চাষ দিয়ে গম বীজ বপন করা যায়। ধান কাটার পর জমিতে জো আসার সাথে সাথে চাষ করতে হবে। আবার জমিতে পর্যাপ্ত রস না থাকলে সেচ দেয়ার পর জো আসলে চাষ দিতে হবে। প্রথমে একটি চাষ ও মই দিতে হবে। দ্বিতীয় চাষ দেওয়ার পর সব সার ও বীজ ছিটিয়ে দিয়ে মই দিয়ে বীজ ঢেকে দিতে হবে। বপনের ১৭-২১ দিনের মধ্যে হালকাভাবে প্রথম সেচ দিতে হবে। প্রথম সেচের সময় ইউরিয়া সার উপরি প্রয়োগ করতে হবে। বপনের ২৫-৩০ দিনের মধ্যে আগাছা দমন করলে ভালো ফলন পাওয়া যাবে।

স্বল্প চাষে  আবাদ করা যায় এমন ফসল আছে?

উত্তর : গম যেমন বিনা চাষে আবাদ করা যায় ঠিক তেমনি স্বল্প চাষের গম আবাদ করা যায়।  এতে করে বিনা চাষের থেকে কিছুটা ভালো ফলন পাওয়া যায়।

গম বপনের সবচেয়ে ভালো পদ্ধতি কোনটি?

উত্তর : দেশি লাঙল দিয়ে দুইটি চাষ দিয়ে গম বীজ বপন করা যায়। ধান কাটার পর জমিতে জো আসার সাথে সাথে চাষ করতে হবে।

তো শিক্ষার্থী বন্ধুরা।  আমাদের আজকের এই পাঠ আলোচনা এই পর্যন্তই।  তোমরা যেন খুব সহজেই সম্পূর্ণ পাঠ আলোচনা বুঝতে পারো সেভাবেই আমার আলোচনা করার সর্বোচ্চ চেষ্টা করে থাকি।  যদি তোমাদের বুজতে অসুবিধা হয় অবশ্যই তা কমেন্ট করে জানাবে।  আশা করি তোমরা ভালো ভাবে বুজতে পারো। দেখা হবে আবার নতুন কোন পাঠ আলোচনায়।  সে পর্যন্ত সবাই ভালো ও সুস্থ থাকবে এই কামনাই করি।

আল্লাহ হাফেজ! 

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Back to top button